০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

পুনর্ব্যবহৃত উপকরণে ব্রিটেনে বিরল খনিজ চুম্বকের নতুন যুগ, চীনের আধিপত্য ভাঙতে মাঠে নামল মক্যাঙ্গো

ব্রিটেনে বিরল খনিজ ভিত্তিক শিল্পে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন অধ্যায় শুরু হলো। পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ ব্যবহার করে স্থায়ী চুম্বক উৎপাদনের প্রথম বাণিজ্যিক কারখানা চালু করেছে কানাডা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মক্যাঙ্গো রিসোর্সেস। প্রায় পঁচিশ বছর পর দেশটিতে আবারও চুম্বক উৎপাদন শুরু হওয়ায় জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যান এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

চীনের নির্ভরতা কমাতে পশ্চিমা উদ্যোগ
বিশ্বের বিরল খনিজ উত্তোলন ও পরিশোধনের বড় অংশ এতদিন চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিকল্প উৎস খুঁজছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটর, বায়ু টারবাইন ও ইলেকট্রনিক পণ্যে ব্যবহৃত এই খনিজের সরবরাহ সংকট সামাল দিতে পুনর্ব্যবহার এখন সবচেয়ে দ্রুত কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্মিংহামের কারখানা ও নতুন প্রযুক্তি
ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলের বার্মিংহামে অবস্থিত এই কারখানাটি পরিচালনা করছে মক্যাঙ্গোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান হাইপ্রোম্যাগ। এখানে হাইড্রোজেনভিত্তিক একটি বিশেষ প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিত্যক্ত পণ্য থেকে চুম্বক আলাদা করে নতুন বিরল খনিজ উপাদানে রূপান্তর করে। প্রচলিত খনন ও পরিশোধনের তুলনায় এতে কার্বন নিঃসরণ অনেক কম।

সরকারি লক্ষ্য ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা
ব্রিটেন সরকার জানিয়েছে, দেশীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে চীনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙাই তাদের মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী কয়েক বছরে দেশের মোট চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ স্থানীয় খনন ও পুনর্ব্যবহার থেকে পূরণ করা হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগও বাড়ানো হয়েছে।

উৎপাদন ক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক আগ্রহ
এই কারখানায় বছরে প্রায় একশ থেকে তিনশ টন চুম্বক উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক যান নির্মাতাদের কাছ থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। একই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে বিকল্প সরবরাহ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

পুনর্ব্যবহৃত উপকরণে ব্রিটেনে বিরল খনিজ চুম্বকের নতুন যুগ, চীনের আধিপত্য ভাঙতে মাঠে নামল মক্যাঙ্গো

১১:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রিটেনে বিরল খনিজ ভিত্তিক শিল্পে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন অধ্যায় শুরু হলো। পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ ব্যবহার করে স্থায়ী চুম্বক উৎপাদনের প্রথম বাণিজ্যিক কারখানা চালু করেছে কানাডা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মক্যাঙ্গো রিসোর্সেস। প্রায় পঁচিশ বছর পর দেশটিতে আবারও চুম্বক উৎপাদন শুরু হওয়ায় জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যান এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

চীনের নির্ভরতা কমাতে পশ্চিমা উদ্যোগ
বিশ্বের বিরল খনিজ উত্তোলন ও পরিশোধনের বড় অংশ এতদিন চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিকল্প উৎস খুঁজছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটর, বায়ু টারবাইন ও ইলেকট্রনিক পণ্যে ব্যবহৃত এই খনিজের সরবরাহ সংকট সামাল দিতে পুনর্ব্যবহার এখন সবচেয়ে দ্রুত কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্মিংহামের কারখানা ও নতুন প্রযুক্তি
ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলের বার্মিংহামে অবস্থিত এই কারখানাটি পরিচালনা করছে মক্যাঙ্গোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান হাইপ্রোম্যাগ। এখানে হাইড্রোজেনভিত্তিক একটি বিশেষ প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিত্যক্ত পণ্য থেকে চুম্বক আলাদা করে নতুন বিরল খনিজ উপাদানে রূপান্তর করে। প্রচলিত খনন ও পরিশোধনের তুলনায় এতে কার্বন নিঃসরণ অনেক কম।

সরকারি লক্ষ্য ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা
ব্রিটেন সরকার জানিয়েছে, দেশীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে চীনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙাই তাদের মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী কয়েক বছরে দেশের মোট চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ স্থানীয় খনন ও পুনর্ব্যবহার থেকে পূরণ করা হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগও বাড়ানো হয়েছে।

উৎপাদন ক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক আগ্রহ
এই কারখানায় বছরে প্রায় একশ থেকে তিনশ টন চুম্বক উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক যান নির্মাতাদের কাছ থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। একই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে বিকল্প সরবরাহ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।