০১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়, চাপে মূলধারার রাজনীতি নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের এক বছর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না: কার্কি ‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান

দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি, মানববন্ধনে কুড়িগ্রামবাসী

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা এলাকাকে দুধকুমার নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ দাবিতে শনিবার বিকেলে দুধকুমার নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় নদীভাঙনের শিকার প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে এলাকার মানুষ বসতভিটা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।

কুড়িগ্রামে নদীভাঙনের বিস্তৃতি

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, শুধু দুধকুমার নদী নয়, কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদীর অন্তত ৩৬টি স্থানে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে। গত এক দশকে জেলার লাখো মানুষ নদীভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের সঠিক সংখ্যা নিয়ে কোনো সরকারি দপ্তরের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। এমনকি নতুন করে ভাঙনের শিকার হওয়া মানুষের তথ্যও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে না।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি

বক্তারা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা, নিবন্ধন কিংবা ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত থাকেন।

তারা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের স্থায়ী অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে চরাঞ্চলের লাখো মানুষের উন্নয়নের জন্য পৃথক ‘চরবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনেরও দাবি জানান।

স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আহ্বান

সমাবেশে জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আখের, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ইউসুফ, সহসভাপতি ইয়াসিন আলী এবং কচাকাটা থানা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস চঞ্চলসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

বক্তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুধকুমার নদীর ভাঙন থেকে পাইকডাঙ্গা এলাকাকে রক্ষায় দ্রুত একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রামের পাইকডাঙ্গা এলাকায় দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

#কুড়িগ্রাম #দুধকুমার_নদী #নদীভাঙন #ভূরুঙ্গামারী #পাইকডাঙ্গা #চরাঞ্চল #বাংলাদেশ

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম

দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি, মানববন্ধনে কুড়িগ্রামবাসী

০২:১৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা এলাকাকে দুধকুমার নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ দাবিতে শনিবার বিকেলে দুধকুমার নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় নদীভাঙনের শিকার প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে এলাকার মানুষ বসতভিটা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।

কুড়িগ্রামে নদীভাঙনের বিস্তৃতি

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, শুধু দুধকুমার নদী নয়, কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদীর অন্তত ৩৬টি স্থানে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে। গত এক দশকে জেলার লাখো মানুষ নদীভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের সঠিক সংখ্যা নিয়ে কোনো সরকারি দপ্তরের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। এমনকি নতুন করে ভাঙনের শিকার হওয়া মানুষের তথ্যও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে না।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি

বক্তারা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা, নিবন্ধন কিংবা ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত থাকেন।

তারা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের স্থায়ী অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে চরাঞ্চলের লাখো মানুষের উন্নয়নের জন্য পৃথক ‘চরবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনেরও দাবি জানান।

স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আহ্বান

সমাবেশে জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আখের, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ইউসুফ, সহসভাপতি ইয়াসিন আলী এবং কচাকাটা থানা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস চঞ্চলসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

বক্তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুধকুমার নদীর ভাঙন থেকে পাইকডাঙ্গা এলাকাকে রক্ষায় দ্রুত একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রামের পাইকডাঙ্গা এলাকায় দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

#কুড়িগ্রাম #দুধকুমার_নদী #নদীভাঙন #ভূরুঙ্গামারী #পাইকডাঙ্গা #চরাঞ্চল #বাংলাদেশ