০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৭৬)

লালবাগের সুন্দর একটি তৈলচিত্র পাই তা জোফ্ফানি বা অন্য যে কারো হতে পারে।

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ, শামীমের বইটিতে যে তেলচিত্রটি ছাপা হয়েছে তার রঙের ব্যবহার এক রকম। ওয়াকারের প্রবন্ধে ছাপা চিত্রটির রং আরেক রকম। হয়তো ওয়াকারের প্রবন্ধে ছাপা তৈলচিত্রটি সংস্কার বা পরিচ্ছন্ন করার পর তোলা।

লালবাগের দক্ষিণ ফটকের ছবিটি ডিটেলসে ভরপুর। শামীমের বইতে ছাপা প্রতিচিত্রে লালবাগের ফটকের জীর্ণদশা চোখে পড়ে, আলোছায়ায় এখানে ডিটেলসে যে কাজ তা পরবর্তীকালের চিত্রকরদের মধ্যে অনুপস্থিত। ফটকের বাইরে বিভিন্ন ভঙ্গিতে কিছু ফিগার। এর মধ্যে সামনে শাড়ি পরা ও শিশুর হাত ধরে থাকা রমণীটি দেশীয়। ছাগল, কুকুর দেশীয় আবহটা ফুটিয়ে তুলেছে। এ ফিগারগুলি না থাকলে এটি উত্তর ভারতের যে কোনো দৃশ্য বলে চালিয়ে দেয়া যেতে পারে।

ঢাকার প্রথম ওয়াটার ওয়ার্কস, হেনরি মোলসওয়ার্থ, জলরং, ১৮৭৭

এখানে সবচেয়ে ব্যতিক্রম একটি উট। ঢাকায় তখন উটের ব্যবহার ছিল বা উট দেখা যেত এমন কোনো বিবরণ চোখে পড়ে না। হাতি ছিল এবং পরবর্তীকালে অনেকের, বিশেষ করে ডয়লির ছবিতে হাতির দেখা পাওয়া যায়, বিভিন্ন বিবরণেও। উচাট তিনি কেন ব্যবহার করলেন? বৈচিত্র্য আনার জন্য? নাকি লালবাগ ফটকের কোনো আলোকচিত্র বা রেখাচিত্র দেখে ফটকের ছবিটি কল্পনার মাধুরী মিশিয়ে কলকাতায় বসে এঁকেছিলেন? ঢাকা সম্পর্কে যেহেতু তাঁর কোনো ধারণা ছিল না, তাই উটের ছবিটি বসিয়ে দিয়েছেন। আসলে এসম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা যাবে না। শুধু বলা যাবে, লালবাগের সুন্দর একটি তৈলচিত্র পাই তা জোফ্ফানি বা অন্য যে কারো হতে পারে।

শামীম উল্লেখ করেছেন, হোম একটি তৈলচিত্র এঁকেছিলেন এবং ধরে নিতে পারি সেটি লালবাগ দুর্গের প্রাকার নিয়ে আঁকা। যদিও ওয়াকার একবার এটি অজানা এক ইউরোপীয় শিল্পীর ছবি, ১৮০০, আরেকবার রবার্ট হোম, ১৭৯৯ বলে উল্লেখ করেছেন। হোম ১৭৯৮-৯৯ সালে ঢাকা এসেছিলেন। সুতরাং অনুমান করে নিতে পারি এটি ১৭৯৯ সালে আঁকা এবং শিল্পী রবার্ট হোম।

(চলবে)

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৭৬)

০৭:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

লালবাগের সুন্দর একটি তৈলচিত্র পাই তা জোফ্ফানি বা অন্য যে কারো হতে পারে।

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ, শামীমের বইটিতে যে তেলচিত্রটি ছাপা হয়েছে তার রঙের ব্যবহার এক রকম। ওয়াকারের প্রবন্ধে ছাপা চিত্রটির রং আরেক রকম। হয়তো ওয়াকারের প্রবন্ধে ছাপা তৈলচিত্রটি সংস্কার বা পরিচ্ছন্ন করার পর তোলা।

লালবাগের দক্ষিণ ফটকের ছবিটি ডিটেলসে ভরপুর। শামীমের বইতে ছাপা প্রতিচিত্রে লালবাগের ফটকের জীর্ণদশা চোখে পড়ে, আলোছায়ায় এখানে ডিটেলসে যে কাজ তা পরবর্তীকালের চিত্রকরদের মধ্যে অনুপস্থিত। ফটকের বাইরে বিভিন্ন ভঙ্গিতে কিছু ফিগার। এর মধ্যে সামনে শাড়ি পরা ও শিশুর হাত ধরে থাকা রমণীটি দেশীয়। ছাগল, কুকুর দেশীয় আবহটা ফুটিয়ে তুলেছে। এ ফিগারগুলি না থাকলে এটি উত্তর ভারতের যে কোনো দৃশ্য বলে চালিয়ে দেয়া যেতে পারে।

ঢাকার প্রথম ওয়াটার ওয়ার্কস, হেনরি মোলসওয়ার্থ, জলরং, ১৮৭৭

এখানে সবচেয়ে ব্যতিক্রম একটি উট। ঢাকায় তখন উটের ব্যবহার ছিল বা উট দেখা যেত এমন কোনো বিবরণ চোখে পড়ে না। হাতি ছিল এবং পরবর্তীকালে অনেকের, বিশেষ করে ডয়লির ছবিতে হাতির দেখা পাওয়া যায়, বিভিন্ন বিবরণেও। উচাট তিনি কেন ব্যবহার করলেন? বৈচিত্র্য আনার জন্য? নাকি লালবাগ ফটকের কোনো আলোকচিত্র বা রেখাচিত্র দেখে ফটকের ছবিটি কল্পনার মাধুরী মিশিয়ে কলকাতায় বসে এঁকেছিলেন? ঢাকা সম্পর্কে যেহেতু তাঁর কোনো ধারণা ছিল না, তাই উটের ছবিটি বসিয়ে দিয়েছেন। আসলে এসম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা যাবে না। শুধু বলা যাবে, লালবাগের সুন্দর একটি তৈলচিত্র পাই তা জোফ্ফানি বা অন্য যে কারো হতে পারে।

শামীম উল্লেখ করেছেন, হোম একটি তৈলচিত্র এঁকেছিলেন এবং ধরে নিতে পারি সেটি লালবাগ দুর্গের প্রাকার নিয়ে আঁকা। যদিও ওয়াকার একবার এটি অজানা এক ইউরোপীয় শিল্পীর ছবি, ১৮০০, আরেকবার রবার্ট হোম, ১৭৯৯ বলে উল্লেখ করেছেন। হোম ১৭৯৮-৯৯ সালে ঢাকা এসেছিলেন। সুতরাং অনুমান করে নিতে পারি এটি ১৭৯৯ সালে আঁকা এবং শিল্পী রবার্ট হোম।

(চলবে)