০১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়, চাপে মূলধারার রাজনীতি নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের এক বছর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না: কার্কি ‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬২)

বাঙালির খাবার হয়তো বলা যাবে। শহর যখন মেট্রোপলিটন হয়ে ওঠে তখন তা হয় মিশ্রণ, স্থানীয় বৈশিষ্ট্য তখন দ্রুত লোপ পায়।

ঢাকায় একসময় উনিশ শতকের শেষার্ধ থেকে বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত নানা রকম কোরমা পাওয়া যেত। পূর্ব বাংলার বিভিন্ন জায়গায় যেসব মিষ্টির উৎপত্তি হয়েছিল সেগুলো ঢাকায় পাওয়া যেত। তবে নকুলদানাকে ঢাকাইয়া মিষ্টি বলতে পারি। ছোট আকারের চিনি দিয়ে তৈরি বুন্দিয়া থেকে একটু বড়, ভেতরে থাকত একটি বুটের দানা।

গরুর মাংসের কোরমা 

শরবত জাতীয় পানীয়ের মধ্যে টিকে আছে বোরহানি। ভিনেগার, চিনি ও পুদিনা পাতা দিয়ে তৈরি হতো সিকান দাবিন। গ্রীষ্মপ্রধান হওয়ায় ঢাকায় তা বেশ প্রচলিত ছিল এবং এর উপাদানও ছিল সীমিত। আজ বিয়ের আসরে আবশ্যক হিসেবে যে পানীয়টি থাকে তা হলো বোরহানি। এই বোরহানির ভিত্তি খুব সম্ভব সিকান জাবিন। তবে, নতুন কিছু উপাদান এতে যুক্ত হয়েছে। উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে হয়তো তা আছে কিন্তু আমি দেখিনি।

এটিকে ঢাকার পানীয় হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। মুঘল আমল থেকে এখন পর্যন্ত কয়েকটি খাবারই এখনও টিকে আছে। এবং শ্রেণি, ধর্মভেদে সবাই তা গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। যেমন, মোরগ গোলাও, তেহারি, (সর্বজনগ্রাহ্য করতে গরুর মাংসের বদলে খাসির মাংস। বিভিন্ন রকমের পোলাও, কিছু কোফতা, বিশেষ করে মাছের। তবে, সেগুলো নিত্যদিনের খাবার নয়, অনুষ্ঠানের বা মাঝে মাঝে মুখ বদলানো জন্য মিষ্টি।

ভর্তা, শরবতের বিভিন্ন ধরন একই ছিল। এখনও আছে যার কোনোটিকে ঢাকাই খাবার বলা যাবে না। বাঙালির খাবার হয়তো বলা যাবে। শহর যখন মেট্রোপলিটন হয়ে ওঠে তখন তা হয় মিশ্রণ, স্থানীয় বৈশিষ্ট্য তখন দ্রুত লোপ পায়। কিছু কিছু হয়তো টিকে থাকে কিন্তু অর্থের কারণে উপাদান বদলায়। যেমন, মুঘল ও পরবর্তী আমলে বিশেষ খাবারে জাফরান ব্যবহৃত হতোই, এখন হয় না।

মশলা, ঘি দামের কারণে ব্যবহৃত হয় কম, ব্যবহৃত হয় সাধারণ মশলা যেখানে উদ্ভাবনী সময়ে তৈরি খাবারের স্বাদ পাওয়া যায় না। সব শহরেই এমনটি ঘটেছে, এখানেই বা তা ব্যতিক্রম হবে কেন?

(চলবে)

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬২)

০৭:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

বাঙালির খাবার হয়তো বলা যাবে। শহর যখন মেট্রোপলিটন হয়ে ওঠে তখন তা হয় মিশ্রণ, স্থানীয় বৈশিষ্ট্য তখন দ্রুত লোপ পায়।

ঢাকায় একসময় উনিশ শতকের শেষার্ধ থেকে বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত নানা রকম কোরমা পাওয়া যেত। পূর্ব বাংলার বিভিন্ন জায়গায় যেসব মিষ্টির উৎপত্তি হয়েছিল সেগুলো ঢাকায় পাওয়া যেত। তবে নকুলদানাকে ঢাকাইয়া মিষ্টি বলতে পারি। ছোট আকারের চিনি দিয়ে তৈরি বুন্দিয়া থেকে একটু বড়, ভেতরে থাকত একটি বুটের দানা।

গরুর মাংসের কোরমা 

শরবত জাতীয় পানীয়ের মধ্যে টিকে আছে বোরহানি। ভিনেগার, চিনি ও পুদিনা পাতা দিয়ে তৈরি হতো সিকান দাবিন। গ্রীষ্মপ্রধান হওয়ায় ঢাকায় তা বেশ প্রচলিত ছিল এবং এর উপাদানও ছিল সীমিত। আজ বিয়ের আসরে আবশ্যক হিসেবে যে পানীয়টি থাকে তা হলো বোরহানি। এই বোরহানির ভিত্তি খুব সম্ভব সিকান জাবিন। তবে, নতুন কিছু উপাদান এতে যুক্ত হয়েছে। উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে হয়তো তা আছে কিন্তু আমি দেখিনি।

এটিকে ঢাকার পানীয় হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। মুঘল আমল থেকে এখন পর্যন্ত কয়েকটি খাবারই এখনও টিকে আছে। এবং শ্রেণি, ধর্মভেদে সবাই তা গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। যেমন, মোরগ গোলাও, তেহারি, (সর্বজনগ্রাহ্য করতে গরুর মাংসের বদলে খাসির মাংস। বিভিন্ন রকমের পোলাও, কিছু কোফতা, বিশেষ করে মাছের। তবে, সেগুলো নিত্যদিনের খাবার নয়, অনুষ্ঠানের বা মাঝে মাঝে মুখ বদলানো জন্য মিষ্টি।

ভর্তা, শরবতের বিভিন্ন ধরন একই ছিল। এখনও আছে যার কোনোটিকে ঢাকাই খাবার বলা যাবে না। বাঙালির খাবার হয়তো বলা যাবে। শহর যখন মেট্রোপলিটন হয়ে ওঠে তখন তা হয় মিশ্রণ, স্থানীয় বৈশিষ্ট্য তখন দ্রুত লোপ পায়। কিছু কিছু হয়তো টিকে থাকে কিন্তু অর্থের কারণে উপাদান বদলায়। যেমন, মুঘল ও পরবর্তী আমলে বিশেষ খাবারে জাফরান ব্যবহৃত হতোই, এখন হয় না।

মশলা, ঘি দামের কারণে ব্যবহৃত হয় কম, ব্যবহৃত হয় সাধারণ মশলা যেখানে উদ্ভাবনী সময়ে তৈরি খাবারের স্বাদ পাওয়া যায় না। সব শহরেই এমনটি ঘটেছে, এখানেই বা তা ব্যতিক্রম হবে কেন?

(চলবে)