০৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদবির আড়ালে যখন নাগরিকত্বের বিচার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তারকাদের চোখধাঁধানো সাজ হিমবাহ বাঁচাতে এবার ভেড়ার উল! ফ্লাইট বদলের ব্যস্ততায় আর না খেয়ে থাকতে হবে না যাত্রীদের জন্য ইউনাইটেডের নতুন সুবিধা মিয়ামি বিমানবন্দরে কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫; জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয় চীনের যুদ্ধক্ষেত্রে আসছে মানবসদৃশ রোবট, বদলে যেতে পারে ভবিষ্যতের যুদ্ধ পোর্টসমাউথে অভিবাসীবাহী নৌকা ঘিরে পুলিশের সঙ্গে শত শত বিক্ষোভকারীর সংঘর্ষ মেয়ের জন্য বড় অভিনয়ের সুযোগ ফিরিয়ে দিলেন মিশেল কিগান উপসাগরে নতুন ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ ঘোষণা করবে ইরান, হরমুজে নতুন নৌপথের মানচিত্রও আসছে লাহোরে নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা বেড়েছে, কয়েক দিনে ধর্ষণের অভিযোগ ৬

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ জয় ভারতের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক জাদ মাহমুদ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ হিন্দুত্বের ধারণার অন্যতম উৎপত্তিস্থল৷ কিন্তু এখানকার মানুষ অতীতে কখনো বিজেপিকে সেভাবে সমর্থন জানায়নি৷ ফলে এটা বিজেপির কাছে আদর্শগত জয়৷

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ফলে বিজেপির হাতে প্রায় গোটা পূর্ব ভারতের ক্ষমতা৷ এর কী প্রভাব পড়বে রাজনীতিতে৷

অঙ্গ-কলিঙ্গ অর্থাৎ বিহার ও ওড়িশা জয়ের পরে বিজেপির লক্ষ্য ছিল বঙ্গ বিজয়৷ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে৷ এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির আধিপত্য আরো বেড়েছে৷ সীমান্তবর্তী রাজ্যে তাদের ক্ষমতা দখলের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে৷

বিজেপির প্রভাব বৃদ্ধি

ভারতীয় মানচিত্রের একেবারে ওপর ও নীচের অংশটুকু বাদ দিলে বাকি সব জায়গা গেরুয়া রঙে ঢেকে গিয়েছে৷ অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে বিজেপি এখন ২২টি অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ক্ষমতায়৷

প্রথমে তারা গোবলয়ের দল হিসেবে পরিচিত ছিল৷ উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র শাসন করে বিজেপি পূর্ব ভারতেও থাবা বসিয়েছে৷ ঝাড়খণ্ড ছাড়া বাকি সব রাজ্য তাদের দখলে৷ ২২টি রাজ্যের মধ্যে ১৬টিতে এককভাবে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি৷ বাকি ছটিতে তারা চালাচ্ছে জোট সরকার৷

উত্তরের দিল্লি থেকে পশ্চিমে রাজস্থান, উত্তর-পূর্বের মেঘালয় থেকে দক্ষিণের অন্ধ্রপ্রদেশে এখন বিজেপির শাসন৷ ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এই বিস্তারের গতি বেড়েছে৷ সেই সময় মাত্র সাতটি রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি৷ সে বছর ভারতের ৩৪ শতাংশ এলাকা ও ২৫ শতাংশ জনসমষ্টি বিজেপি শাসনের অধীনে ছিল৷ এখন গেরুয়া ব্রিগেডের হাতে ভারতের প্রায় তিন চতুর্থাংশের শাসন ক্ষমতা৷ এসব রাজ্যের জনসংখ্যা দেশের জনসমষ্টির ৭৮ শতাংশ৷

এই পর্যায়ে বিজেপির কাছে সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন৷ তাদের আসনসংখ্যা ৩০৩ থেকে কমে হয় ২৪০৷ দুই বছরের মধ্যে সেই ধাক্কা অনেকটা সামলে নিতে পারল বিজেপি, যার প্রধান কারণ তাদের বহু প্রতীক্ষিত বঙ্গ বিজয়৷

