১১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে পাশে থাকতে পারেননি, জামিন আবেদন প্রত্যাহার চান দীপু মনি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির হয়ে নিজের জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জামিন শুনানির আগে ট্রাইব্যুনালের কাছে তিনি বলেন, দুই বছর ধরে কারাগারে থাকার পর এখন আর জামিন নিয়ে বাসায় ফেরার প্রয়োজন অনুভব করছেন না।

দীপু মনি বলেন, গত এপ্রিল মাসে তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে এখন তিনি আর জামিন চান না, বরং সেই আবেদন প্রত্যাহার করতে চান। এ সময় তিনি তার স্বামী তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে জানান, ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে তার পাশে থাকতে পারেননি।

স্বামীর অসুস্থতার কথা তুলে ধরলেন দীপু মনি

ট্রাইব্যুনালে দীপু মনি জানান, তার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। তার বাকশক্তিও ছিল না। কথা বললে চোখের পলক ফেলে তিনি উত্তর দিতেন। দীপু মনি বলেন, পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি স্বামীর যত্ন নিয়েছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কারাগারে থাকার সময়ে তার স্বামীকে প্রায় দুই বছর অজ্ঞাত স্থানে আশ্রিত অবস্থায় থাকতে হয়েছে। এতে তিনি স্বামীর দেখাশোনা করতে পারেননি। এমন পরিস্থিতি তার স্বামী মেনে নিতে পারেননি বলেও ট্রাইব্যুনালে জানান তিনি।

স্বামীর কাছে যেতে চেয়েই জামিন আবেদন

দীপু মনি বলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রায় চার মাস আগে তার স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন স্বামীর কাছে থাকার জন্যই তার আইনজীবী গত ২৬ এপ্রিল জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু সেই সুযোগ আর পাননি তিনি।

গত ১৮ আগস্ট রাতে তৌফিক নেওয়াজ মারা যান। ফলে এখন জামিন পেলেও বাসায় গিয়ে কার কাছে ফিরবেন—এমন প্রশ্ন তুলে দীপু মনি বলেন, তার আর বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই। সন্তানরা অবশ্য তার জামিন চান বলেও জানান তিনি।

ট্রাইব্যুনালের বক্তব্য

জামিন শুনানির শুরুতে কথা বলার অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে বক্তব্য দেন দীপু মনি। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তার বক্তব্য শোনেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

দীপু মনির বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল জানায়, তার পরিস্থিতিতে তারা খুবই ব্যথিত এবং জামিন আবেদনের যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে মামলার ক্ষেত্রে তাদের আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।

আবেদন প্রত্যাহারের বিষয়ে শুনানি ১৭ সেপ্টেম্বর

দীপু মনি জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করতে চাইলেও তার ডিফেন্স আইনজীবীর সম্মতিতে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি আপাতত পেন্ডিং রাখে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে পাশে থাকতে পারেননি, জামিন আবেদন প্রত্যাহার চান দীপু মনি

০৭:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির হয়ে নিজের জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জামিন শুনানির আগে ট্রাইব্যুনালের কাছে তিনি বলেন, দুই বছর ধরে কারাগারে থাকার পর এখন আর জামিন নিয়ে বাসায় ফেরার প্রয়োজন অনুভব করছেন না।

দীপু মনি বলেন, গত এপ্রিল মাসে তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে এখন তিনি আর জামিন চান না, বরং সেই আবেদন প্রত্যাহার করতে চান। এ সময় তিনি তার স্বামী তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে জানান, ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে তার পাশে থাকতে পারেননি।

স্বামীর অসুস্থতার কথা তুলে ধরলেন দীপু মনি

ট্রাইব্যুনালে দীপু মনি জানান, তার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। তার বাকশক্তিও ছিল না। কথা বললে চোখের পলক ফেলে তিনি উত্তর দিতেন। দীপু মনি বলেন, পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি স্বামীর যত্ন নিয়েছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কারাগারে থাকার সময়ে তার স্বামীকে প্রায় দুই বছর অজ্ঞাত স্থানে আশ্রিত অবস্থায় থাকতে হয়েছে। এতে তিনি স্বামীর দেখাশোনা করতে পারেননি। এমন পরিস্থিতি তার স্বামী মেনে নিতে পারেননি বলেও ট্রাইব্যুনালে জানান তিনি।

স্বামীর কাছে যেতে চেয়েই জামিন আবেদন

দীপু মনি বলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রায় চার মাস আগে তার স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন স্বামীর কাছে থাকার জন্যই তার আইনজীবী গত ২৬ এপ্রিল জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু সেই সুযোগ আর পাননি তিনি।

গত ১৮ আগস্ট রাতে তৌফিক নেওয়াজ মারা যান। ফলে এখন জামিন পেলেও বাসায় গিয়ে কার কাছে ফিরবেন—এমন প্রশ্ন তুলে দীপু মনি বলেন, তার আর বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই। সন্তানরা অবশ্য তার জামিন চান বলেও জানান তিনি।

ট্রাইব্যুনালের বক্তব্য

জামিন শুনানির শুরুতে কথা বলার অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে বক্তব্য দেন দীপু মনি। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তার বক্তব্য শোনেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

দীপু মনির বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল জানায়, তার পরিস্থিতিতে তারা খুবই ব্যথিত এবং জামিন আবেদনের যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে মামলার ক্ষেত্রে তাদের আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।

আবেদন প্রত্যাহারের বিষয়ে শুনানি ১৭ সেপ্টেম্বর

দীপু মনি জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করতে চাইলেও তার ডিফেন্স আইনজীবীর সম্মতিতে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি আপাতত পেন্ডিং রাখে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।