আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অন্য কেউ প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানে না ভারত সরকার।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এই মুহূর্তে জানানোর মতো নির্দিষ্ট তথ্য তার কাছে নেই।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তবে তার সফর নিয়ে এর আগে বিভিন্ন আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। গত মাসের মাঝামাঝি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ২২-২৩ আগস্ট তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাব্য সময়সূচির কথা বলা হয়েছিল। সফর ঘিরে দুই দেশেই প্রস্তুতি চলার খবরও এসেছিল। কিন্তু ওই সময় পেরিয়ে গেলেও সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ঢাকার শর্ত ও কূটনৈতিক পরিবেশ
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আলোচনার মধ্যেই গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর ঢাকা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতকে ‘কূটনৈতিক অনুকূল পরিবেশ’ তৈরিসহ দুটি শর্ত দেয় বাংলাদেশ।
ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, তারেক রহমানের ভারত সফরের সিদ্ধান্তের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়।

এর আগে বুধবার ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের সিদ্ধান্ত মূলত তার নিজের ওপরই নির্ভর করছে।
শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়েও মন্তব্য নয়
শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে তারেক রহমানের সফরের পাশাপাশি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো উদ্বেগ ভারতকে জানানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। জয়সোয়াল জানান, এ বিষয়ে ভারতের কাছে কোনো তথ্য নেই।
শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কেও মন্তব্য করতে রাজি হননি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সম্পর্কে তার কোনো মন্তব্য নেই।
ফলে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর—দুই বিষয়েই আপাতত নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর মতো নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















