০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

বাড়ির বাগানের ওপর দিয়ে ছুটছে মহাসড়ক, তবু বাসিন্দাদের কাছে সেটিই আশ্রয়ের ছাদ

যুক্তরাজ্যের পোর্ট ট্যালবট শহরে এমন কিছু বাড়ি রয়েছে, যাদের পেছনের বাগানের ওপর দিয়েই চলে গেছে ব্যস্ততম এম৪ মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি ছুটে যায় বাসিন্দাদের মাথার ওপর দিয়ে, অথচ অনেকের কাছে এই বিশাল সড়ক এখন বিরক্তির নয়, বরং এক ধরনের আশ্রয়ের মতো।

শহরের বাসিন্দা নারেল কোয়ান বলেন, তার বাড়ির বাগানের ওপর থাকা মহাসড়কটি তার জন্য যেন বিনামূল্যের ছাউনি। বৃষ্টি হলে এই জায়গা ব্যবহার করে সহজেই বাইরে যাওয়া যায়, আবার প্রচণ্ড গরমেও এটি রোদ থেকে সুরক্ষা দেয়।

মাথার ওপর মহাসড়ক, নিচে বসবাসের স্বাভাবিক জীবন

পোর্ট ট্যালবটের এই এলাকায় এম৪ মহাসড়ক প্রায় ১৪ মিটার উচ্চতায় তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৭৫ হাজার যানবাহন এই পথ দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু নিচে থাকা বাসিন্দাদের অনেকেই এখন এই শব্দের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।

নারেল জানান, শুরুতে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলেও এখন মহাসড়কের শব্দ তাদের কাছে দূরের এক ধরনের গুঞ্জনের মতো। বাড়ির পেছনের অংশের বড় একটি জায়গা মহাসড়কের নিচে থাকায় সেখানে বৃষ্টি বা তীব্র রোদে স্বস্তিতে থাকা যায়।

আরেক বাসিন্দা অ্যাইমি লিপলি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই মহাসড়কের ছায়ায় বড় হয়েছেন। বৃষ্টি হলেও শিশুরা নিচে খেলতে পারে, কারণ ওপরের সড়কটি একটি প্রাকৃতিক ছাদের মতো কাজ করে।

উন্নয়নের প্রতীক থেকে মানুষের জীবনের অংশ

এম৪ মহাসড়কের এই অংশটি ১৯৬৬ সালে চালু করা হয়। তখন এটি ওয়েলসের প্রথম বড় মহাসড়ক প্রকল্পগুলোর একটি ছিল। পুরোনো সড়কে যানজট কমানো এবং যাতায়াত সহজ করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

তবে এই সড়ক নির্মাণের সময় অনেক বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয় এবং কিছু এলাকার পুরোনো সামাজিক কাঠামো বদলে যায়। অনেক বাসিন্দা মনে করেছিলেন, উন্নয়নের নামে তাদের পরিচিত পরিবেশ হারিয়ে গেছে।

পরবর্তীতে মানুষের সম্পত্তির ক্ষতি ও জীবনযাত্রার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনও পরিবর্তন করা হয়।

শব্দ ও দূষণ কমাতে নতুন উদ্যোগ

মহাসড়কের নিচে বসবাসকারী অনেকেই আগে শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে বর্তমানে নির্দিষ্ট এলাকায় গাড়ির গতি সীমিত করার কারণে শব্দ ও দূষণের মাত্রা কমেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

নারেল জানান, আগে কখনো কখনো বাতাসে অস্বস্তিকর গন্ধ পাওয়া যেত, তবে সেটি মহাসড়কের চেয়ে শিল্প এলাকার কারণে বেশি ছিল বলে তার ধারণা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই অদ্ভুত পরিবেশের মধ্যেও তাদের এলাকায় রয়েছে শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন। অনেকের কাছে মাথার ওপর থাকা বিশাল কংক্রিটের সড়ক এখন আর শুধু একটি মহাসড়ক নয়, বরং তাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

