০৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি ভেনিসে আবারও আলোচনায় ব্রুকলিন-নিকোলা, পুরোনো বিরতির পর ফিরলেন আলোয় ওজন কমানোর ওষুধ সেবনে যে ১০ খাবার রাখতে পারেন বায়ুদূষণ আর বিলম্ব নয়, পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্যও পরিচ্ছন্ন বাতাস জরুরি তারকাদের মুখে নানা কথা, আলোচনায় আসিফ রাজা মীর থেকে রামশা খান উর্বা হোসাইনের অভিনয়ে মুগ্ধ পাকিস্তানের তারকারা পাকিস্তানে বৃষ্টির পূর্বাভাস নিয়ে প্রশ্ন, সময়মতো সতর্কতা না পেয়ে ঝরে যাচ্ছে প্রাণ জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে ডানপন্থীদের উত্থান, বড় ধাক্কা মের্জের জন্য পদবির আড়ালে যখন নাগরিকত্বের বিচার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তারকাদের চোখধাঁধানো সাজ

টাইফুন কাজিকির আঘাতে ভিয়েতনামের উপকূলীয় প্রদেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত

ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞ
শক্তিশালী টাইফুন কাজিকি ভিয়েতনামের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল তাণ্ডব চালিয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টিতে গাছ উপড়ে গেছে এবং বহু বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে।

ব্যাপক সরিয়ে নেওয়া ও অবরুদ্ধ জনজীবন
ঝড়ের আঘাতের আগেই হা টিন প্রদেশে সোমবার বিকেলে প্রায় ৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্কুল ও বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়, এছাড়া কিছু ট্রেন সার্ভিস স্থগিত করা হয়।

থান হোয়া, কোয়াং ত্রি, হুয়ে ও দা নাং প্রদেশের বাসিন্দাদেরও আগে থেকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

মানুষের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
নগে আন প্রদেশের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তিনি দুই মিটার উঁচু ঢেউ দেখেছেন এবং আশেপাশের রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। তার ভাষায়, “এটা ছিল ভয়ঙ্কর।”

ভিন শহরের ৬৬ বছর বয়সী লে মানহ তুং বলেন, “এত বড় ঘূর্ণিঝড় আমাদের শহরে আসছে—এমন কথা আগে কখনও শুনিনি। কিছুটা ভয় লাগছে, তবে এটাকে মেনে নিতে হবে, কারণ প্রকৃতিকে থামানো সম্ভব নয়।”

ঝুঁকি ও সতর্কতা
ভিয়েতনামের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, টাইফুন কাজিকি আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি করতে পারে। ছয়টি প্রদেশের ৪০০টির বেশি এলাকাকে সতর্ক রাখা হয়েছে। ঝড়ে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ১৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।

এর আগে ঝড়টি চীনের দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে চলে যায় এবং সেখানে রাস্তা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ক্ষতি করে।

গত বছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি
মাত্র এক বছর আগে টাইফুন ইয়াগি ভিয়েতনামে আঘাত হেনেছিল। সেটি ছিল গত ৩০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড়, যাতে শুধু ভিয়েতনামেই ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

ঝড়টি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লাওস, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারেও তাণ্ডব চালায়। সরকারি হিসাবে, ওই সময় অঞ্চলজুড়ে ৫০০ জনের বেশি নিহত হয় এবং প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে টাইফুন বা ঘূর্ণিঝড়গুলো আরও বেশি শক্তিশালী হতে পারে। বাতাসের গতি বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে কোনো নির্দিষ্ট ঝড়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা জটিল বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি

টাইফুন কাজিকির আঘাতে ভিয়েতনামের উপকূলীয় প্রদেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত

০২:২২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞ
শক্তিশালী টাইফুন কাজিকি ভিয়েতনামের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল তাণ্ডব চালিয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টিতে গাছ উপড়ে গেছে এবং বহু বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে।

ব্যাপক সরিয়ে নেওয়া ও অবরুদ্ধ জনজীবন
ঝড়ের আঘাতের আগেই হা টিন প্রদেশে সোমবার বিকেলে প্রায় ৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্কুল ও বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়, এছাড়া কিছু ট্রেন সার্ভিস স্থগিত করা হয়।

থান হোয়া, কোয়াং ত্রি, হুয়ে ও দা নাং প্রদেশের বাসিন্দাদেরও আগে থেকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

মানুষের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
নগে আন প্রদেশের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তিনি দুই মিটার উঁচু ঢেউ দেখেছেন এবং আশেপাশের রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। তার ভাষায়, “এটা ছিল ভয়ঙ্কর।”

ভিন শহরের ৬৬ বছর বয়সী লে মানহ তুং বলেন, “এত বড় ঘূর্ণিঝড় আমাদের শহরে আসছে—এমন কথা আগে কখনও শুনিনি। কিছুটা ভয় লাগছে, তবে এটাকে মেনে নিতে হবে, কারণ প্রকৃতিকে থামানো সম্ভব নয়।”

ঝুঁকি ও সতর্কতা
ভিয়েতনামের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, টাইফুন কাজিকি আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি করতে পারে। ছয়টি প্রদেশের ৪০০টির বেশি এলাকাকে সতর্ক রাখা হয়েছে। ঝড়ে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ১৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।

এর আগে ঝড়টি চীনের দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে চলে যায় এবং সেখানে রাস্তা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ক্ষতি করে।

গত বছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি
মাত্র এক বছর আগে টাইফুন ইয়াগি ভিয়েতনামে আঘাত হেনেছিল। সেটি ছিল গত ৩০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড়, যাতে শুধু ভিয়েতনামেই ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

ঝড়টি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লাওস, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারেও তাণ্ডব চালায়। সরকারি হিসাবে, ওই সময় অঞ্চলজুড়ে ৫০০ জনের বেশি নিহত হয় এবং প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে টাইফুন বা ঘূর্ণিঝড়গুলো আরও বেশি শক্তিশালী হতে পারে। বাতাসের গতি বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে কোনো নির্দিষ্ট ঝড়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা জটিল বিষয়।