০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

বাংলাদেশে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ২৩% কমেছে, ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক সহায়তার নতুন প্রতিশ্রুতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে বৈদেশিক সহায়তার মোট প্রতিশ্রুতি দাঁড়িয়েছে ৪২২ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৪৮ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিশ্রুত সহায়তা প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে।

প্রকল্প সহায়তা কমার প্রভাব

ইআরডির বৈদেশিক সহায়তা বিষয়ক মাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নতুন প্রতিশ্রুতি কমার প্রধান কারণ প্রকল্প সহায়তায় হ্রাস। আলোচ্য সময়ে ঋণ হিসেবে প্রকল্প সহায়তার প্রতিশ্রুতি এসেছে ৪০৬ কোটি ডলার এবং অনুদান হিসেবে এসেছে প্রায় ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে প্রকল্প ঋণের প্রতিশ্রুতি ছিল ৫১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং অনুদান ছিল প্রায় ৩৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। দুই অর্থবছরেই খাদ্য সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

বৈদেশিক অর্থ ছাড় এখনও উল্লেখযোগ্য

নতুন প্রতিশ্রুতি কমলেও বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ের পরিমাণ এখনও বড় অঙ্কে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে মোট ৪৫৭ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৫৬০ কোটি ডলার।

এর মধ্যে প্রকল্প সহায়তার আওতায় ছাড় হয়েছে ৪৫৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে ঋণ ছিল ৪১৪ কোটি ডলার এবং অনুদান ছিল প্রায় ৩৯ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।

খাদ্য সহায়তা হিসেবে এ সময়ে ৪ কোটি ডলার পাওয়া গেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তুলনায় কিছুটা বেশি।

ঋণ পরিশোধে বাড়তি চাপ

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ মোট ৪১৩ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ৩৭৮ কোটি ডলার।

মোট পরিশোধিত অর্থের মধ্যে ২৬৮ কোটি ডলার ছিল মূল ঋণের কিস্তি এবং ১৪৪ কোটি ডলার ছিল সুদ পরিশোধ।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৫ হাজার ৬৭৬ কোটি ৮ লাখ টাকা।

বড় প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ পর্যায়ে

ইআরডির তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি ঋণে বাস্তবায়িত বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অনেকগুলো এখন পরিশোধ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ফলে দেশের বৈদেশিক ঋণ দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধের চাপও ক্রমশ বাড়ছে।

একদিকে নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমছে, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়ছে। ফলে বৈদেশিক অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ দায় সামলানো আগামী সময়ে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ বেড়ে ৪১৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

বাংলাদেশে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ২৩% কমেছে, ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে

০৬:১৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক সহায়তার নতুন প্রতিশ্রুতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে বৈদেশিক সহায়তার মোট প্রতিশ্রুতি দাঁড়িয়েছে ৪২২ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৪৮ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিশ্রুত সহায়তা প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে।

প্রকল্প সহায়তা কমার প্রভাব

ইআরডির বৈদেশিক সহায়তা বিষয়ক মাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নতুন প্রতিশ্রুতি কমার প্রধান কারণ প্রকল্প সহায়তায় হ্রাস। আলোচ্য সময়ে ঋণ হিসেবে প্রকল্প সহায়তার প্রতিশ্রুতি এসেছে ৪০৬ কোটি ডলার এবং অনুদান হিসেবে এসেছে প্রায় ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে প্রকল্প ঋণের প্রতিশ্রুতি ছিল ৫১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং অনুদান ছিল প্রায় ৩৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। দুই অর্থবছরেই খাদ্য সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

বৈদেশিক অর্থ ছাড় এখনও উল্লেখযোগ্য

নতুন প্রতিশ্রুতি কমলেও বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ের পরিমাণ এখনও বড় অঙ্কে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে মোট ৪৫৭ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৫৬০ কোটি ডলার।

এর মধ্যে প্রকল্প সহায়তার আওতায় ছাড় হয়েছে ৪৫৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে ঋণ ছিল ৪১৪ কোটি ডলার এবং অনুদান ছিল প্রায় ৩৯ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।

খাদ্য সহায়তা হিসেবে এ সময়ে ৪ কোটি ডলার পাওয়া গেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তুলনায় কিছুটা বেশি।

ঋণ পরিশোধে বাড়তি চাপ

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ মোট ৪১৩ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ৩৭৮ কোটি ডলার।

মোট পরিশোধিত অর্থের মধ্যে ২৬৮ কোটি ডলার ছিল মূল ঋণের কিস্তি এবং ১৪৪ কোটি ডলার ছিল সুদ পরিশোধ।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৫ হাজার ৬৭৬ কোটি ৮ লাখ টাকা।

বড় প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ পর্যায়ে

ইআরডির তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি ঋণে বাস্তবায়িত বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অনেকগুলো এখন পরিশোধ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ফলে দেশের বৈদেশিক ঋণ দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধের চাপও ক্রমশ বাড়ছে।

একদিকে নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমছে, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়ছে। ফলে বৈদেশিক অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ দায় সামলানো আগামী সময়ে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ বেড়ে ৪১৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।