১১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩০)

স্বাধীনতার পরও বেশ কিছুদিন ক্বাসিদার চল ছিল। এখন তা বিলুপ্ত। কারণ, পুরনো মহল্লাগুলি নেই।

বাইরের মহল্লার সঙ্গে আমাদের মহল্লার কাসিদার প্রতিযোগিতা হতো। বাইরে যারা আসত ওরা খবর দিয়ে আসত আজ আমরা আসব, তোমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য।

আমাদের মহল্লায় দুটো দল হতো-একটা বড়দের, আরেকটা ছোটদের। বড়দের দলের নেতা ছিলেন আমার দাদাভাই নাজির হোসেন, আর ছোটদের। দলের নেতা ছিলাম আমি। আমরা বাড়ি বাড়ি যেতাম, কাসিদা গেয়ে একটাকা বা আটআনা বা চারআনা চাঁদা তুলতাম।

পরে সে-টাকা দিয়ে আবার সাতাশ রমজানের রাতে পোলাও রান্না করে নিজেরা খেতাম, মহল্লায়। বিলাতাম। মহল্লায় পুরো মাস ঘুরে ঘুরে চলত। আমাদের এই চাঁদা সংগ্রহের অভিযান।

আমাদের মতো আরেক ধরনের লোক ছিল যারা মহল্লার মধ্যে ঘুরে ঘুরে ‘উঠো রোজদারো, সেহরিকা ওয়াক্ত হো গিয়া’, ‘উঠো রোজদারো, চার বাজ গায়া’, কিংবা ‘উঠো রোজদারো, সেহেরিকা ওয়াক্ত খাতাম হো নে চালা’, বলে চেঁচিয়ে ঘুম থেকে তুলত লোকদের। ওদের হাতে থাকত টিনের একটা চোঙ। গ্রামগঞ্জে অনেক লোককে এরকম চোঙ হাতে নিয়ে ওষুধ বিক্রি করতে দেখা যায় এখনো।”

স্বাধীনতার পরও বেশ কিছুদিন ক্বাসিদার চল ছিল। এখন তা বিলুপ্ত। কারণ, পুরনো মহল্লাগুলি নেই। কৃৎকৌশল উন্নতির কারণে বাইরে থেকে ডেকে কাউকে আর জাগিয়ে দিতে হয় না।

(চলবে)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩০)

০৭:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

স্বাধীনতার পরও বেশ কিছুদিন ক্বাসিদার চল ছিল। এখন তা বিলুপ্ত। কারণ, পুরনো মহল্লাগুলি নেই।

বাইরের মহল্লার সঙ্গে আমাদের মহল্লার কাসিদার প্রতিযোগিতা হতো। বাইরে যারা আসত ওরা খবর দিয়ে আসত আজ আমরা আসব, তোমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য।

আমাদের মহল্লায় দুটো দল হতো-একটা বড়দের, আরেকটা ছোটদের। বড়দের দলের নেতা ছিলেন আমার দাদাভাই নাজির হোসেন, আর ছোটদের। দলের নেতা ছিলাম আমি। আমরা বাড়ি বাড়ি যেতাম, কাসিদা গেয়ে একটাকা বা আটআনা বা চারআনা চাঁদা তুলতাম।

পরে সে-টাকা দিয়ে আবার সাতাশ রমজানের রাতে পোলাও রান্না করে নিজেরা খেতাম, মহল্লায়। বিলাতাম। মহল্লায় পুরো মাস ঘুরে ঘুরে চলত। আমাদের এই চাঁদা সংগ্রহের অভিযান।

আমাদের মতো আরেক ধরনের লোক ছিল যারা মহল্লার মধ্যে ঘুরে ঘুরে ‘উঠো রোজদারো, সেহরিকা ওয়াক্ত হো গিয়া’, ‘উঠো রোজদারো, চার বাজ গায়া’, কিংবা ‘উঠো রোজদারো, সেহেরিকা ওয়াক্ত খাতাম হো নে চালা’, বলে চেঁচিয়ে ঘুম থেকে তুলত লোকদের। ওদের হাতে থাকত টিনের একটা চোঙ। গ্রামগঞ্জে অনেক লোককে এরকম চোঙ হাতে নিয়ে ওষুধ বিক্রি করতে দেখা যায় এখনো।”

স্বাধীনতার পরও বেশ কিছুদিন ক্বাসিদার চল ছিল। এখন তা বিলুপ্ত। কারণ, পুরনো মহল্লাগুলি নেই। কৃৎকৌশল উন্নতির কারণে বাইরে থেকে ডেকে কাউকে আর জাগিয়ে দিতে হয় না।

(চলবে)