০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান

বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

ইরান ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও জোরালো অবস্থান নেয়। একই সময়ে চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য প্রভাবশালী দেশের প্রতিনিধিরা বেইজিংয়ে ইরান-সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ওপরও চাপ তৈরি করছে। ইরানি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্রিকস জোট এখন এমন একটি শক্তি হয়ে উঠেছে, যারা পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকটে ভূমিকা রাখতে পারে।

কূটনৈতিক চাপ ও যুদ্ধের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবস্থান এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বেইজিং বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা যুদ্ধ বিস্তার রোধ, কূটনৈতিক সমাধান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। ইরানের দাবি, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংলাপ ও বহুপাক্ষিক আলোচনার পথই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ব্রিকসের ভূমিকা নিয়ে প্রত্যাশা

ইরান সম্প্রতি ব্রিকসের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। দেশটি মনে করছে, এই জোট বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। তেহরান চাইছে, ব্রিকস সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে একতাবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করুক এবং যুদ্ধবিরোধী বার্তা দিক।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের ভেতরে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব থাকায় ইরান এই প্ল্যাটফর্মকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় ব্রিকসকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান।

Beijing in the Strait of Hormuz: The Iran War, Energy Security and China's  Strategic Dilemma - Politics Today

চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা

বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজস্ব কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে চীনের মধ্যস্থতা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছিল।

এবারের বৈঠকেও চীন শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় এসেছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ব্রিকস জোটের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ইরান চাইছে, এই জোট শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও আরও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করুক।

বেইজিং বৈঠক সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় বিকল্প আন্তর্জাতিক জোটগুলোর ভূমিকাও সামনে আসছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান

০৮:৫৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

ইরান ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও জোরালো অবস্থান নেয়। একই সময়ে চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য প্রভাবশালী দেশের প্রতিনিধিরা বেইজিংয়ে ইরান-সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ওপরও চাপ তৈরি করছে। ইরানি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্রিকস জোট এখন এমন একটি শক্তি হয়ে উঠেছে, যারা পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকটে ভূমিকা রাখতে পারে।

কূটনৈতিক চাপ ও যুদ্ধের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবস্থান এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বেইজিং বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা যুদ্ধ বিস্তার রোধ, কূটনৈতিক সমাধান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। ইরানের দাবি, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংলাপ ও বহুপাক্ষিক আলোচনার পথই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ব্রিকসের ভূমিকা নিয়ে প্রত্যাশা

ইরান সম্প্রতি ব্রিকসের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। দেশটি মনে করছে, এই জোট বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। তেহরান চাইছে, ব্রিকস সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে একতাবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করুক এবং যুদ্ধবিরোধী বার্তা দিক।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের ভেতরে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব থাকায় ইরান এই প্ল্যাটফর্মকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় ব্রিকসকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান।

Beijing in the Strait of Hormuz: The Iran War, Energy Security and China's  Strategic Dilemma - Politics Today

চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা

বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজস্ব কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে চীনের মধ্যস্থতা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছিল।

এবারের বৈঠকেও চীন শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় এসেছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ব্রিকস জোটের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ইরান চাইছে, এই জোট শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও আরও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করুক।

বেইজিং বৈঠক সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় বিকল্প আন্তর্জাতিক জোটগুলোর ভূমিকাও সামনে আসছে।