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান

বামশাসিত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ছিল একটি প্রান্তিক শক্তি৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজ্যে এই দলের কোনো জায়গা ছিল না৷ ১৯৯১ সালে কলকাতা উত্তর-পশ্চিম লোকসভা কেন্দ্রে অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় পদ্ম প্রতীকে প্রার্থী হয়েছিলেন৷ তার তারকা পরিচিতির সৌজন্যে বিজেপি সম্পর্কে জনমনে ধারণা গড়ে ওঠে৷ রাম জন্মভূমি আন্দোলনের হাওয়ায় ভিক্টর ২০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন৷

১৯৯৮ সালে লোকসভা নির্বাচনে প্রথম জয় পায় বিজেপি৷ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে দমদমে জেতেন তপন সিকদার৷ কেন্দ্রে বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রী হন৷ কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে একেবারেই দাঁত ফোটাতে পারেনি গেরুয়া শিবির৷ ২০১৬ সালের নির্বাচনে তারা তিনটি আসনে জেতে ১০ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেয়ে৷ এরপরই দ্রুতগতিতে উত্থান শুরু হয়৷

সেই বিধানসভা নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেস জোটের হারের পর ধীরে ধীরে তৃণমূল বিরোধী ভোট সরে যায় বিজেপির দিকে৷ এর পরিণতিতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ৩৮ শতাংশ ভোট নিয়ে ৭৭টি আসনে জয় পায় বিজেপি৷ সেখান থেকে অবিশ্বাস্য উত্থানে তারা ২০৭টি আসনে পৌঁছে গিয়েছে৷ প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৬ শতাংশ৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ পাকিস্তানে চলে যায়নি৷ তার রাজ্যে বিজেপির জয়ে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো৷ সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে এই রাজ্যে তাদের জয় তাৎপর্যপূর্ণ৷ উত্তর-পূর্বের সেভেন সিস্টার রাজ্য, শিলিগুড়ি করিডর, সীমান্তের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এ কথা বলা যায়৷ বিজেপি যদি তাদের জনসমর্থন ধরে রাখতে পারে, তাহলে ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ২৫টি আসন জিততে পারে৷”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক জাদ মাহমুদ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ হিন্দুত্বের ধারণার অন্যতম উৎপত্তিস্থল৷ কিন্তু এখানকার মানুষ অতীতে কখনো বিজেপিকে সেভাবে সমর্থন জানায়নি৷ ফলে এটা বিজেপির কাছে আদর্শগত জয়৷

জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব

জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ দাপট বাড়ছে বিজেপির৷ কংগ্রেসের পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তি দুর্বল হচ্ছে৷ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পাশাপাশি বিধানসভা ভোটে অসমে কংগ্রেস, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে হেরেছে৷  বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের এই অবস্থা কেন?

দেবাঞ্জন বলেন, ‘‘ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে৷ তারা কেন্দ্রে দোস্তি করেন, কিন্তু রাজ্যে রাজ্যে কুস্তি করতে দেখা যায়৷ রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেছেন, তাদের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷ অথচ নির্বাচনের পরে আবার তিনি মমতার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন৷”

জাদ মাহমুদ বলেন, ‘‘২০৪৭ সালের মধ্যে কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার যে স্বপ্ন বিজেপির রয়েছে, সেদিকে আর এক ধাপ তারা এগিয়ে গেল৷ উত্তর ও পশ্চিম ভারতে তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রয়েছে৷ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়মে, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতায় তাদের ক্ষমতা কমতে পারে৷ ফলে নতুন জায়গায় তাদের ক্ষমতা প্রসারিত করার ক্ষেত্রে বিজেপি সফল হয়েছে৷ এতে আগামী লোকসভা নির্বাচনে তাদের বেশি আসনে জয়ের সম্ভাবনা বাড়ল৷ বিজেপি যেভাবে ভারতকে নতুন রূপে দেখতে চায়, সেই লক্ষ্যে চলার পথে তাদের শক্তি বাড়ল৷”

তার বক্তব্য, ‘‘২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বিজেপি ধাক্কা খাওয়ার পরে যদি পশ্চিমবঙ্গে হারত, তাহলে সেটা বিরোধী জোটের কাছে ইতিবাচক হত৷ সামনেই উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন, তার আগে বঙ্গ বিজয়ের ফলে বিজেপির মনোবল বাড়ল৷ তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিন হেরেছেন, কিন্তু বিজেপি জেতেনি৷ এখানে বিজেপি জিতেছে যেখানে তারা কখনো ক্ষমতায় ছিল না৷”

পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন৷ যদিও এর সঙ্গে একমত নন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত৷

তিনি ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘ভারত ও বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রী সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষে বার্তা দিয়েছেন৷ এমনকি দলীয় স্তরে বিজেপি ও বিএনপি আলাপ-আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে৷ সুতরাং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ফলে এই প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হবে বলে আমি মনে করি না৷ বরং কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকার ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে৷”

ডিডাব্লিউডটকম

জনপ্রিয় সংবাদ

পদবির আড়ালে যখন নাগরিকত্বের বিচার

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ জয় ভারতের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে

১২:১৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ফলে বিজেপির হাতে প্রায় গোটা পূর্ব ভারতের ক্ষমতা৷ এর কী প্রভাব পড়বে রাজনীতিতে৷

অঙ্গ-কলিঙ্গ অর্থাৎ বিহার ও ওড়িশা জয়ের পরে বিজেপির লক্ষ্য ছিল বঙ্গ বিজয়৷ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে৷ এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির আধিপত্য আরো বেড়েছে৷ সীমান্তবর্তী রাজ্যে তাদের ক্ষমতা দখলের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে৷

বিজেপির প্রভাব বৃদ্ধি

ভারতীয় মানচিত্রের একেবারে ওপর ও নীচের অংশটুকু বাদ দিলে বাকি সব জায়গা গেরুয়া রঙে ঢেকে গিয়েছে৷ অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে বিজেপি এখন ২২টি অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ক্ষমতায়৷

প্রথমে তারা গোবলয়ের দল হিসেবে পরিচিত ছিল৷ উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র শাসন করে বিজেপি পূর্ব ভারতেও থাবা বসিয়েছে৷ ঝাড়খণ্ড ছাড়া বাকি সব রাজ্য তাদের দখলে৷ ২২টি রাজ্যের মধ্যে ১৬টিতে এককভাবে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি৷ বাকি ছটিতে তারা চালাচ্ছে জোট সরকার৷

উত্তরের দিল্লি থেকে পশ্চিমে রাজস্থান, উত্তর-পূর্বের মেঘালয় থেকে দক্ষিণের অন্ধ্রপ্রদেশে এখন বিজেপির শাসন৷ ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এই বিস্তারের গতি বেড়েছে৷ সেই সময় মাত্র সাতটি রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি৷ সে বছর ভারতের ৩৪ শতাংশ এলাকা ও ২৫ শতাংশ জনসমষ্টি বিজেপি শাসনের অধীনে ছিল৷ এখন গেরুয়া ব্রিগেডের হাতে ভারতের প্রায় তিন চতুর্থাংশের শাসন ক্ষমতা৷ এসব রাজ্যের জনসংখ্যা দেশের জনসমষ্টির ৭৮ শতাংশ৷

এই পর্যায়ে বিজেপির কাছে সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন৷ তাদের আসনসংখ্যা ৩০৩ থেকে কমে হয় ২৪০৷ দুই বছরের মধ্যে সেই ধাক্কা অনেকটা সামলে নিতে পারল বিজেপি, যার প্রধান কারণ তাদের বহু প্রতীক্ষিত বঙ্গ বিজয়৷

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান

বামশাসিত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ছিল একটি প্রান্তিক শক্তি৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজ্যে এই দলের কোনো জায়গা ছিল না৷ ১৯৯১ সালে কলকাতা উত্তর-পশ্চিম লোকসভা কেন্দ্রে অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় পদ্ম প্রতীকে প্রার্থী হয়েছিলেন৷ তার তারকা পরিচিতির সৌজন্যে বিজেপি সম্পর্কে জনমনে ধারণা গড়ে ওঠে৷ রাম জন্মভূমি আন্দোলনের হাওয়ায় ভিক্টর ২০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন৷

