০২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ডাকাত: পুরনো প্রেম, নতুন আঙ্গিক—অ্যাকশন আর আবেগে ভরা এক ভিন্ন স্বাদের সিনেমা

পুরনো দিনের প্রেমের আবেগকে আধুনিক গল্প বলার ভঙ্গিতে তুলে ধরেছে ‘ডাকাত: এ লাভ স্টোরি’। তেলুগু-হিন্দি দ্বিভাষিক এই সিনেমাটি মূলত একটি গভীর প্রেমের গল্প, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে প্রতারণা, দ্বন্দ্ব আর সমাজবাস্তবতার নানা স্তর। পরিচালক শানেইল দেও এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আদিভি শেষ ও মৃণাল ঠাকুর।

গল্পের ভেতরের গল্প
এই ছবির মূল আকর্ষণ এর গল্প বলার ভঙ্গি। সরলরেখার বদলে সময়ের ভেতর এদিক-ওদিক যাতায়াত করে গল্প এগিয়েছে, যা দর্শককে শুরু থেকেই ধরে রাখে। ২০২১ সালের প্রেক্ষাপটে শুরু হলেও গল্প ফিরে যায় ২০০৫ সালে। এই যাতায়াতের মধ্যেই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় চরিত্রগুলোর অতীত, সম্পর্ক এবং লুকানো সত্য।

প্রেম, দ্বন্দ্ব আর দ্বৈততা
হরি দাস চরিত্রটি একদিকে শক্ত, অন্যদিকে ভীষণ সংবেদনশীল। তার হাতে থাকা ‘জে’ ট্যাটু তার প্রেমিকার প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতীক। জনসমক্ষে সে নির্ভীক, কিন্তু একান্তে ভেঙে পড়ে। এই দ্বৈততা চরিত্রটিকে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। অন্যদিকে সরস্বতীর সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনও প্রেম, কখনও দ্বন্দ্বে ভরা—যা গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

Dacoit' trailer: Adivi Sesh, Mrunal Thakur star in a fiery tale of love and  revenge - The Hindu

হেইস্ট আর বাস্তবতার ছোঁয়া
গল্পের এক পর্যায়ে হরি ও সরস্বতী একসঙ্গে কিছু ডাকাতির পরিকল্পনায় জড়িয়ে পড়ে। তবে এই ডাকাতিগুলো নিখুঁত নয়—বরং অপটুতা, ভুল আর সময়ের সঙ্গে দৌড়ের মধ্যেই এগোয়। এই বাস্তবধর্মী উপস্থাপনই ছবিকে আলাদা করে তোলে। পাশাপাশি মহামারির সময়কার চিকিৎসা সংকট, ওষুধের কালোবাজারি এবং হাসপাতালের খরচের চাপ—এসব বিষয় গল্পে যুক্ত হয়ে আবেগকে আরও গভীর করেছে।

সামাজিক বার্তা ও প্রেক্ষাপট
ছবির ভেতরে সূক্ষ্মভাবে উঠে এসেছে সামাজিক বিভাজন, বিশেষ করে জাতপাতের প্রভাব। চরিত্রগুলোর নাম ও পরিচয়ের মধ্য দিয়েও এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। যখন প্রশ্ন ওঠে—কেন কেউ শাস্তি পায়, কেউ পায় না—তখন ছবিটি সহজ উত্তর দেয় না, বরং দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে।

Dacoit Story

শক্তি ও দুর্বলতা
ছবির শুরু ও মাঝামাঝি অংশ বেশ শক্তিশালী হলেও শেষের দিকে গতি কিছুটা কমে যায়। কিছু মোড় আগেভাগেই অনুমান করা যায়। বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পরিণতি খুব একটা চমক সৃষ্টি করতে পারে না।

অভিনয় ও উপস্থাপন
মৃণাল ঠাকুর এই ছবির আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। তার অভিনয় সংযত ও গভীর। আদিভি শেষও নিজের চরিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন, যদিও সংলাপ বলার ক্ষেত্রে কিছুটা অসামঞ্জস্য চোখে পড়ে। তবুও দুজনের অভিনয়ই ছবিকে শক্ত ভিত দিয়েছে।

সারসংক্ষেপ
‘ডাকাত’ এমন একটি সিনেমা, যা সহজে ভালো বা খারাপ—কোনও একপাশে ফেলা যায় না। পুরনো দিনের প্রেমকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা সাহসী। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এর আবেগ, গল্প বলার ধরন এবং সামাজিক বার্তা এটিকে আলাদা করে তোলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ডাকাত: পুরনো প্রেম, নতুন আঙ্গিক—অ্যাকশন আর আবেগে ভরা এক ভিন্ন স্বাদের সিনেমা

