০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

বিশের কোঠার তরুণদের মধ্যে কেন বাড়ছে ভ্যাসেকটমির প্রবণতা?

সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত, মানসিক স্বাস্থ্য, আর দীর্ঘমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বিশের কোঠার কিছু পুরুষের মধ্যে ভ্যাসেকটমি করানোর প্রবণতা বাড়ছে। আগে যেখানে এই স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি মূলত চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষদের মধ্যেই বেশি দেখা যেত, এখন তুলনামূলক কম বয়সীরাও এটি বেছে নিচ্ছেন।

মানসিক আঘাত বদলে দিয়েছে জীবন

ইংল্যান্ডের বাসিন্দা অ্যালেক্স ওয়েস্ট প্রথম সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রীর দীর্ঘ ও জটিল প্রসবের অভিজ্ঞতায় গভীর মানসিক আঘাত পান। দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম তুলনামূলক সহজ হলেও তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পরে প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতায় ভোগেন।

অ্যালেক্স ও তাঁর স্ত্রী প্রথমে চার সন্তানের পরিকল্পনা করলেও পরে সিদ্ধান্ত বদলান। তাঁর ভাষায়, আরও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার মূল কারণ ছিল সেই মানসিক চাপের পুনরাবৃত্তি এড়ানো। জন্মনিয়ন্ত্রণের দায় শুধু স্ত্রীর ওপর না দিয়ে তিনি নিজেই ভ্যাসেকটমি করানোর সিদ্ধান্ত নেন।

দ্রুত বাড়ছে ভ্যাসেকটমির সংখ্যা

Young man cradling the Earth

ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মোট ২৬ হাজার ৩৮৫টি ভ্যাসেকটমি করা হয়েছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে বেশি ভ্যাসেকটমি করেছেন ৩৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী পুরুষরা। তবে ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও এ প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। ২০২৪-২৫ সালে ইংল্যান্ডে ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় ৯৫০ জন পুরুষ এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন।

সন্তান না নেওয়ার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের স্যাম নাইট ছোটবেলা থেকেই সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। একসময় তাঁর সঙ্গী অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গর্ভবতী হলে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অভিজ্ঞতার পর তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে স্থায়ী সমাধানই সবচেয়ে উপযুক্ত।

মাত্র ২২ বছর বয়সে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন, তিনি ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত হবেন না।

চিকিৎসকদের সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাসেকটমি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হলেও এটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করাই উচিত।

A patient and a nurse in conversation

চিকিৎসকেরা সাধারণত রোগীদের পরামর্শ দেন, ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা বদলাতে পারে কি না, সে বিষয়টি ভালোভাবে ভেবে দেখতে। কারণ ভ্যাসেকটমি ফিরিয়ে আনার অস্ত্রোপচার সব সময় সফল হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি সহজলভ্যও নয়।

সবার জন্য একই সিদ্ধান্ত নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাসেকটমি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিকল্পনার বিষয়। কারও ক্ষেত্রে সন্তান না নেওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত, কারও ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য, আবার কারও ক্ষেত্রে দাম্পত্য পরিকল্পনা—বিভিন্ন কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অ্যালেক্স ওয়েস্ট বলেন, তিনি তাঁর দুই সন্তানকে ভীষণ ভালোবাসেন। তবে দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি উপলব্ধি করেছেন, তাঁদের পরিবারের জন্য দুই সন্তানই যথেষ্ট এবং এর বেশি সন্তান নেওয়া তাঁর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হতো না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরামর্শ ও কাউন্সেলিং গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

বিশের কোঠার তরুণদের মধ্যে কেন বাড়ছে ভ্যাসেকটমির প্রবণতা?

১১:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত, মানসিক স্বাস্থ্য, আর দীর্ঘমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বিশের কোঠার কিছু পুরুষের মধ্যে ভ্যাসেকটমি করানোর প্রবণতা বাড়ছে। আগে যেখানে এই স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি মূলত চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষদের মধ্যেই বেশি দেখা যেত, এখন তুলনামূলক কম বয়সীরাও এটি বেছে নিচ্ছেন।

মানসিক আঘাত বদলে দিয়েছে জীবন

ইংল্যান্ডের বাসিন্দা অ্যালেক্স ওয়েস্ট প্রথম সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রীর দীর্ঘ ও জটিল প্রসবের অভিজ্ঞতায় গভীর মানসিক আঘাত পান। দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম তুলনামূলক সহজ হলেও তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পরে প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতায় ভোগেন।

অ্যালেক্স ও তাঁর স্ত্রী প্রথমে চার সন্তানের পরিকল্পনা করলেও পরে সিদ্ধান্ত বদলান। তাঁর ভাষায়, আরও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার মূল কারণ ছিল সেই মানসিক চাপের পুনরাবৃত্তি এড়ানো। জন্মনিয়ন্ত্রণের দায় শুধু স্ত্রীর ওপর না দিয়ে তিনি নিজেই ভ্যাসেকটমি করানোর সিদ্ধান্ত নেন।

দ্রুত বাড়ছে ভ্যাসেকটমির সংখ্যা

Young man cradling the Earth

ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মোট ২৬ হাজার ৩৮৫টি ভ্যাসেকটমি করা হয়েছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে বেশি ভ্যাসেকটমি করেছেন ৩৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী পুরুষরা। তবে ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও এ প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। ২০২৪-২৫ সালে ইংল্যান্ডে ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় ৯৫০ জন পুরুষ এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন।

সন্তান না নেওয়ার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের স্যাম নাইট ছোটবেলা থেকেই সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। একসময় তাঁর সঙ্গী অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গর্ভবতী হলে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অভিজ্ঞতার পর তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে স্থায়ী সমাধানই সবচেয়ে উপযুক্ত।

মাত্র ২২ বছর বয়সে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন, তিনি ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত হবেন না।

চিকিৎসকদের সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাসেকটমি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হলেও এটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করাই উচিত।

A patient and a nurse in conversation

চিকিৎসকেরা সাধারণত রোগীদের পরামর্শ দেন, ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা বদলাতে পারে কি না, সে বিষয়টি ভালোভাবে ভেবে দেখতে। কারণ ভ্যাসেকটমি ফিরিয়ে আনার অস্ত্রোপচার সব সময় সফল হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি সহজলভ্যও নয়।

সবার জন্য একই সিদ্ধান্ত নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাসেকটমি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিকল্পনার বিষয়। কারও ক্ষেত্রে সন্তান না নেওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত, কারও ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য, আবার কারও ক্ষেত্রে দাম্পত্য পরিকল্পনা—বিভিন্ন কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অ্যালেক্স ওয়েস্ট বলেন, তিনি তাঁর দুই সন্তানকে ভীষণ ভালোবাসেন। তবে দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি উপলব্ধি করেছেন, তাঁদের পরিবারের জন্য দুই সন্তানই যথেষ্ট এবং এর বেশি সন্তান নেওয়া তাঁর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হতো না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরামর্শ ও কাউন্সেলিং গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।