১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বড় ক্লাসের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, বদলাতে হবে শিক্ষার পদ্ধতি গ্যাস স্টেশনে বসল বিয়ের আসর, তিন পোশাকে চমকে দিলেন ড্রামার কনে ট্রাম্পের মানচিত্রে ‘মার্কিন’ আইসল্যান্ড, ক্ষুব্ধ রেইকিয়াভিক তলব করল মার্কিন রাষ্ট্রদূত এনভিডিয়া–হাগিং ফেস চুক্তিতে বদলে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানের এআই কৌশল মেয়ের জন্মের স্মৃতি ধরে রাখতে টেলর সুইফটের প্রিয় গয়না-শিল্পীর অনন্য আংটি ১০–৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল, আপত্তি বিজিএমইএ-বিকেএমইএর সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের চার প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: মিসরের সামনে যোগ দেওয়ার চেয়েও বড় প্রশ্ন কাঁচা সবুজ টমেটো সংরক্ষণ করুন শীতের জন্য, সহজেই তৈরি করুন মজাদার আচার ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করল মিসর

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-২৯)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪
  • 138

আমার মা

মাঝে মাঝে ইলিশ মাছের হালি যখন দুই আনা তিন আনায় নামিত, তখন বাজান একসঙ্গে সাত-আটটি মাছ কিনিয়া আনিতেন। সেগুলি মা ভাজিয়া দিতেন। আমরা সেদিন সাত-আটখানা ভাজা মাছ ভাতের সঙ্গে খাইতাম।

কোনো কোনোদিন বাজানের সঙ্গে হাট হইতে ইলিশ মাছ কিনিয়া বাড়ি ফিরতাম। পথে ফিরিতে যার সঙ্গে দেখা হইত, সে-ই মাছের দাম জিজ্ঞাসা করিত। দাম শুনিয়া কেহ কেহ বলিত, মাছটি বেশ জিতিয়া কিনিয়াছেন। আমার খুব ভালো লাগিত। এখনও দেশে যাইয়া মাঝে মাঝে বাজার হইতে ইলিশ মাছ হাতে ঝুলাইয়া বাড়ি ফিরি। যে দেখে দাম জিজ্ঞাসা করে। উত্তর দিতে আমার তেমনই ভালো লাগে। কোনো কোনো পরিচিত লোক মাছের দাম জিজ্ঞাসা করিবার আগেই দামটা বলিয়া ফেলি। সমস্ত পথ আনন্দমুখর হইয়া ওঠে। সামান্য একটা ইলিশ মাছ বাঙালির জীবনে যে কত আনন্দ আনিয়া দিতে পারে ভাবিলে আশ্চর্য হইতে হয়।

আমাদিগকে ভালো খাওয়াইতে মা কতই না যত্ন লইতেন। মাঝে মাঝে ডালের বড়া ভাজিতেন। তেল না থাকিলে কলাপাতার উপর ডালবাটা বসাইয়া কাঠখোলায় ভাজিয়া লইতেন। সেদিন এত ভাত খাইতাম যে পেটে ধরিত না। ডিমের তরকারি বা মুরগির গোস্ত যেদিন রান্না হইত সেদিন আমাদের আনন্দের অবধি থাকিত না।

বাড়িতে মা খই-মুড়ি বেশি তৈরি করিতে পারিতেন না। যখন তৈরি করিতেন, সারাদিন খই-মুড়ি চিবাইয়া মুখে যা করিয়া ফেলিতাম। আজও মুড়ি খাওয়ার লোভ আমার যায় নাই। গরম মুড়ি পাইলে আমি রাজভোগও ছাড়িতে পারি। সেদিন আমাদের গ্রামের এক বাড়ির কাছ দিয়া যাইতেছি। দেখিলাম তাহারা গরম মুড়ি ভাজিতেছে। আমি যাইয়া আঁচল পাতিয়া বসিলাম। সম্পর্কে আমার দাদি, হামিজদ্দির মা আমাকে মুড়ি দিতে দিতে বলিল, “সেই আগেকার ছোঁচা জসীম তেমনি আছে।” বাড়ির বউরা ঘোমটার আড়ালে হাসিতে লাগিল।

চলবে…

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় ক্লাসের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, বদলাতে হবে শিক্ষার পদ্ধতি

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-২৯)

১১:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪

আমার মা

মাঝে মাঝে ইলিশ মাছের হালি যখন দুই আনা তিন আনায় নামিত, তখন বাজান একসঙ্গে সাত-আটটি মাছ কিনিয়া আনিতেন। সেগুলি মা ভাজিয়া দিতেন। আমরা সেদিন সাত-আটখানা ভাজা মাছ ভাতের সঙ্গে খাইতাম।

কোনো কোনোদিন বাজানের সঙ্গে হাট হইতে ইলিশ মাছ কিনিয়া বাড়ি ফিরতাম। পথে ফিরিতে যার সঙ্গে দেখা হইত, সে-ই মাছের দাম জিজ্ঞাসা করিত। দাম শুনিয়া কেহ কেহ বলিত, মাছটি বেশ জিতিয়া কিনিয়াছেন। আমার খুব ভালো লাগিত। এখনও দেশে যাইয়া মাঝে মাঝে বাজার হইতে ইলিশ মাছ হাতে ঝুলাইয়া বাড়ি ফিরি। যে দেখে দাম জিজ্ঞাসা করে। উত্তর দিতে আমার তেমনই ভালো লাগে। কোনো কোনো পরিচিত লোক মাছের দাম জিজ্ঞাসা করিবার আগেই দামটা বলিয়া ফেলি। সমস্ত পথ আনন্দমুখর হইয়া ওঠে। সামান্য একটা ইলিশ মাছ বাঙালির জীবনে যে কত আনন্দ আনিয়া দিতে পারে ভাবিলে আশ্চর্য হইতে হয়।

আমাদিগকে ভালো খাওয়াইতে মা কতই না যত্ন লইতেন। মাঝে মাঝে ডালের বড়া ভাজিতেন। তেল না থাকিলে কলাপাতার উপর ডালবাটা বসাইয়া কাঠখোলায় ভাজিয়া লইতেন। সেদিন এত ভাত খাইতাম যে পেটে ধরিত না। ডিমের তরকারি বা মুরগির গোস্ত যেদিন রান্না হইত সেদিন আমাদের আনন্দের অবধি থাকিত না।

বাড়িতে মা খই-মুড়ি বেশি তৈরি করিতে পারিতেন না। যখন তৈরি করিতেন, সারাদিন খই-মুড়ি চিবাইয়া মুখে যা করিয়া ফেলিতাম। আজও মুড়ি খাওয়ার লোভ আমার যায় নাই। গরম মুড়ি পাইলে আমি রাজভোগও ছাড়িতে পারি। সেদিন আমাদের গ্রামের এক বাড়ির কাছ দিয়া যাইতেছি। দেখিলাম তাহারা গরম মুড়ি ভাজিতেছে। আমি যাইয়া আঁচল পাতিয়া বসিলাম। সম্পর্কে আমার দাদি, হামিজদ্দির মা আমাকে মুড়ি দিতে দিতে বলিল, “সেই আগেকার ছোঁচা জসীম তেমনি আছে।” বাড়ির বউরা ঘোমটার আড়ালে হাসিতে লাগিল।

চলবে…