০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

দাবদাহে পানির সংকট, দুই কোটির বেশি মানুষের ওপর পাইপে পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবে পানির সরবরাহে চাপ বেড়েছে। এর ফলে দুই কোটিরও বেশি মানুষের জন্য পাইপের মাধ্যমে পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আরও একটি বড় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই নিষেধাজ্ঞা চালু করায় বিধিনিষেধের আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কোথায় কেন এই নিষেধাজ্ঞা

দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডের পাশাপাশি ওয়েলসের কিছু এলাকায় টানা তাপপ্রবাহ ও কম বৃষ্টিপাতের কারণে পানির চাহিদা বেড়ে গেছে। যদিও গত শীত মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছিল, বসন্ত ও গ্রীষ্মের শুরুতে শুষ্ক আবহাওয়া এবং তাপমাত্রা বারবার ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়ায় জলাধার ও নদীর পানির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাগানে পানি দেওয়া, গাড়ি ও জানালা পরিষ্কার করা কিংবা সুইমিং পুলে পানি ভরার মতো কাজে পাইপ ব্যবহার সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

খরার ঝুঁকি কতটা

Environment Agency declares prolonged dry weather across Devon, Cornwall  and Isles of Scilly

খরা বলতে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে বোঝায়। এর প্রভাব পড়ে কৃষি, পরিবেশ, নদী এবং পানির সরবরাহ ব্যবস্থায়।

অন্যদিকে পানি সংকট শুধু বৃষ্টির ঘাটতির কারণে হয় না। অনেক সময় পানির চাহিদা সরবরাহের তুলনায় বেশি হয়ে গেলেও একই ধরনের সংকট দেখা দেয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমান পানির মজুত, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়।

কোন এলাকায় পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক

ইংল্যান্ডের বড় একটি অংশ বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার আওতায় রয়েছে। ইতোমধ্যে আটটি পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পাইপে পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সাতটি ইংল্যান্ডে এবং একটি ওয়েলসে।

ওয়েলসের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও শুষ্ক আবহাওয়ার সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খরা ঘোষণা করা হয়নি। স্কটল্যান্ডে খরার পরিবর্তে পানি সংকটের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সেখানে কয়েকটি এলাকায় মাঝারি মাত্রার সংকট থাকলেও গুরুতর অবস্থায় পৌঁছায়নি।

নদী, জলাধার ও ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থা

England faces worsening drought as heatwave intensifies water supply crisis

নদী, জলাধার এবং ভূগর্ভস্থ পানি দেশটির প্রধান পানির উৎস। সাম্প্রতিক গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অনেক নদীর পানিপ্রবাহ কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলে গ্রীষ্মের বাকি সময়ে বন্যপ্রাণী, কৃষি এবং পানির সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে।

ইংল্যান্ডের অনেক জলাধারে পানির পরিমাণ বছরের এই সময়ের গড়ের নিচে নেমে এসেছে। তবে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের জলাধারগুলোতে এখনো তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক পরিমাণ পানি রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বেশি। শীতের বৃষ্টিতে এসব স্তর কিছুটা পূরণ হলেও শুষ্ক বসন্তের কারণে সেগুলো আবার কমতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তন ধীরে ঘটে, তাই সংকট তৈরি হতে সময় লাগে, তবে একবার শুরু হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা

বিশেষজ্ঞদের মতে, খরা একক কোনো কারণে হয় না। প্রাকৃতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের পানি ব্যবহারের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উষ্ণ পৃথিবীতে গ্রীষ্ম আরও শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মাটি, নদী ও জলাধার থেকে দ্রুত পানি বাষ্পীভূত হচ্ছে। ফলে খরা, তাপপ্রবাহ এবং দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে।

এদিকে পানি খাতে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দাবদাহের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণকে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Everywhere under 'prolonged dry weather' drought warning as hosepipe ban  could be ordered for millions more people - AOL

