০১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

জাবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা: এক বছরেও পিবিআই পায়নি মামলা নথি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমেদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় দীর্ঘসূত্রি তদন্তে পরিবারে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও পিবিআই এখনও প্রয়োজনীয় মামলা নথি পাননি।

মামলার দীর্ঘসূত্রি তদন্তে অসন্তোষ

শামীমের বড় ভাই শাহীন আলম জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তার দায়ের করা মামলা দুটি একত্র করে তদন্ত করার কথা ছিল। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও পিবিআই এখনও নথি পাননি। তিনি বলেন, মামলার আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। তিনি নতুন সরকারের কাছে দ্রুত বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শামীম আহমেদকে একদল শিক্ষার্থী পিটিয়ে হত্যা করে। শামীম ছিলেন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।

ঘটনার দুই দিন পর, ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশুলিয়া থানায় ৮ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে ২০-২৫ অজ্ঞাতকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। ২৩ সেপ্টেম্বর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রায়হান, ২৯ সেপ্টেম্বর ফার্মেসি বিভাগের সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের আতিকুজ্জামান গ্রেপ্তার হন। পরে তারা জামিন পান।

নতুন মামলা দায়ের ও পিবিআইতে তদন্তের নির্দেশ

প্রশাসনের মামলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শাহীন আলম ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রক্টরের নামসহ ১৫-২০ অজ্ঞাতকে আসামি করা হয়।

বাদী জানান, তার জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত আশুলিয়া থানার ওসিকে দুই মামলা একত্রিত করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তবে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও পিবিআইয়ের কাছে নথি পৌঁছায়নি। ফলে তদন্ত কার্যক্রম এখন শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

জাবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা: এক বছরেও নথি পায়নি পিবিআই

আসামিরা ক্যাম্পাসে অবাধে ঘুরছে

শাহীন আলম জানিয়েছেন, মামলার একাধিক আসামি এখনও ক্যাম্পাসে অবাধে ঘোরাফেরা করছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কোনো সহযোগিতা নেই। তিনি নতুন সরকারের কাছে প্রকৃত দোষীদের সুষ্ঠু বিচারের জন্য দাবি জানিয়েছেন।

পিবিআইয়ের বক্তব্য

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই আনিসুর রহমান বলেন, বর্তমানে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মামলা নথি তাদের কাছে রয়েছে। ভুক্তভোগীর মামলা নথি এখনও পাইনি। প্রমাণ যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাস্তি ও আসামিদের বর্তমান অবস্থা

শামীম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ মোহাম্মদ রাজন মিয়া, সোহাগ মিয়া, হামিদুল্লাহ সালমান, আহসান লাবিব, আতিকুজ্জামান আতিক, মাহমুদুল হাসান রায়হান ও সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া সাবেক দুই শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ ও আবু সাঈদ ভূঁইয়ার সনদও ৬ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

তবে আসামি আহসান লাবিব, হামিদুল্লাহ সালমান ও মোহাম্মদ রাজন মিয়া গত বছরের ২১ মার্চের পর থেকে ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে। আহসান লাবিব জাকসু নির্বাচনে সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন, আর হামিদুল্লাহ সালমান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিবার ও সমাজের দাবি

শাহীন আলম জানান, তারা শুধু সুষ্ঠু বিচার চায়। রাজনৈতিক প্রভাব না থাকা সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

জাবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা: এক বছরেও পিবিআই পায়নি মামলা নথি

০৫:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমেদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় দীর্ঘসূত্রি তদন্তে পরিবারে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও পিবিআই এখনও প্রয়োজনীয় মামলা নথি পাননি।

মামলার দীর্ঘসূত্রি তদন্তে অসন্তোষ

শামীমের বড় ভাই শাহীন আলম জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তার দায়ের করা মামলা দুটি একত্র করে তদন্ত করার কথা ছিল। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও পিবিআই এখনও নথি পাননি। তিনি বলেন, মামলার আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। তিনি নতুন সরকারের কাছে দ্রুত বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শামীম আহমেদকে একদল শিক্ষার্থী পিটিয়ে হত্যা করে। শামীম ছিলেন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।

ঘটনার দুই দিন পর, ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশুলিয়া থানায় ৮ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে ২০-২৫ অজ্ঞাতকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। ২৩ সেপ্টেম্বর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রায়হান, ২৯ সেপ্টেম্বর ফার্মেসি বিভাগের সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের আতিকুজ্জামান গ্রেপ্তার হন। পরে তারা জামিন পান।

নতুন মামলা দায়ের ও পিবিআইতে তদন্তের নির্দেশ

প্রশাসনের মামলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শাহীন আলম ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রক্টরের নামসহ ১৫-২০ অজ্ঞাতকে আসামি করা হয়।

বাদী জানান, তার জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত আশুলিয়া থানার ওসিকে দুই মামলা একত্রিত করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তবে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও পিবিআইয়ের কাছে নথি পৌঁছায়নি। ফলে তদন্ত কার্যক্রম এখন শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

জাবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা: এক বছরেও নথি পায়নি পিবিআই

আসামিরা ক্যাম্পাসে অবাধে ঘুরছে

শাহীন আলম জানিয়েছেন, মামলার একাধিক আসামি এখনও ক্যাম্পাসে অবাধে ঘোরাফেরা করছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কোনো সহযোগিতা নেই। তিনি নতুন সরকারের কাছে প্রকৃত দোষীদের সুষ্ঠু বিচারের জন্য দাবি জানিয়েছেন।

পিবিআইয়ের বক্তব্য

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই আনিসুর রহমান বলেন, বর্তমানে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মামলা নথি তাদের কাছে রয়েছে। ভুক্তভোগীর মামলা নথি এখনও পাইনি। প্রমাণ যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাস্তি ও আসামিদের বর্তমান অবস্থা

শামীম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ মোহাম্মদ রাজন মিয়া, সোহাগ মিয়া, হামিদুল্লাহ সালমান, আহসান লাবিব, আতিকুজ্জামান আতিক, মাহমুদুল হাসান রায়হান ও সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া সাবেক দুই শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ ও আবু সাঈদ ভূঁইয়ার সনদও ৬ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

তবে আসামি আহসান লাবিব, হামিদুল্লাহ সালমান ও মোহাম্মদ রাজন মিয়া গত বছরের ২১ মার্চের পর থেকে ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে। আহসান লাবিব জাকসু নির্বাচনে সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন, আর হামিদুল্লাহ সালমান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিবার ও সমাজের দাবি

শাহীন আলম জানান, তারা শুধু সুষ্ঠু বিচার চায়। রাজনৈতিক প্রভাব না থাকা সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।