১৯৯৮ সালে লোকসভা নির্বাচনে প্রথম জয় পায় বিজেপি৷ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে দমদমে জেতেন তপন সিকদার৷ কেন্দ্রে বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রী হন৷ কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে একেবারেই দাঁত ফোটাতে পারেনি গেরুয়া শিবির৷ ২০১৬ সালের নির্বাচনে তারা তিনটি আসনে জেতে ১০ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেয়ে৷ এরপরই দ্রুতগতিতে উত্থান শুরু হয়৷

সেই বিধানসভা নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেস জোটের হারের পর ধীরে ধীরে তৃণমূল বিরোধী ভোট সরে যায় বিজেপির দিকে৷ এর পরিণতিতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ৩৮ শতাংশ ভোট নিয়ে ৭৭টি আসনে জয় পায় বিজেপি৷ সেখান থেকে অবিশ্বাস্য উত্থানে তারা ২০৭টি আসনে পৌঁছে গিয়েছে৷ প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৬ শতাংশ৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ পাকিস্তানে চলে যায়নি৷ তার রাজ্যে বিজেপির জয়ে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো৷ সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে এই রাজ্যে তাদের জয় তাৎপর্যপূর্ণ৷ উত্তর-পূর্বের সেভেন সিস্টার রাজ্য, শিলিগুড়ি করিডর, সীমান্তের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এ কথা বলা যায়৷ বিজেপি যদি তাদের জনসমর্থন ধরে রাখতে পারে, তাহলে ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ২৫টি আসন জিততে পারে৷”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক জাদ মাহমুদ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ হিন্দুত্বের ধারণার অন্যতম উৎপত্তিস্থল৷ কিন্তু এখানকার মানুষ অতীতে কখনো বিজেপিকে সেভাবে সমর্থন জানায়নি৷ ফলে এটা বিজেপির কাছে আদর্শগত জয়৷

জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব

জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ দাপট বাড়ছে বিজেপির৷ কংগ্রেসের পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তি দুর্বল হচ্ছে৷ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পাশাপাশি বিধানসভা ভোটে অসমে কংগ্রেস, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে হেরেছে৷  বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের এই অবস্থা কেন?

দেবাঞ্জন বলেন, ‘‘ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে৷ তারা কেন্দ্রে দোস্তি করেন, কিন্তু রাজ্যে রাজ্যে কুস্তি করতে দেখা যায়৷ রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেছেন, তাদের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷ অথচ নির্বাচনের পরে আবার তিনি মমতার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন৷”

জাদ মাহমুদ বলেন, ‘‘২০৪৭ সালের মধ্যে কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার যে স্বপ্ন বিজেপির রয়েছে, সেদিকে আর এক ধাপ তারা এগিয়ে গেল৷ উত্তর ও পশ্চিম ভারতে তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রয়েছে৷ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়মে, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতায় তাদের ক্ষমতা কমতে পারে৷ ফলে নতুন জায়গায় তাদের ক্ষমতা প্রসারিত করার ক্ষেত্রে বিজেপি সফল হয়েছে৷ এতে আগামী লোকসভা নির্বাচনে তাদের বেশি আসনে জয়ের সম্ভাবনা বাড়ল৷ বিজেপি যেভাবে ভারতকে নতুন রূপে দেখতে চায়, সেই লক্ষ্যে চলার পথে তাদের শক্তি বাড়ল৷”

তার বক্তব্য, ‘‘২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বিজেপি ধাক্কা খাওয়ার পরে যদি পশ্চিমবঙ্গে হারত, তাহলে সেটা বিরোধী জোটের কাছে ইতিবাচক হত৷ সামনেই উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন, তার আগে বঙ্গ বিজয়ের ফলে বিজেপির মনোবল বাড়ল৷ তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিন হেরেছেন, কিন্তু বিজেপি জেতেনি৷ এখানে বিজেপি জিতেছে যেখানে তারা কখনো ক্ষমতায় ছিল না৷”

পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন৷ যদিও এর সঙ্গে একমত নন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত৷

তিনি ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘ভারত ও বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রী সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষে বার্তা দিয়েছেন৷ এমনকি দলীয় স্তরে বিজেপি ও বিএনপি আলাপ-আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে৷ সুতরাং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ফলে এই প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হবে বলে আমি মনে করি না৷ বরং কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকার ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে৷”

ডিডাব্লিউডটকম