বাড়ির বাগানের ওপর দিয়ে ছুটছে মহাসড়ক, তবু বাসিন্দাদের কাছে সেটিই আশ্রয়ের ছাদ

০৮:১১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের পোর্ট ট্যালবট শহরে এমন কিছু বাড়ি রয়েছে, যাদের পেছনের বাগানের ওপর দিয়েই চলে গেছে ব্যস্ততম এম৪ মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি ছুটে যায় বাসিন্দাদের মাথার ওপর দিয়ে, অথচ অনেকের কাছে এই বিশাল সড়ক এখন বিরক্তির নয়, বরং এক ধরনের আশ্রয়ের মতো।

শহরের বাসিন্দা নারেল কোয়ান বলেন, তার বাড়ির বাগানের ওপর থাকা মহাসড়কটি তার জন্য যেন বিনামূল্যের ছাউনি। বৃষ্টি হলে এই জায়গা ব্যবহার করে সহজেই বাইরে যাওয়া যায়, আবার প্রচণ্ড গরমেও এটি রোদ থেকে সুরক্ষা দেয়।

মাথার ওপর মহাসড়ক, নিচে বসবাসের স্বাভাবিক জীবন

পোর্ট ট্যালবটের এই এলাকায় এম৪ মহাসড়ক প্রায় ১৪ মিটার উচ্চতায় তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৭৫ হাজার যানবাহন এই পথ দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু নিচে থাকা বাসিন্দাদের অনেকেই এখন এই শব্দের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।

নারেল জানান, শুরুতে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলেও এখন মহাসড়কের শব্দ তাদের কাছে দূরের এক ধরনের গুঞ্জনের মতো। বাড়ির পেছনের অংশের বড় একটি জায়গা মহাসড়কের নিচে থাকায় সেখানে বৃষ্টি বা তীব্র রোদে স্বস্তিতে থাকা যায়।

আরেক বাসিন্দা অ্যাইমি লিপলি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই মহাসড়কের ছায়ায় বড় হয়েছেন। বৃষ্টি হলেও শিশুরা নিচে খেলতে পারে, কারণ ওপরের সড়কটি একটি প্রাকৃতিক ছাদের মতো কাজ করে।

উন্নয়নের প্রতীক থেকে মানুষের জীবনের অংশ

এম৪ মহাসড়কের এই অংশটি ১৯৬৬ সালে চালু করা হয়। তখন এটি ওয়েলসের প্রথম বড় মহাসড়ক প্রকল্পগুলোর একটি ছিল। পুরোনো সড়কে যানজট কমানো এবং যাতায়াত সহজ করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

তবে এই সড়ক নির্মাণের সময় অনেক বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয় এবং কিছু এলাকার পুরোনো সামাজিক কাঠামো বদলে যায়। অনেক বাসিন্দা মনে করেছিলেন, উন্নয়নের নামে তাদের পরিচিত পরিবেশ হারিয়ে গেছে।

পরবর্তীতে মানুষের সম্পত্তির ক্ষতি ও জীবনযাত্রার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনও পরিবর্তন করা হয়।

শব্দ ও দূষণ কমাতে নতুন উদ্যোগ

মহাসড়কের নিচে বসবাসকারী অনেকেই আগে শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে বর্তমানে নির্দিষ্ট এলাকায় গাড়ির গতি সীমিত করার কারণে শব্দ ও দূষণের মাত্রা কমেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

নারেল জানান, আগে কখনো কখনো বাতাসে অস্বস্তিকর গন্ধ পাওয়া যেত, তবে সেটি মহাসড়কের চেয়ে শিল্প এলাকার কারণে বেশি ছিল বলে তার ধারণা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই অদ্ভুত পরিবেশের মধ্যেও তাদের এলাকায় রয়েছে শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন। অনেকের কাছে মাথার ওপর থাকা বিশাল কংক্রিটের সড়ক এখন আর শুধু একটি মহাসড়ক নয়, বরং তাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ।