ভারতের মহারাষ্ট্রে নিট পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রত্যাশিত নম্বর না পাওয়ার হতাশায় এক মেডিকেলপ্রত্যাশী তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত তরুণীর বয়স ১৯ বছর। আহিল্যানগর জেলার জালালপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে শনিবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, করজাত থানায় এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। ঘটনার কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
কাঙ্ক্ষিত নম্বর না পাওয়ার হতাশা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই তরুণী নিট পুনঃপরীক্ষায় ১৬৬ নম্বর পেয়েছিলেন। যোগ্যতার জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর ছিল ১৭৭। মাত্র ১১ নম্বরের ব্যবধানে কাঙ্ক্ষিত সীমা অতিক্রম করতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
তরুণীর এক চাচা জানান, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। পরীক্ষার ফল প্রত্যাশামতো না হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। এ ঘটনায় একটি লিখিত নোটও পাওয়া গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঘরে একা ছিলেন তরুণী
ঘটনার সময় তরুণীর বাবা ও ভাই তীর্থযাত্রার জন্য পন্ধরপুরে গিয়েছিলেন। মা তখন বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তরুণী নিজের ঘরে পড়াশোনা করছিলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে ঘর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে তার মা দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানান।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে।
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ থাকার কথা
পরিবারের দাবি, পাওয়া নোটে তরুণী উল্লেখ করেছিলেন যে পুনঃপরীক্ষায় ১৬৬ নম্বর পাওয়ায় তিনি গভীরভাবে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার কষ্টের কথাও সেখানে ছিল বলে জানানো হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের এ ঘটনার জন্য দায়ী না করার কথাও তিনি লিখেছিলেন বলে জানা গেছে।
নিট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ
নিট পরীক্ষাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষার ফল নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই একাধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে।

এর আগে ২৫ জুলাইও নিট-সংক্রান্ত চাপের মধ্যে আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর সামনে আসে। ওই শিক্ষার্থীর পরিবার পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের কঠোর তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, পরীক্ষার ফল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বারবার মনে করিয়ে দেন, পরীক্ষার ফল কোনো শিক্ষার্থীর জীবনের মূল্য নির্ধারণ করে না এবং তীব্র মানসিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরিবার, শিক্ষক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা পাওয়া জরুরি।
পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা
একটি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া জীবনের শেষ কথা নয়। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও ফলাফলকেন্দ্রিক চাপ কমানো এবং তাদের মানসিক অবস্থার প্রতি পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
কেউ যদি নিজেকে বিপদে মনে করেন বা আত্মহানির চিন্তায় ভুগতে থাকেন, তাহলে একা না থেকে দ্রুত কাছের বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া জরুরি। আত্মহানি প্রতিরোধযোগ্য এবং সময়মতো সহায়তা জীবন বাঁচাতে পারে।
নিট পুনঃপরীক্ষার ফল নিয়ে হতাশা ও মানসিক চাপে মহারাষ্ট্রে ১৯ বছরের এক মেডিকেলপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা ঘিরে তদন্ত চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















