০২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

নিউজিল্যান্ডের দুষ্টু কেয়া পাখি বিলুপ্তির পথে, পাহাড়ি প্রকৃতির এই বিস্ময় এখন সংকটে

নিউজিল্যান্ডের উঁচু পর্বতমালায় বাস করা এক অনন্য পাখি কেয়া, যার দুষ্টুমি আর বুদ্ধিমত্তা বিশ্বজুড়ে পরিচিত, এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময় পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাণবন্ত এই পাখির সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে, যা পরিবেশবিদদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পাহাড়ি জীবনের একমাত্র তোতা

কেয়া পৃথিবীর একমাত্র তোতা পাখি, যা উচ্চ পর্বতে বসবাস করে। অস্ট্রেলিয়ার গালাহ পাখির মতোই এরা অত্যন্ত খেলাধুলাপ্রিয়। প্রায়ই দেখা যায়, কেয়া কাঠি বা ছোট বস্তু আকাশে ছুড়ে আবার ধরে—যেন নিছক আনন্দের জন্যই এই খেলা।

তাদের এই কৌতূহলী স্বভাবের আরেকটি উদাহরণ হলো গাড়ির রাবার অংশ খুলে ফেলা। পার্ক করা গাড়ির চারপাশে ঘুরে বেড়িয়ে তারা রাবার ছিঁড়ে ফেলে, যা তাদের দুষ্টুমিরই অংশ।

খাদ্যাভ্যাসে ব্যতিক্রম

অন্যান্য তোতা পাখির তুলনায় কেয়ার খাদ্যাভ্যাস আলাদা। তারা শুধু উদ্ভিজ্জ খাদ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিয়মিতভাবে মাংসও খায়। এই অদ্ভুত অভ্যাসের কারণেই অতীতে কিছু কেয়াকে ভেড়ার ওপর আক্রমণ করতে দেখা গেছে।

এই আচরণের ফলে কৃষকদের সঙ্গে কেয়ার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। অনেক কৃষক তখন কেয়াকে ক্ষতিকর মনে করে হত্যা করতে শুরু করেন, যা একসময় এই পাখিকে প্রায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়।

সংরক্ষণেও কমছে সংখ্যা

বর্তমানে কেয়া আইনগতভাবে সংরক্ষিত হলেও তাদের সংখ্যা আশানুরূপ বাড়ছে না। ধারণা করা হয়, এখন মাত্র তিন হাজার থেকে সাত হাজার কেয়া অবশিষ্ট আছে, এবং এই সংখ্যাও ক্রমেই কমছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংস, মানুষের সঙ্গে সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—সব মিলিয়ে কেয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

প্রকৃতির সৌন্দর্যে কেয়ার উপস্থিতি

সম্প্রতি মাউন্ট কুকের পটভূমিতে তোলা একটি কেয়ার ছবি আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় স্থান পেয়েছে, যা এই পাখির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। এই স্বীকৃতি কেয়ার সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

নিউজিল্যান্ডের দুষ্টু কেয়া পাখি বিলুপ্তির পথে, পাহাড়ি প্রকৃতির এই বিস্ময় এখন সংকটে

০৯:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

নিউজিল্যান্ডের উঁচু পর্বতমালায় বাস করা এক অনন্য পাখি কেয়া, যার দুষ্টুমি আর বুদ্ধিমত্তা বিশ্বজুড়ে পরিচিত, এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময় পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাণবন্ত এই পাখির সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে, যা পরিবেশবিদদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পাহাড়ি জীবনের একমাত্র তোতা

কেয়া পৃথিবীর একমাত্র তোতা পাখি, যা উচ্চ পর্বতে বসবাস করে। অস্ট্রেলিয়ার গালাহ পাখির মতোই এরা অত্যন্ত খেলাধুলাপ্রিয়। প্রায়ই দেখা যায়, কেয়া কাঠি বা ছোট বস্তু আকাশে ছুড়ে আবার ধরে—যেন নিছক আনন্দের জন্যই এই খেলা।

তাদের এই কৌতূহলী স্বভাবের আরেকটি উদাহরণ হলো গাড়ির রাবার অংশ খুলে ফেলা। পার্ক করা গাড়ির চারপাশে ঘুরে বেড়িয়ে তারা রাবার ছিঁড়ে ফেলে, যা তাদের দুষ্টুমিরই অংশ।

খাদ্যাভ্যাসে ব্যতিক্রম

অন্যান্য তোতা পাখির তুলনায় কেয়ার খাদ্যাভ্যাস আলাদা। তারা শুধু উদ্ভিজ্জ খাদ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিয়মিতভাবে মাংসও খায়। এই অদ্ভুত অভ্যাসের কারণেই অতীতে কিছু কেয়াকে ভেড়ার ওপর আক্রমণ করতে দেখা গেছে।

এই আচরণের ফলে কৃষকদের সঙ্গে কেয়ার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। অনেক কৃষক তখন কেয়াকে ক্ষতিকর মনে করে হত্যা করতে শুরু করেন, যা একসময় এই পাখিকে প্রায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়।

সংরক্ষণেও কমছে সংখ্যা

বর্তমানে কেয়া আইনগতভাবে সংরক্ষিত হলেও তাদের সংখ্যা আশানুরূপ বাড়ছে না। ধারণা করা হয়, এখন মাত্র তিন হাজার থেকে সাত হাজার কেয়া অবশিষ্ট আছে, এবং এই সংখ্যাও ক্রমেই কমছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংস, মানুষের সঙ্গে সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—সব মিলিয়ে কেয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

প্রকৃতির সৌন্দর্যে কেয়ার উপস্থিতি

সম্প্রতি মাউন্ট কুকের পটভূমিতে তোলা একটি কেয়ার ছবি আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় স্থান পেয়েছে, যা এই পাখির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। এই স্বীকৃতি কেয়ার সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।