অভিনেতা কনর স্টোরি তাঁর পরিচিত সোনালি কোঁকড়ানো চুল কেটে একেবারে নতুন সাজে হাজির হয়ে চমকে দিয়েছেন ভক্তদের। ২০২৬ সালের ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসের লালগালিচায় প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের নতুন ‘বাজকাট’ চুলের সাজ দেখালেন ‘হিটেড রাইভ্যালরি’ তারকা।
মায়ের হাত ধরে লালগালিচায়
অনুষ্ঠানে কনরের সঙ্গী ছিলেন তাঁর মা লিন্ডা স্টোরি। কনর পরেছিলেন ধূসর-কালো ঢিলেঢালা স্যুট, যার বোতামে ছিল নজরকাড়া কারুকাজ। সঙ্গে ছিল নীল রেশমি শার্ট। খোলা গলার সেই পোশাকের সঙ্গে তাঁর সদ্য কাটা ছোট চুল আর প্রাণখোলা হাসিই হয়ে ওঠে পুরো সাজের সবচেয়ে আলোচিত দিক।
অন্যদিকে লিন্ডা স্টোরি পরেছিলেন ঝলমলে সোনালি গাউন। নরম ঢেউ খেলানো চুলে তাঁকেও বেশ আকর্ষণীয় দেখাচ্ছিল।
পরিচিত কোঁকড়ানো চুল কোথায়?
গত মাসে টরন্টোয় কনরকে তাঁর ‘হিটেড রাইভ্যালরি’ সহশিল্পী ক্রিস্টিনা চ্যাংয়ের সঙ্গে দেখা যায়। তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত কোঁকড়ানো চুল কেটে ফেলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তবে এমিসের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো নতুন চেহারাটি আনুষ্ঠানিকভাবে দেখালেন তিনি।
এ নিয়ে এখন ভক্তদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরছে। ‘হিটেড রাইভ্যালরি’র দ্বিতীয় মৌসুমে তাঁর চরিত্র ইলিয়া রোজানভকেও কি এই নতুন চেহারায় দেখা যাবে? নাকি অন্য কোনো চরিত্রের জন্যই চুল কেটেছেন কনর? প্রয়োজনে কি তাঁকে আবার কৃত্রিম চুল ব্যবহার করতে হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে এখন ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে।
চুল কাটার ইচ্ছা আগেই জানিয়েছিলেন
নিজের কোঁকড়ানো চুল নিয়ে এর আগেও কনর জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে তিনি মাথা পুরোপুরি কামিয়ে ফেলতেও প্রস্তুত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, কেউ যদি তাঁকে ভিন্ন ধরনের চেহারায় কোনো চরিত্রে নেওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে তিনি চুল কেটে একেবারে নতুনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে আগ্রহী।
অন্য এক কথোপকথনেও নিজের চুল কেটে ফেলার ইচ্ছার কথা স্পষ্ট করেছিলেন এই অভিনেতা। ফলে এবারের বাজকাট তাঁর জন্য খুব একটা অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নয়।
এমিসে প্রথমবার
এবারের অনুষ্ঠানটি কনরের জন্য আরও বিশেষ ছিল। ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে এটাই ছিল তাঁর প্রথম উপস্থিতি। ফেব্রুয়ারিতে ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’-এ সঞ্চালকের দায়িত্ব পালনের অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবার মনোনয়নও পেয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি মরণোত্তরভাবে রব রেইনারের হাতে যায় ‘দ্য বেয়ার’-এর জন্য।
নতুন চেহারায় নতুন অধ্যায়
কনর স্টোরির জনপ্রিয়তার সঙ্গে তাঁর এলোমেলো সোনালি কোঁকড়ানো চুলের চেহারাটিও যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। তবে এবার সেই পরিচিত সাজ থেকে বেরিয়ে এসে তিনি নিজের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের সম্পূর্ণ ভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।
কনরের সামনে এখন বেশ কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক সোভিয়েত-পরবর্তী সময়ের রোমাঞ্চধর্মী ছবি ‘এপ্রিল এক্স’, মলি গর্ডনের এটুয়েন্টিফোর প্রযোজিত স্কুল পুনর্মিলনকেন্দ্রিক হাস্যরসের ছবি ‘পিকড’ এবং গ্রেসি অ্যাব্রামস ও টম বার্কের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ছবি ‘প্লিজ’।
সব মিলিয়ে নতুন চুল শুধু সাজ বদলের গল্প নয়, কনর স্টোরির অভিনয়জীবনের নতুন অধ্যায়েরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। পছন্দের চরিত্রের জন্য নিজের চেহারায় বড় পরিবর্তন আনতেও যে তিনি প্রস্তুত, বাজকাটে সেই বার্তাই যেন আরও স্পষ্ট হলো।
কনর স্টোরির নতুন বাজকাট, এমিসে তাঁর প্রথম উপস্থিতি এবং ‘হিটেড রাইভ্যালরি’র দ্বিতীয় মৌসুমে তাঁর সম্ভাব্য নতুন চেহারা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল এখন তুঙ্গে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















