০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদবির আড়ালে যখন নাগরিকত্বের বিচার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তারকাদের চোখধাঁধানো সাজ হিমবাহ বাঁচাতে এবার ভেড়ার উল! ফ্লাইট বদলের ব্যস্ততায় আর না খেয়ে থাকতে হবে না যাত্রীদের জন্য ইউনাইটেডের নতুন সুবিধা মিয়ামি বিমানবন্দরে কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫; জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয় চীনের যুদ্ধক্ষেত্রে আসছে মানবসদৃশ রোবট, বদলে যেতে পারে ভবিষ্যতের যুদ্ধ পোর্টসমাউথে অভিবাসীবাহী নৌকা ঘিরে পুলিশের সঙ্গে শত শত বিক্ষোভকারীর সংঘর্ষ মেয়ের জন্য বড় অভিনয়ের সুযোগ ফিরিয়ে দিলেন মিশেল কিগান উপসাগরে নতুন ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ ঘোষণা করবে ইরান, হরমুজে নতুন নৌপথের মানচিত্রও আসছে লাহোরে নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা বেড়েছে, কয়েক দিনে ধর্ষণের অভিযোগ ৬

ছয় মাস টানা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয়, মে মাসে এলো ৩৪২ কোটি ডলার

দেশে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত মে মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। এর ফলে টানা ষষ্ঠ মাসের মতো মাসিক প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মে মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগের বছরের মে মাসে দেশে এসেছিল প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক উত্থান

চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে—এই তিন মাসেই প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। মার্চে প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলার এবং এপ্রিলে ৩১২ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে দেশে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

ফলে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস দেশে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন সামান্য বৃদ্ধি |  বাণিজ্য | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

কেন বাড়ছে প্রবাসী আয়

ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের খরচ মেটাতে প্রবাসীরা সাধারণত বেশি অর্থ পাঠান। চলতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ঘিরে সেই প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার কিছুটা অবমূল্যায়নের কারণে প্রবাসীরা তুলনামূলক ভালো বিনিময় হার পেয়েছেন। এর প্রভাবও প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে বড় প্রবৃদ্ধি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে মে পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৩ হাজার ২৭৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৭৫১ কোটি ডলার।

১৯ দিনে এলো ৩০ হাজার ২৯৩ কোটি টাকার প্রবাসী আয়

এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৯ শতাংশেরও বেশি, যা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রেমিট্যান্স আহরণে এগিয়ে বেসরকারি ব্যাংক

মে মাসে দেশে আসা প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে। এই খাতের ব্যাংকগুলো প্রায় ২ হাজার ৩৮৭ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পরিচালনা করেছে।

ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় সংগ্রহ করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। মে মাসে ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৫৯ কোটি ২১ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪১ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় মেটানো ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পদবির আড়ালে যখন নাগরিকত্বের বিচার

ছয় মাস টানা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয়, মে মাসে এলো ৩৪২ কোটি ডলার

১২:০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

দেশে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত মে মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। এর ফলে টানা ষষ্ঠ মাসের মতো মাসিক প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মে মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগের বছরের মে মাসে দেশে এসেছিল প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক উত্থান

চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে—এই তিন মাসেই প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। মার্চে প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলার এবং এপ্রিলে ৩১২ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে দেশে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

ফলে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস দেশে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন সামান্য বৃদ্ধি |  বাণিজ্য | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

কেন বাড়ছে প্রবাসী আয়

ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের খরচ মেটাতে প্রবাসীরা সাধারণত বেশি অর্থ পাঠান। চলতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ঘিরে সেই প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার কিছুটা অবমূল্যায়নের কারণে প্রবাসীরা তুলনামূলক ভালো বিনিময় হার পেয়েছেন। এর প্রভাবও প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে বড় প্রবৃদ্ধি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে মে পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৩ হাজার ২৭৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৭৫১ কোটি ডলার।

১৯ দিনে এলো ৩০ হাজার ২৯৩ কোটি টাকার প্রবাসী আয়

এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৯ শতাংশেরও বেশি, যা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রেমিট্যান্স আহরণে এগিয়ে বেসরকারি ব্যাংক

মে মাসে দেশে আসা প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে। এই খাতের ব্যাংকগুলো প্রায় ২ হাজার ৩৮৭ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পরিচালনা করেছে।

ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় সংগ্রহ করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। মে মাসে ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৫৯ কোটি ২১ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪১ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় মেটানো ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।