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

দাবদাহে পানির সংকট, দুই কোটির বেশি মানুষের ওপর পাইপে পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

১১:৩০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবে পানির সরবরাহে চাপ বেড়েছে। এর ফলে দুই কোটিরও বেশি মানুষের জন্য পাইপের মাধ্যমে পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আরও একটি বড় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই নিষেধাজ্ঞা চালু করায় বিধিনিষেধের আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কোথায় কেন এই নিষেধাজ্ঞা

দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডের পাশাপাশি ওয়েলসের কিছু এলাকায় টানা তাপপ্রবাহ ও কম বৃষ্টিপাতের কারণে পানির চাহিদা বেড়ে গেছে। যদিও গত শীত মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছিল, বসন্ত ও গ্রীষ্মের শুরুতে শুষ্ক আবহাওয়া এবং তাপমাত্রা বারবার ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়ায় জলাধার ও নদীর পানির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাগানে পানি দেওয়া, গাড়ি ও জানালা পরিষ্কার করা কিংবা সুইমিং পুলে পানি ভরার মতো কাজে পাইপ ব্যবহার সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

খরার ঝুঁকি কতটা

Environment Agency declares prolonged dry weather across Devon, Cornwall  and Isles of Scilly

খরা বলতে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে বোঝায়। এর প্রভাব পড়ে কৃষি, পরিবেশ, নদী এবং পানির সরবরাহ ব্যবস্থায়।

অন্যদিকে পানি সংকট শুধু বৃষ্টির ঘাটতির কারণে হয় না। অনেক সময় পানির চাহিদা সরবরাহের তুলনায় বেশি হয়ে গেলেও একই ধরনের সংকট দেখা দেয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমান পানির মজুত, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়।

কোন এলাকায় পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক

ইংল্যান্ডের বড় একটি অংশ বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার আওতায় রয়েছে। ইতোমধ্যে আটটি পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পাইপে পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সাতটি ইংল্যান্ডে এবং একটি ওয়েলসে।

ওয়েলসের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও শুষ্ক আবহাওয়ার সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খরা ঘোষণা করা হয়নি। স্কটল্যান্ডে খরার পরিবর্তে পানি সংকটের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সেখানে কয়েকটি এলাকায় মাঝারি মাত্রার সংকট থাকলেও গুরুতর অবস্থায় পৌঁছায়নি।

নদী, জলাধার ও ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থা

England faces worsening drought as heatwave intensifies water supply crisis

নদী, জলাধার এবং ভূগর্ভস্থ পানি দেশটির প্রধান পানির উৎস। সাম্প্রতিক গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অনেক নদীর পানিপ্রবাহ কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলে গ্রীষ্মের বাকি সময়ে বন্যপ্রাণী, কৃষি এবং পানির সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে।

ইংল্যান্ডের অনেক জলাধারে পানির পরিমাণ বছরের এই সময়ের গড়ের নিচে নেমে এসেছে। তবে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের জলাধারগুলোতে এখনো তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক পরিমাণ পানি রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বেশি। শীতের বৃষ্টিতে এসব স্তর কিছুটা পূরণ হলেও শুষ্ক বসন্তের কারণে সেগুলো আবার কমতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তন ধীরে ঘটে, তাই সংকট তৈরি হতে সময় লাগে, তবে একবার শুরু হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা

বিশেষজ্ঞদের মতে, খরা একক কোনো কারণে হয় না। প্রাকৃতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের পানি ব্যবহারের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উষ্ণ পৃথিবীতে গ্রীষ্ম আরও শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মাটি, নদী ও জলাধার থেকে দ্রুত পানি বাষ্পীভূত হচ্ছে। ফলে খরা, তাপপ্রবাহ এবং দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে।

এদিকে পানি খাতে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দাবদাহের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণকে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Everywhere under 'prolonged dry weather' drought warning as hosepipe ban  could be ordered for millions more people - AOL