তামিলনাড়ু বিধানসভায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই বিরোধী দলের এক বিধায়ককে উঠে দাঁড়াতে সহায়তা করে আলোচনায় এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। সোমবার বিধানসভায় ডিএমকে বিধায়কদের বিক্ষোভ ও ওয়াকআউটের মধ্যে থিরুভাইয়ারুর ডিএমকে বিধায়ক দুরাই চন্দ্রশেখরকে নিজের হাত বাড়িয়ে সহায়তা করেন তিনি। বিজয়ের এই আচরণকে রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির হিসেবে দেখেছেন উপস্থিত অনেক সদস্য।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ চেয়েছিলেন ডিএমকের বিধায়কেরা। কথা বলার সুযোগ না পেয়ে তারা স্পিকারের সামনে মেঝেতে অবস্থান কর্মসূচি করেন এবং পরে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত নেন।
ডিএমকের অন্য নেতারা যখন কক্ষ ছাড়ছিলেন, তখন নিজের আসনে বসে ছিলেন বিধায়ক দুরাই চন্দ্রশেখর। বিষয়টি লক্ষ্য করে বিজয় জানতে চান, তিনি কেন অন্যদের সঙ্গে বের হচ্ছেন না।
চন্দ্রশেখর জানান, তিনি আসন থেকে উঠতে পারছেন না। তখন বিজয় প্রশ্ন করেন, তিনি কেন উঠতে পারছেন না। এরপর মুখ্যমন্ত্রী নিজ আসন থেকে উঠে চন্দ্রশেখরের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন এবং তাকে দাঁড়াতে সহায়তা করেন।
চন্দ্রশেখরও হাত জোড় করে বিজয়কে ধন্যবাদ জানান। পরে তিনি অন্য ডিএমকে বিধায়কদের সঙ্গে ওয়াকআউটে যোগ দেন।
বিজয়ের আচরণে টেবিল চাপড়ালেন সদস্যরা
ঘটনাটি বিধানসভায় উপস্থিত মন্ত্রী ও অন্য সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিজয়ের এই আচরণে সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রতিক্রিয়া জানান। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয় কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তার দলকে বড় জয় এনে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। রাজনৈতিকভাবে ডিএমকের সঙ্গে তীব্র বিরোধের মধ্যেও বিরোধী দলের এক বিধায়ককে এভাবে সহায়তা করার ঘটনা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যে কঠোর বার্তা
এর আগে বিধানসভা অধিবেশনে নারীদের নিয়ে অশালীন বা মানহানিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান বিজয়। তিনি বলেন, নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং এমন ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
অধিবেশনে ডিএমকের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন বিজয়। তার দাবি, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি দলীয় তহবিলের নামে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন ও বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনকে দলীয় তহবিলের কথিত অর্থের সরাসরি সুবিধাভোগী বলেও দাবি করেন তিনি।
বিজয় আরও বলেন, ডিএমকে তাকে আগের সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা তিনটি বিভাগের নথি প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। তবে সেই নথি প্রকাশের আগে তিনি ১৯৮৮ সালের সারকারিয়া কমিশনের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধির বিরুদ্ধে সরকারি পদ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















