০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

পয়লা বৈশাখে মাছের রাজনীতি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে সংস্কৃতি আর প্রচারের অদ্ভুত মেলবন্ধন

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের উত্তাপে পয়লা বৈশাখ যেন হয়ে উঠল রাজনৈতিক বার্তার বড় মঞ্চ। বাঙালির নতুন বছরকে ঘিরে মাছ আর ভাতের ঐতিহ্য এবার সরাসরি জায়গা করে নিল নির্বাচনী প্রচারে, যেখানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নিজেদের বাঙালিত্ব তুলে ধরতে হাতে তুলে নিলেন মাছ।

নির্বাচনের আবহে পশ্চিমবঙ্গের রাস্তাঘাটে এবার দেখা গেল এক অন্যরকম প্রচারচিত্র। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মাছ হাতে নিয়ে ভোট প্রচারে নামেন। এই উদ্যোগে স্পষ্ট বার্তা—বাঙালির সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিচয়ের সঙ্গে নিজেদের একাত্মতা দেখাতে চাইছে রাজনৈতিক দলগুলো।

সংস্কৃতির ভাষায় রাজনৈতিক বার্তা
কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে প্রার্থীদের হাতে বড় মাছ, সাজানো অবস্থায়, আর তার সঙ্গে প্রচার মিছিল। “মাছে-ভাতে বাঙালি”—এই পরিচিত স্লোগানকে সামনে রেখেই প্রচার চালানো হয়। অনেক প্রার্থী মনে করছেন, বাঙালির সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক এই মাছ, তাই এর মাধ্যমেই ভোটারদের কাছে পৌঁছানো সহজ।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের প্রার্থীরাও একই পথে হেঁটেছেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাছ হাতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনও বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা নেই। এতে করে নিরামিষ বনাম আমিষ বিতর্ককে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বার্তা আরও জোরদার হয়েছে।

Why Bangladesh’s renamed New Year parade set off a controversy

খাদ্যাভ্যাসকে ঘিরে রাজনৈতিক তর্ক
নির্বাচনী প্রচারে এবার খাদ্যাভ্যাস একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। কে বাঙালির সংস্কৃতির কাছে, আর কে দূরে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে উত্তপ্ত হয়েছে রাজনীতি। শাসকদল একদিকে নিজেদের বাঙালি সংস্কৃতির রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধী দল সেই ভাবমূর্তি ভাঙতে মরিয়া।

পয়লা বৈশাখের মঞ্চে ঐতিহ্যের প্রদর্শন
শুধু মাছ নিয়ে প্রচারই নয়, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নেতাদের দেখা গেছে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মন্দিরে পূজা দিতে। ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান-বাজনা—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে এক সাংস্কৃতিক প্রদর্শনের মঞ্চ, যেখানে রাজনীতি আর সংস্কৃতি মিশে গেছে একসঙ্গে।

কেউ মিছিল করেছেন, কেউ নাচ-গানে অংশ নিয়েছেন, আবার কেউ কীর্তনে যোগ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রতিটি দলই চেষ্টা করেছে নিজেদের বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হিসেবে তুলে ধরতে।

File:Bengali New Year Celebration (Pohela Boishakh) 1430.jpg - Wikimedia  Commons

 

পরিচয়ের রাজনীতি আরও স্পষ্ট
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে একটি বিষয়—পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বাঙালি পরিচয় এখন অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। ভোটের লড়াই শুধু উন্নয়ন বা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিচয়ের প্রশ্নেও লড়াই তীব্র হচ্ছে।

পয়লা বৈশাখ তাই এবার শুধু উৎসব নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার এক বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে, যেখানে মাছ হয়ে উঠেছে প্রতীক, আর বাঙালিত্বই মূল আলোচনার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

পয়লা বৈশাখে মাছের রাজনীতি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে সংস্কৃতি আর প্রচারের অদ্ভুত মেলবন্ধন

১২:২৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের উত্তাপে পয়লা বৈশাখ যেন হয়ে উঠল রাজনৈতিক বার্তার বড় মঞ্চ। বাঙালির নতুন বছরকে ঘিরে মাছ আর ভাতের ঐতিহ্য এবার সরাসরি জায়গা করে নিল নির্বাচনী প্রচারে, যেখানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নিজেদের বাঙালিত্ব তুলে ধরতে হাতে তুলে নিলেন মাছ।

নির্বাচনের আবহে পশ্চিমবঙ্গের রাস্তাঘাটে এবার দেখা গেল এক অন্যরকম প্রচারচিত্র। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মাছ হাতে নিয়ে ভোট প্রচারে নামেন। এই উদ্যোগে স্পষ্ট বার্তা—বাঙালির সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিচয়ের সঙ্গে নিজেদের একাত্মতা দেখাতে চাইছে রাজনৈতিক দলগুলো।

সংস্কৃতির ভাষায় রাজনৈতিক বার্তা
কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে প্রার্থীদের হাতে বড় মাছ, সাজানো অবস্থায়, আর তার সঙ্গে প্রচার মিছিল। “মাছে-ভাতে বাঙালি”—এই পরিচিত স্লোগানকে সামনে রেখেই প্রচার চালানো হয়। অনেক প্রার্থী মনে করছেন, বাঙালির সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক এই মাছ, তাই এর মাধ্যমেই ভোটারদের কাছে পৌঁছানো সহজ।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের প্রার্থীরাও একই পথে হেঁটেছেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাছ হাতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনও বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা নেই। এতে করে নিরামিষ বনাম আমিষ বিতর্ককে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বার্তা আরও জোরদার হয়েছে।

Why Bangladesh’s renamed New Year parade set off a controversy

খাদ্যাভ্যাসকে ঘিরে রাজনৈতিক তর্ক
নির্বাচনী প্রচারে এবার খাদ্যাভ্যাস একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। কে বাঙালির সংস্কৃতির কাছে, আর কে দূরে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে উত্তপ্ত হয়েছে রাজনীতি। শাসকদল একদিকে নিজেদের বাঙালি সংস্কৃতির রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধী দল সেই ভাবমূর্তি ভাঙতে মরিয়া।

পয়লা বৈশাখের মঞ্চে ঐতিহ্যের প্রদর্শন
শুধু মাছ নিয়ে প্রচারই নয়, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নেতাদের দেখা গেছে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মন্দিরে পূজা দিতে। ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান-বাজনা—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে এক সাংস্কৃতিক প্রদর্শনের মঞ্চ, যেখানে রাজনীতি আর সংস্কৃতি মিশে গেছে একসঙ্গে।

কেউ মিছিল করেছেন, কেউ নাচ-গানে অংশ নিয়েছেন, আবার কেউ কীর্তনে যোগ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রতিটি দলই চেষ্টা করেছে নিজেদের বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হিসেবে তুলে ধরতে।

File:Bengali New Year Celebration (Pohela Boishakh) 1430.jpg - Wikimedia  Commons

 

পরিচয়ের রাজনীতি আরও স্পষ্ট
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে একটি বিষয়—পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বাঙালি পরিচয় এখন অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। ভোটের লড়াই শুধু উন্নয়ন বা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিচয়ের প্রশ্নেও লড়াই তীব্র হচ্ছে।

পয়লা বৈশাখ তাই এবার শুধু উৎসব নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার এক বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে, যেখানে মাছ হয়ে উঠেছে প্রতীক, আর বাঙালিত্বই মূল আলোচনার বিষয়।