০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ফক্স নিউজে গিয়ে টিকে থাকার কঠিন পাঠ শিখছেন মার্কিন প্রগতিশীলরা

মার্কিন রাজনীতিতে প্রগতিশীল ও বামপন্থী নেতাদের জন্য রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমে কথা বলা এখন আর শুধু রাজনৈতিক ঝুঁকি নয়, বরং নিজেদের বক্তব্য বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কৌশলও হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকার দেওয়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে।

ভিন্ন মতের দর্শকের সামনে নিজেদের বক্তব্য

২০২৮ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন পিট বুটিগিগ বহুদিন ধরেই ফক্স নিউজে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই তিনি এই কৌশল অনুসরণ করছেন। তাঁর যুক্তি ছিল, যেসব দর্শক সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্য শোনেন না, তাদের কাছেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা প্রয়োজন।

এখন প্রগতিশীলরাও একই ধরনের কৌশলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। চলমান নির্বাচনী পর্বে রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলো বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রীদের নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা করছে। ফলে ফক্স নিউজে গিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়াকে কেউ কেউ নিজেদের অবস্থান সরাসরি ব্যাখ্যা করার এবং একই সঙ্গে বৃহত্তর পরিসরে পরিচিতি পাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

বামপন্থী সংগঠকদের মতে, অতীতে তাদের কেবল মূলধারার সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় খুব একটা জায়গা দেওয়া হতো না। এখন সেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলাচ্ছে। ফলে নিজেদের বক্তব্য এমন দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যারা তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সাধারণত একমত নন।

প্রগতিশীল প্রার্থীদের নতুন কৌশল

এ গ্রীষ্মে বেশ কয়েকজন প্রগতিশীল প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতা ফক্স নিউজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের প্রার্থী ক্রিস রব, উইসকনসিনের অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা হং এবং নিউইয়র্ক শহরের ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রীদের সংগঠনের সহসভাপতি গুস্তাভো গর্ডিয়ো তাদের মধ্যে রয়েছেন।

তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, নিজেদের মতাদর্শের বাইরে থাকা দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে হলে এমন মঞ্চ এড়িয়ে গেলে চলবে না। বরং প্রতিপক্ষের দর্শকের সামনে গিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরাই রাজনৈতিকভাবে বেশি কার্যকর হতে পারে।

তবে এ ধরনের সাক্ষাৎকার সহজ নয়। রক্ষণশীল উপস্থাপকদের কঠিন প্রশ্ন, বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এবং আক্রমণাত্মক আলোচনার মধ্যেও প্রার্থীদের নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার রাখতে হয়। সামান্য ভুল বক্তব্যও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রচারের উপকরণ হয়ে উঠতে পারে।

‘উপস্থাপককে হারানো’ নয়, দর্শকের মন জয়

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্নাও মাঝেমধ্যে ফক্স নিউজে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। তাঁর কৌশল অবশ্য উপস্থাপককে বিতর্কে হারানোর চেয়ে ভিন্ন।

খান্নার লক্ষ্য হলো, অনুষ্ঠানের দর্শকদের মনে এমন ধারণা তৈরি করা যে তিনি নিজের দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসেন, সব মার্কিন নাগরিকের জন্য ভবিষ্যতের অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে তাঁর বাস্তব চিন্তা রয়েছে এবং তিনি একজন ভদ্র ও গ্রহণযোগ্য মানুষ।

তাঁর মতে, তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও সাধারণ জায়গা খুঁজে বের করাই এ ধরনের সাক্ষাৎকারের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিশাল দর্শকসংখ্যার কারণে গুরুত্ব বাড়ছে

ফক্স নিউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিলসেনের দর্শকসংখ্যার হিসাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি দেখা কেবল সংবাদ নেটওয়ার্ক। প্রাইমটাইমে গড়ে প্রায় ২৫ লাখ দর্শক এর অনুষ্ঠান দেখেন।

এই বিশাল দর্শকগোষ্ঠীই প্রগতিশীল রাজনীতিকদের আকৃষ্ট করছে। কারণ, তাদের বক্তব্য যদি কেবল নিজেদের সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে নতুন ভোটারদের কাছে পৌঁছানো কঠিন। বিপরীত মতাদর্শের দর্শকদের সামনে সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে জয়ী এল-সাইয়েদও ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ওয়াল্টার্সের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ছিল নেটওয়ার্কটিতে তৃতীয় সাক্ষাৎকার এবং আগস্টের শুরুতে প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ের পর প্রথমবার।

প্রগতিশীলদের জন্য বার্তাটি এখন পরিষ্কার—নিজেদের রাজনৈতিক পরিসরের বাইরে গিয়ে কথা বলার ঝুঁকি আছে, কিন্তু সেই ঝুঁকি নিলে এমন ভোটারদের কাছেও পৌঁছানো সম্ভব, যাদের কাছে প্রচলিত রাজনৈতিক প্রচারণা সহজে পৌঁছায় না।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ফক্স নিউজে গিয়ে টিকে থাকার কঠিন পাঠ শিখছেন মার্কিন প্রগতিশীলরা

০৩:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন রাজনীতিতে প্রগতিশীল ও বামপন্থী নেতাদের জন্য রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমে কথা বলা এখন আর শুধু রাজনৈতিক ঝুঁকি নয়, বরং নিজেদের বক্তব্য বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কৌশলও হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকার দেওয়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে।

ভিন্ন মতের দর্শকের সামনে নিজেদের বক্তব্য

২০২৮ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন পিট বুটিগিগ বহুদিন ধরেই ফক্স নিউজে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই তিনি এই কৌশল অনুসরণ করছেন। তাঁর যুক্তি ছিল, যেসব দর্শক সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্য শোনেন না, তাদের কাছেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা প্রয়োজন।

এখন প্রগতিশীলরাও একই ধরনের কৌশলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। চলমান নির্বাচনী পর্বে রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলো বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রীদের নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা করছে। ফলে ফক্স নিউজে গিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়াকে কেউ কেউ নিজেদের অবস্থান সরাসরি ব্যাখ্যা করার এবং একই সঙ্গে বৃহত্তর পরিসরে পরিচিতি পাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

বামপন্থী সংগঠকদের মতে, অতীতে তাদের কেবল মূলধারার সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় খুব একটা জায়গা দেওয়া হতো না। এখন সেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলাচ্ছে। ফলে নিজেদের বক্তব্য এমন দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যারা তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সাধারণত একমত নন।

প্রগতিশীল প্রার্থীদের নতুন কৌশল

এ গ্রীষ্মে বেশ কয়েকজন প্রগতিশীল প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতা ফক্স নিউজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের প্রার্থী ক্রিস রব, উইসকনসিনের অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা হং এবং নিউইয়র্ক শহরের ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রীদের সংগঠনের সহসভাপতি গুস্তাভো গর্ডিয়ো তাদের মধ্যে রয়েছেন।

তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, নিজেদের মতাদর্শের বাইরে থাকা দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে হলে এমন মঞ্চ এড়িয়ে গেলে চলবে না। বরং প্রতিপক্ষের দর্শকের সামনে গিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরাই রাজনৈতিকভাবে বেশি কার্যকর হতে পারে।

তবে এ ধরনের সাক্ষাৎকার সহজ নয়। রক্ষণশীল উপস্থাপকদের কঠিন প্রশ্ন, বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এবং আক্রমণাত্মক আলোচনার মধ্যেও প্রার্থীদের নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার রাখতে হয়। সামান্য ভুল বক্তব্যও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রচারের উপকরণ হয়ে উঠতে পারে।

‘উপস্থাপককে হারানো’ নয়, দর্শকের মন জয়

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্নাও মাঝেমধ্যে ফক্স নিউজে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। তাঁর কৌশল অবশ্য উপস্থাপককে বিতর্কে হারানোর চেয়ে ভিন্ন।

খান্নার লক্ষ্য হলো, অনুষ্ঠানের দর্শকদের মনে এমন ধারণা তৈরি করা যে তিনি নিজের দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসেন, সব মার্কিন নাগরিকের জন্য ভবিষ্যতের অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে তাঁর বাস্তব চিন্তা রয়েছে এবং তিনি একজন ভদ্র ও গ্রহণযোগ্য মানুষ।

তাঁর মতে, তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও সাধারণ জায়গা খুঁজে বের করাই এ ধরনের সাক্ষাৎকারের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিশাল দর্শকসংখ্যার কারণে গুরুত্ব বাড়ছে

ফক্স নিউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিলসেনের দর্শকসংখ্যার হিসাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি দেখা কেবল সংবাদ নেটওয়ার্ক। প্রাইমটাইমে গড়ে প্রায় ২৫ লাখ দর্শক এর অনুষ্ঠান দেখেন।

এই বিশাল দর্শকগোষ্ঠীই প্রগতিশীল রাজনীতিকদের আকৃষ্ট করছে। কারণ, তাদের বক্তব্য যদি কেবল নিজেদের সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে নতুন ভোটারদের কাছে পৌঁছানো কঠিন। বিপরীত মতাদর্শের দর্শকদের সামনে সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে জয়ী এল-সাইয়েদও ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ওয়াল্টার্সের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ছিল নেটওয়ার্কটিতে তৃতীয় সাক্ষাৎকার এবং আগস্টের শুরুতে প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ের পর প্রথমবার।

প্রগতিশীলদের জন্য বার্তাটি এখন পরিষ্কার—নিজেদের রাজনৈতিক পরিসরের বাইরে গিয়ে কথা বলার ঝুঁকি আছে, কিন্তু সেই ঝুঁকি নিলে এমন ভোটারদের কাছেও পৌঁছানো সম্ভব, যাদের কাছে প্রচলিত রাজনৈতিক প্রচারণা সহজে পৌঁছায় না।