০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

বর্ষাতেও রংপুরে তাপপ্রবাহের দাপট, বিদ্যুৎ সংকটে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

বর্ষাকাল চললেও রংপুর অঞ্চলে স্বাভাবিক মৌসুমি আবহাওয়ার দেখা মিলছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আসায় ভাদ্র মাসের মতো তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েক দিন আগে সামান্য বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও আবারও মৃদু তাপপ্রবাহে পুড়ছে রংপুর বিভাগ। এর সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং যোগ হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৩টায় রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ৩৭ ডিগ্রি, নীলফামারীতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এসব জেলাজুড়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে এমন তীব্র গরম এখন আর ব্যতিক্রম নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রংপুর অঞ্চলের আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্রে পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অল্প সময়ের বৃষ্টির পরই দ্রুত তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বাড়ছে দুর্ভোগ

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) জানিয়েছে, বর্তমানে রংপুর বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা ৮৫০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ রয়েছে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। ঘাটতি মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিং করা হচ্ছে।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালের রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

রাস্তায় কমেছে মানুষের উপস্থিতি

প্রচণ্ড গরমের কারণে রংপুর নগরীতে দুপুরের দিকে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অস্বাভাবিক গরমের কারণে জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ মৌসুমি রোগের প্রকোপও বেড়েছে।

দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হতে পারে।

বর্ষার মাঝেও রংপুর বিভাগে তাপপ্রবাহ অব্যাহত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও জনদুর্ভোগ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

#রংপুর #তাপপ্রবাহ #জলবায়ুপরিবর্তন #লোডশেডিং #বিদ্যুৎসংকট #আবহাওয়া #পরিবেশ #বাংলাদেশ #সারাক্ষণ

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

বর্ষাতেও রংপুরে তাপপ্রবাহের দাপট, বিদ্যুৎ সংকটে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

০১:৫৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

বর্ষাকাল চললেও রংপুর অঞ্চলে স্বাভাবিক মৌসুমি আবহাওয়ার দেখা মিলছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আসায় ভাদ্র মাসের মতো তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েক দিন আগে সামান্য বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও আবারও মৃদু তাপপ্রবাহে পুড়ছে রংপুর বিভাগ। এর সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং যোগ হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৩টায় রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ৩৭ ডিগ্রি, নীলফামারীতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এসব জেলাজুড়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে এমন তীব্র গরম এখন আর ব্যতিক্রম নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রংপুর অঞ্চলের আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্রে পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অল্প সময়ের বৃষ্টির পরই দ্রুত তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বাড়ছে দুর্ভোগ

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) জানিয়েছে, বর্তমানে রংপুর বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা ৮৫০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ রয়েছে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। ঘাটতি মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিং করা হচ্ছে।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালের রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

রাস্তায় কমেছে মানুষের উপস্থিতি

প্রচণ্ড গরমের কারণে রংপুর নগরীতে দুপুরের দিকে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অস্বাভাবিক গরমের কারণে জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ মৌসুমি রোগের প্রকোপও বেড়েছে।

দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হতে পারে।

বর্ষার মাঝেও রংপুর বিভাগে তাপপ্রবাহ অব্যাহত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও জনদুর্ভোগ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

#রংপুর #তাপপ্রবাহ #জলবায়ুপরিবর্তন #লোডশেডিং #বিদ্যুৎসংকট #আবহাওয়া #পরিবেশ #বাংলাদেশ #সারাক্ষণ