০১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়, চাপে মূলধারার রাজনীতি নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের এক বছর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না: কার্কি ‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান

তালেবানকে একঘরে করে নয়, আফগানিস্তানে কৌশলী যোগাযোগের ডাক

আফগানিস্তানের তালেবান শাসনব্যবস্থা কঠোর, দমনমূলক এবং মানবাধিকারবিরোধী—এমন সমালোচনা থাকলেও দেশটিকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখার নীতি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কার্যকর হচ্ছে না। বরং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় তালেবানের সঙ্গে সীমিত ও কৌশলগত যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

আফগানিস্তানে তালেবানের কঠোর শাসন

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান দ্রুত ক্ষমতা দখল করে। এরপর বড় ধরনের যুদ্ধ অনেকটাই থেমে গেলেও দেশটিতে মানুষের জীবন স্বাভাবিক হয়নি। নারীদের কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষা থেকে দূরে রাখা, মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষায় বাধা, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের চলাচলে বিধিনিষেধ এবং ধর্মীয় পুলিশের কঠোরতা আফগান সমাজকে আরও সংকুচিত করেছে।

তালেবান নেতৃত্বের কঠোরপন্থীরা এখনো ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করছে। তুলনামূলক উদার মনোভাবের অনেক তালেবান সদস্যও তাদের অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দাঁড়ানোর মতো শক্তিশালী নন।

বিচ্ছিন্নতার নীতি কতটা কার্যকর

তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি সম্পদ আটকে রেখেছে। কিন্তু এতে তালেবান নেতৃত্ব তাদের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনেনি।

বরং আফগানিস্তানে রাশিয়া, চীন, ভারত, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের যোগাযোগ বাড়ছে। বাণিজ্য, খনিজ সম্পদ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে এসব দেশের সঙ্গে তালেবানের সহযোগিতাও বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে পশ্চিমা দেশগুলো দূরে থাকলে আফগানিস্তানে তাদের প্রভাব আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

The Taliban are vile. Democracies must still engage with them

মানবিক সহায়তা বন্ধ করা নয়

আফগানিস্তানের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনো মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। তাই তালেবান নেতৃত্বের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে মানবিক সহায়তাকে এক করে না দেখে প্রয়োজনীয় সাহায্য অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে দেশটিতে কাজ করার সুযোগ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে দুর্ভিক্ষ, সামাজিক অস্থিরতা ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের মতো সংকেত আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা সংস্কারের প্রয়োজন

তালেবানের বর্তমান অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন। এর ফলে আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে পড়ে গেছে এবং বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

স্বীকৃতি নয়, বাস্তববাদী যোগাযোগ

আফগানিস্তানে তালেবানকে সরাসরি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, অভিবাসন, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি। কারণ তালেবান এখন বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্র এবং তাদের উপেক্ষা করলে সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আফগানিস্তানকে পুরোপুরি পরিত্যাগ করার পরিবর্তে মানবাধিকার নিয়ে চাপ বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কৌশলগত যোগাযোগই ভবিষ্যতে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য বেশি কার্যকর পথ হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম

তালেবানকে একঘরে করে নয়, আফগানিস্তানে কৌশলী যোগাযোগের ডাক

০৬:৩০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

আফগানিস্তানের তালেবান শাসনব্যবস্থা কঠোর, দমনমূলক এবং মানবাধিকারবিরোধী—এমন সমালোচনা থাকলেও দেশটিকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখার নীতি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কার্যকর হচ্ছে না। বরং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় তালেবানের সঙ্গে সীমিত ও কৌশলগত যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

আফগানিস্তানে তালেবানের কঠোর শাসন

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান দ্রুত ক্ষমতা দখল করে। এরপর বড় ধরনের যুদ্ধ অনেকটাই থেমে গেলেও দেশটিতে মানুষের জীবন স্বাভাবিক হয়নি। নারীদের কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষা থেকে দূরে রাখা, মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষায় বাধা, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের চলাচলে বিধিনিষেধ এবং ধর্মীয় পুলিশের কঠোরতা আফগান সমাজকে আরও সংকুচিত করেছে।

তালেবান নেতৃত্বের কঠোরপন্থীরা এখনো ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করছে। তুলনামূলক উদার মনোভাবের অনেক তালেবান সদস্যও তাদের অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দাঁড়ানোর মতো শক্তিশালী নন।

বিচ্ছিন্নতার নীতি কতটা কার্যকর

তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি সম্পদ আটকে রেখেছে। কিন্তু এতে তালেবান নেতৃত্ব তাদের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনেনি।

বরং আফগানিস্তানে রাশিয়া, চীন, ভারত, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের যোগাযোগ বাড়ছে। বাণিজ্য, খনিজ সম্পদ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে এসব দেশের সঙ্গে তালেবানের সহযোগিতাও বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে পশ্চিমা দেশগুলো দূরে থাকলে আফগানিস্তানে তাদের প্রভাব আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

The Taliban are vile. Democracies must still engage with them

মানবিক সহায়তা বন্ধ করা নয়

আফগানিস্তানের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনো মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। তাই তালেবান নেতৃত্বের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে মানবিক সহায়তাকে এক করে না দেখে প্রয়োজনীয় সাহায্য অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে দেশটিতে কাজ করার সুযোগ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে দুর্ভিক্ষ, সামাজিক অস্থিরতা ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের মতো সংকেত আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা সংস্কারের প্রয়োজন

তালেবানের বর্তমান অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন। এর ফলে আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে পড়ে গেছে এবং বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

স্বীকৃতি নয়, বাস্তববাদী যোগাযোগ

আফগানিস্তানে তালেবানকে সরাসরি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, অভিবাসন, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি। কারণ তালেবান এখন বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্র এবং তাদের উপেক্ষা করলে সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আফগানিস্তানকে পুরোপুরি পরিত্যাগ করার পরিবর্তে মানবাধিকার নিয়ে চাপ বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কৌশলগত যোগাযোগই ভবিষ্যতে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য বেশি কার্যকর পথ হতে পারে।