০২:১২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

পুরনো দিনের প্রেমের আবেগকে আধুনিক গল্প বলার ভঙ্গিতে তুলে ধরেছে ‘ডাকাত: এ লাভ স্টোরি’। তেলুগু-হিন্দি দ্বিভাষিক এই সিনেমাটি মূলত একটি গভীর প্রেমের গল্প, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে প্রতারণা, দ্বন্দ্ব আর সমাজবাস্তবতার নানা স্তর। পরিচালক শানেইল দেও এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আদিভি শেষ ও মৃণাল ঠাকুর।

গল্পের ভেতরের গল্প
এই ছবির মূল আকর্ষণ এর গল্প বলার ভঙ্গি। সরলরেখার বদলে সময়ের ভেতর এদিক-ওদিক যাতায়াত করে গল্প এগিয়েছে, যা দর্শককে শুরু থেকেই ধরে রাখে। ২০২১ সালের প্রেক্ষাপটে শুরু হলেও গল্প ফিরে যায় ২০০৫ সালে। এই যাতায়াতের মধ্যেই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় চরিত্রগুলোর অতীত, সম্পর্ক এবং লুকানো সত্য।

প্রেম, দ্বন্দ্ব আর দ্বৈততা
হরি দাস চরিত্রটি একদিকে শক্ত, অন্যদিকে ভীষণ সংবেদনশীল। তার হাতে থাকা ‘জে’ ট্যাটু তার প্রেমিকার প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতীক। জনসমক্ষে সে নির্ভীক, কিন্তু একান্তে ভেঙে পড়ে। এই দ্বৈততা চরিত্রটিকে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। অন্যদিকে সরস্বতীর সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনও প্রেম, কখনও দ্বন্দ্বে ভরা—যা গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

Dacoit' trailer: Adivi Sesh, Mrunal Thakur star in a fiery tale of love and  revenge - The Hindu

হেইস্ট আর বাস্তবতার ছোঁয়া
গল্পের এক পর্যায়ে হরি ও সরস্বতী একসঙ্গে কিছু ডাকাতির পরিকল্পনায় জড়িয়ে পড়ে। তবে এই ডাকাতিগুলো নিখুঁত নয়—বরং অপটুতা, ভুল আর সময়ের সঙ্গে দৌড়ের মধ্যেই এগোয়। এই বাস্তবধর্মী উপস্থাপনই ছবিকে আলাদা করে তোলে। পাশাপাশি মহামারির সময়কার চিকিৎসা সংকট, ওষুধের কালোবাজারি এবং হাসপাতালের খরচের চাপ—এসব বিষয় গল্পে যুক্ত হয়ে আবেগকে আরও গভীর করেছে।

সামাজিক বার্তা ও প্রেক্ষাপট
ছবির ভেতরে সূক্ষ্মভাবে উঠে এসেছে সামাজিক বিভাজন, বিশেষ করে জাতপাতের প্রভাব। চরিত্রগুলোর নাম ও পরিচয়ের মধ্য দিয়েও এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। যখন প্রশ্ন ওঠে—কেন কেউ শাস্তি পায়, কেউ পায় না—তখন ছবিটি সহজ উত্তর দেয় না, বরং দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে।

Dacoit Story

শক্তি ও দুর্বলতা
ছবির শুরু ও মাঝামাঝি অংশ বেশ শক্তিশালী হলেও শেষের দিকে গতি কিছুটা কমে যায়। কিছু মোড় আগেভাগেই অনুমান করা যায়। বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পরিণতি খুব একটা চমক সৃষ্টি করতে পারে না।

অভিনয় ও উপস্থাপন
মৃণাল ঠাকুর এই ছবির আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। তার অভিনয় সংযত ও গভীর। আদিভি শেষও নিজের চরিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন, যদিও সংলাপ বলার ক্ষেত্রে কিছুটা অসামঞ্জস্য চোখে পড়ে। তবুও দুজনের অভিনয়ই ছবিকে শক্ত ভিত দিয়েছে।

সারসংক্ষেপ
‘ডাকাত’ এমন একটি সিনেমা, যা সহজে ভালো বা খারাপ—কোনও একপাশে ফেলা যায় না। পুরনো দিনের প্রেমকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা সাহসী। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এর আবেগ, গল্প বলার ধরন এবং সামাজিক বার্তা এটিকে আলাদা করে তোলে।