০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রশংসা কুড়ালেও এর সুফল সব ক্রিকেটার সমানভাবে পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, পারিশ্রমিক বাড়লেও নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ না থাকলে আয় বাড়ার বাস্তব সুবিধা অনেক খেলোয়াড়ের কাছেই সীমিত থাকতে পারে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল বৃহস্পতিবার ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দেন। পাঁচ মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফা ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত। এর আগে গত এপ্রিলে একবার পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছিল।

প্রথম শ্রেণির ম্যাচে বড় ফি বৃদ্ধি

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি আগের তুলনায় ১১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, গত মৌসুমের তুলনায় লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে। নারী ক্রিকেটেও তিন ফরম্যাটেই ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে।

ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি 'দ্বিগুণ' করে দিলেন তামিম

তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, একজন ক্রিকেটার পুরো ঘরোয়া মৌসুম খেলতে পারলে বেতনসহ বছরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। অর্থাৎ গড়ে মাসিক আয় ৩ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।

তবে বাস্তবে পুরো মৌসুম খেলার সুযোগ কতজন পান, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের প্রতিযোগিতায় আট দলের মধ্যে মাত্র ২১ জন ক্রিকেটার সব সাতটি ম্যাচ খেলেছেন। টি-টোয়েন্টিতেও চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। রংপুর বিভাগের কোনো ক্রিকেটারই দলের ১০টি ম্যাচের সবগুলোতে খেলতে পারেননি।

খেলার সুযোগই হয়ে উঠছে মূল বিষয়

নতুন ম্যাচ ফি কাঠামো অনুযায়ী, এনসিএলের চার দিনের সাতটি ম্যাচেই খেলতে পারলে একজন ক্রিকেটার ম্যাচ ফি হিসেবে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। এর সঙ্গে প্রস্তাবিত নতুন ছয় দলীয় তিন ফরম্যাটের ঘরোয়া কাঠামো থেকে আরও ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দ্বিগুণ হলো ম্যাচ ফি, ক্রিকেটারদের বছরে আয় ৩৫ লাখ পর্যন্ত!

তবে চট্টগ্রাম বিভাগের এক ক্রিকেটারের মতে, এই সুবিধা সব খেলোয়াড়ের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হবে না। জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ রাখেন, কারণ ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি তারা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও খেলার সুযোগ পান।

দ্বিতীয় একাদশে বাড়তে পারে সুযোগ

মূল ব্যবস্থার বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য সুযোগ বাড়াতে বিসিবি জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় একাদশ চালুর প্রস্তাব করেছে। এর মাধ্যমে আরও বেশি ক্রিকেটারকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচ ফি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

ম্যাচ ফি বৃদ্ধির ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বস্তি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, সেই সুবিধা কতটা বিস্তৃত হবে তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে খেলোয়াড়দের নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগের ওপর।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন

১০:৩৯:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রশংসা কুড়ালেও এর সুফল সব ক্রিকেটার সমানভাবে পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, পারিশ্রমিক বাড়লেও নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ না থাকলে আয় বাড়ার বাস্তব সুবিধা অনেক খেলোয়াড়ের কাছেই সীমিত থাকতে পারে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল বৃহস্পতিবার ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দেন। পাঁচ মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফা ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত। এর আগে গত এপ্রিলে একবার পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছিল।

প্রথম শ্রেণির ম্যাচে বড় ফি বৃদ্ধি

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি আগের তুলনায় ১১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, গত মৌসুমের তুলনায় লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে। নারী ক্রিকেটেও তিন ফরম্যাটেই ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে।

ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি 'দ্বিগুণ' করে দিলেন তামিম

তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, একজন ক্রিকেটার পুরো ঘরোয়া মৌসুম খেলতে পারলে বেতনসহ বছরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। অর্থাৎ গড়ে মাসিক আয় ৩ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।

তবে বাস্তবে পুরো মৌসুম খেলার সুযোগ কতজন পান, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের প্রতিযোগিতায় আট দলের মধ্যে মাত্র ২১ জন ক্রিকেটার সব সাতটি ম্যাচ খেলেছেন। টি-টোয়েন্টিতেও চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। রংপুর বিভাগের কোনো ক্রিকেটারই দলের ১০টি ম্যাচের সবগুলোতে খেলতে পারেননি।

খেলার সুযোগই হয়ে উঠছে মূল বিষয়

নতুন ম্যাচ ফি কাঠামো অনুযায়ী, এনসিএলের চার দিনের সাতটি ম্যাচেই খেলতে পারলে একজন ক্রিকেটার ম্যাচ ফি হিসেবে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। এর সঙ্গে প্রস্তাবিত নতুন ছয় দলীয় তিন ফরম্যাটের ঘরোয়া কাঠামো থেকে আরও ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দ্বিগুণ হলো ম্যাচ ফি, ক্রিকেটারদের বছরে আয় ৩৫ লাখ পর্যন্ত!

তবে চট্টগ্রাম বিভাগের এক ক্রিকেটারের মতে, এই সুবিধা সব খেলোয়াড়ের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হবে না। জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ রাখেন, কারণ ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি তারা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও খেলার সুযোগ পান।

দ্বিতীয় একাদশে বাড়তে পারে সুযোগ

মূল ব্যবস্থার বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য সুযোগ বাড়াতে বিসিবি জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় একাদশ চালুর প্রস্তাব করেছে। এর মাধ্যমে আরও বেশি ক্রিকেটারকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচ ফি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

ম্যাচ ফি বৃদ্ধির ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বস্তি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, সেই সুবিধা কতটা বিস্তৃত হবে তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে খেলোয়াড়দের নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগের ওপর।