০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুরে ৫টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ

ফরিদপুরে অব্যবস্থাপনা এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়া পরিচালনার অভিযোগে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)। মঙ্গলবার পরিচালিত অভিযানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান ও নাজমুননাহার নাঈম উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধ ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হোলি সিটি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং মা-মণি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এগুলোর বেশিরভাগই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত।

ভর্তি রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো থেকে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা উপযুক্ত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের পেছনের কারণ

গত ১৬ জুলাই আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় ১৭ বছর বয়সী কলেজছাত্রী আয়েশা আফরিনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এ ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরিদর্শনের সময় অপারেশন থিয়েটারের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে রোগী পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরের অনুপস্থিতি এবং ৩০ শয্যার হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতিসহ একাধিক ত্রুটি ধরা পড়ে।

এসব অনিয়মের ভিত্তিতে সিভিল সার্জন হাসপাতালটির সব ধরনের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. আতীকুল আহসানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

ফরিদপুরে ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

লাইসেন্স ছাড়া পরিচালনার অভিযোগ

আল-জারা হাসপাতালের পাশাপাশি এলাকায় আরও চারটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এ কারণে সেগুলোর কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে পরিচালিত কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।

আয়েশা আফরিনের অস্ত্রোপচারে জড়িত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সার্জন একজন অভিজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক হলেও ওই হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা উচিত ছিল না। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হবে।

ফরিদপুরে অনিয়মের অভিযোগে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোগীদের স্থানান্তরের নির্দেশসহ তদন্তে উঠে এসেছে গুরুতর অনিয়ম।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ফরিদপুরে ৫টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ

০৬:৪৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরে অব্যবস্থাপনা এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়া পরিচালনার অভিযোগে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)। মঙ্গলবার পরিচালিত অভিযানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান ও নাজমুননাহার নাঈম উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধ ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হোলি সিটি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং মা-মণি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এগুলোর বেশিরভাগই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত।

ভর্তি রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো থেকে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা উপযুক্ত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের পেছনের কারণ

গত ১৬ জুলাই আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় ১৭ বছর বয়সী কলেজছাত্রী আয়েশা আফরিনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এ ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরিদর্শনের সময় অপারেশন থিয়েটারের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে রোগী পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরের অনুপস্থিতি এবং ৩০ শয্যার হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতিসহ একাধিক ত্রুটি ধরা পড়ে।

এসব অনিয়মের ভিত্তিতে সিভিল সার্জন হাসপাতালটির সব ধরনের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. আতীকুল আহসানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

ফরিদপুরে ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

লাইসেন্স ছাড়া পরিচালনার অভিযোগ

আল-জারা হাসপাতালের পাশাপাশি এলাকায় আরও চারটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এ কারণে সেগুলোর কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে পরিচালিত কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।

আয়েশা আফরিনের অস্ত্রোপচারে জড়িত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সার্জন একজন অভিজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক হলেও ওই হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা উচিত ছিল না। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হবে।

ফরিদপুরে অনিয়মের অভিযোগে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোগীদের স্থানান্তরের নির্দেশসহ তদন্তে উঠে এসেছে গুরুতর অনিয়ম।