০৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদবির আড়ালে যখন নাগরিকত্বের বিচার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তারকাদের চোখধাঁধানো সাজ হিমবাহ বাঁচাতে এবার ভেড়ার উল! ফ্লাইট বদলের ব্যস্ততায় আর না খেয়ে থাকতে হবে না যাত্রীদের জন্য ইউনাইটেডের নতুন সুবিধা মিয়ামি বিমানবন্দরে কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫; জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয় চীনের যুদ্ধক্ষেত্রে আসছে মানবসদৃশ রোবট, বদলে যেতে পারে ভবিষ্যতের যুদ্ধ পোর্টসমাউথে অভিবাসীবাহী নৌকা ঘিরে পুলিশের সঙ্গে শত শত বিক্ষোভকারীর সংঘর্ষ মেয়ের জন্য বড় অভিনয়ের সুযোগ ফিরিয়ে দিলেন মিশেল কিগান উপসাগরে নতুন ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ ঘোষণা করবে ইরান, হরমুজে নতুন নৌপথের মানচিত্রও আসছে লাহোরে নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা বেড়েছে, কয়েক দিনে ধর্ষণের অভিযোগ ৬

বন্ধুদের সঙ্গে খরচ ভাগাভাগিতে জেন-জিদের জন্য দুই সহজ নিয়ম, যা বাঁচাবে সম্পর্ক ও পকেট

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া কিংবা ঘোরাঘুরির পর কে কত টাকা দেবে—এ নিয়ে হিসাব মেলানো অনেক সময় বন্ধুত্বের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি করে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে, তখন নিজের খরচের প্রতি সতর্ক থাকা স্বাভাবিক। তবে একেবারে সামান্য অঙ্কের টাকাও যদি বন্ধুদের কাছে বারবার দাবি করা হয়, তাতে সম্পর্কের উষ্ণতা নষ্ট হতে পারে।

সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে খরচ ভাগাভাগির ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে খাবার, যাতায়াত কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানোর পর কে কত টাকা দিয়েছে, তার নিখুঁত হিসাব রাখার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

সব হিসাব নিখুঁতভাবে মেলাতে হয় না

বন্ধুদের সঙ্গে চলাফেরায় কখনো একজন একটু বেশি খরচ করবেন, আবার অন্য কোনো দিন অন্যজন বেশি দেবেন—এটাই স্বাভাবিক। প্রতিটি ছোটখাটো খরচের হিসাব আলাদা করে মিলিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ধরা যাক, একদিন সবাই পানীয় কিনল, কিন্তু একজন তুলনামূলক কম দামের পানীয় নিলেন। অন্যরা হয়তো তার চেয়ে বেশি খরচ করলেন। আবার অন্য কোনো দিন সেই একই বন্ধু সবার জন্য খাবার কিনে দিতে পারেন। এভাবেই সময়ের সঙ্গে খরচের ভারসাম্য তৈরি হয়।

Millennials and Gen Zers Are Quiet Quitting Friendships, May Backfire -  Business Insider

তাই বন্ধুত্বে সামান্য এদিক-সেদিক হলে সেটিকে সব সময় দেনা-পাওনার খাতায় তোলার প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি ছেড়ে দেওয়াই সম্পর্কের জন্য ভালো।

বারবার ঠকলে ‘না’ বলতে শিখুন

তবে এর অর্থ এই নয় যে বন্ধুদের কেউ নিয়মিত আপনার আর্থিক সুবিধা নেবে আর আপনি চুপ করে থাকবেন।

যদি দেখা যায়, প্রতিবার বাইরে যাওয়ার সময় আপনাকেই তুলনামূলক বেশি খরচ করতে হচ্ছে এবং বন্ধুরা সেই সুযোগ নিচ্ছে, তাহলে সেখানে সীমারেখা তৈরি করা জরুরি। প্রয়োজনে স্পষ্টভাবে না বলতে হবে।

কেউ যদি নিয়মিত আপনার কাছ থেকে সুবিধা নেয়, তাহলে তার সঙ্গে আগের মতো সব সময় ঘোরাফেরা করার প্রয়োজনও নেই। দেখা-সাক্ষাতের ধরন বদলানো যেতে পারে। পরিস্থিতি খুব বেশি খারাপ হলে সেই সম্পর্ক থেকে দূরত্ব তৈরি করাও অস্বাভাবিক নয়।

Splitting Bills with Friends Without Awkwardness (Smart & Stress Free  Guide) - Money Saving Lab

সম্পর্কের মূল্য টাকার চেয়ে বেশি

তরুণ বয়সে অর্থের সংকট কিংবা সীমিত আয় অনেক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তাই নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতি সচেতন থাকা জরুরি। কিন্তু বন্ধুত্বকে প্রতিটি ছোট খরচের হিসাবের মধ্যে আটকে ফেললে সম্পর্কের স্বাভাবিক আনন্দ নষ্ট হতে পারে।

সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো—যেখানে সামান্য খরচের পার্থক্য রয়েছে, সেখানে বিষয়টি সহজভাবে নেওয়া; আর যেখানে নিয়মিত অন্যায় হচ্ছে, সেখানে দৃঢ়ভাবে নিজের সীমা জানানো।

সময় যত গড়াবে, আয় বাড়বে, আর্থিক অবস্থাও বদলাবে। তখন হয়তো বন্ধুদের মধ্যে কে বিল দেবে—এ নিয়ে নতুন ধরনের মজার প্রতিযোগিতাই শুরু হবে। কিন্তু তার ভিত্তি যেন থাকে পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পদবির আড়ালে যখন নাগরিকত্বের বিচার

বন্ধুদের সঙ্গে খরচ ভাগাভাগিতে জেন-জিদের জন্য দুই সহজ নিয়ম, যা বাঁচাবে সম্পর্ক ও পকেট

১০:৪২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া কিংবা ঘোরাঘুরির পর কে কত টাকা দেবে—এ নিয়ে হিসাব মেলানো অনেক সময় বন্ধুত্বের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি করে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে, তখন নিজের খরচের প্রতি সতর্ক থাকা স্বাভাবিক। তবে একেবারে সামান্য অঙ্কের টাকাও যদি বন্ধুদের কাছে বারবার দাবি করা হয়, তাতে সম্পর্কের উষ্ণতা নষ্ট হতে পারে।

সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে খরচ ভাগাভাগির ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে খাবার, যাতায়াত কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানোর পর কে কত টাকা দিয়েছে, তার নিখুঁত হিসাব রাখার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

সব হিসাব নিখুঁতভাবে মেলাতে হয় না

বন্ধুদের সঙ্গে চলাফেরায় কখনো একজন একটু বেশি খরচ করবেন, আবার অন্য কোনো দিন অন্যজন বেশি দেবেন—এটাই স্বাভাবিক। প্রতিটি ছোটখাটো খরচের হিসাব আলাদা করে মিলিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ধরা যাক, একদিন সবাই পানীয় কিনল, কিন্তু একজন তুলনামূলক কম দামের পানীয় নিলেন। অন্যরা হয়তো তার চেয়ে বেশি খরচ করলেন। আবার অন্য কোনো দিন সেই একই বন্ধু সবার জন্য খাবার কিনে দিতে পারেন। এভাবেই সময়ের সঙ্গে খরচের ভারসাম্য তৈরি হয়।

Millennials and Gen Zers Are Quiet Quitting Friendships, May Backfire -  Business Insider

তাই বন্ধুত্বে সামান্য এদিক-সেদিক হলে সেটিকে সব সময় দেনা-পাওনার খাতায় তোলার প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি ছেড়ে দেওয়াই সম্পর্কের জন্য ভালো।

বারবার ঠকলে ‘না’ বলতে শিখুন

তবে এর অর্থ এই নয় যে বন্ধুদের কেউ নিয়মিত আপনার আর্থিক সুবিধা নেবে আর আপনি চুপ করে থাকবেন।

যদি দেখা যায়, প্রতিবার বাইরে যাওয়ার সময় আপনাকেই তুলনামূলক বেশি খরচ করতে হচ্ছে এবং বন্ধুরা সেই সুযোগ নিচ্ছে, তাহলে সেখানে সীমারেখা তৈরি করা জরুরি। প্রয়োজনে স্পষ্টভাবে না বলতে হবে।

কেউ যদি নিয়মিত আপনার কাছ থেকে সুবিধা নেয়, তাহলে তার সঙ্গে আগের মতো সব সময় ঘোরাফেরা করার প্রয়োজনও নেই। দেখা-সাক্ষাতের ধরন বদলানো যেতে পারে। পরিস্থিতি খুব বেশি খারাপ হলে সেই সম্পর্ক থেকে দূরত্ব তৈরি করাও অস্বাভাবিক নয়।

Splitting Bills with Friends Without Awkwardness (Smart & Stress Free  Guide) - Money Saving Lab

সম্পর্কের মূল্য টাকার চেয়ে বেশি

তরুণ বয়সে অর্থের সংকট কিংবা সীমিত আয় অনেক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তাই নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতি সচেতন থাকা জরুরি। কিন্তু বন্ধুত্বকে প্রতিটি ছোট খরচের হিসাবের মধ্যে আটকে ফেললে সম্পর্কের স্বাভাবিক আনন্দ নষ্ট হতে পারে।

সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো—যেখানে সামান্য খরচের পার্থক্য রয়েছে, সেখানে বিষয়টি সহজভাবে নেওয়া; আর যেখানে নিয়মিত অন্যায় হচ্ছে, সেখানে দৃঢ়ভাবে নিজের সীমা জানানো।

সময় যত গড়াবে, আয় বাড়বে, আর্থিক অবস্থাও বদলাবে। তখন হয়তো বন্ধুদের মধ্যে কে বিল দেবে—এ নিয়ে নতুন ধরনের মজার প্রতিযোগিতাই শুরু হবে। কিন্তু তার ভিত্তি যেন থাকে পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব।