০৯:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভুয়া কর্মকর্তার ফোনে ১০ লাখ হংকং ডলার খোয়ালেন শিক্ষার্থী অন্ধকার সুড়ঙ্গে ১০ দিন, নেপালি শ্রমিকের ফিরে আসার গল্প জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোয় ফাঁক বন্ধ হোক ছয় বছর পর নিজের দেশে ফিরে বুঝলেন, আসলেই কি ‘বাড়ি’ বদলে গেছে? চীনে তৈরি হচ্ছে নতুন ‘অবসর শ্রেণি’, কাজের চেয়ে জীবন উপভোগে আগ্রহী মধ্যবিত্ত ব্রিকসে এআই মুক্ত উৎস অঞ্চলের প্রস্তাব দিলেন সি চিনপিং মিয়ানমারের জাতিসংঘ দূতের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ওয়ারেন্ট চাইছে জান্তা ভানুয়াতুতে ফেরি ডুবে নিখোঁজ ৩০, উঠছে অতিরিক্ত বোঝাইয়ের প্রশ্ন ব্যাটারি চালিত রিক্সার জন্য ব্যয় হয় মাত্র ৫% বিদ্যুৎ হোটেলের কক্ষে মিলল এয়ার ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেনের মরদেহ, ভেতর থেকে বন্ধ ছিল দরজা

ব্যাটারি চালিত রিক্সার জন্য ব্যয় হয় মাত্র ৫% বিদ্যুৎ

ব্যাটারি চালিত রিক্সাগুলো দেশের মোট বিদ্যুৎ এর ৫% খরচ করে ৯৫% মানুষকে পরিবহন সুবিধা দেয়। দেশের এই বিশাল দরিদ্র জনসাধারণের আবশ্যকীয় চলাচলের জন্য আমরা জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিতে চাই না। তাদেরকে আমরা অনেক দামী ও বিনিয়োগ নির্ভর সৌর বিদ্যুৎ এ যেতে বলছি।
অন্য একটি চিত্র দেখুন। কেবল ঢাকা শহরের এসি গুলো দেশের মোট বিদ্যুৎ এর প্রায় ২৫% খরচ করে ঢাকার ১০% এর মত মানুষকে আরাম দেয়। ঢাকার বাইরেও কিছু মানুষ এ সুবিধা পায়। সারা দেশের জনসংখ্যায় হিসাবে মোট হয়ত ২% (আনুমানিক) এর মত হবে। তাদেরকে একটু আরাম দেওয়ায় জন্য আমরা জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় সস্তা বিদ্যুৎ দিতে চাই। তাদেরকে দামী ও বিনিয়োগ নির্ভর সৌর বিদ্যুৎ এ যাওয়ার জন্য জোর করছি না।
আবার যারা বিদেশী দামী বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনছেন, তাদেরকে বাসাবাড়ির non-commercial মূল্যে ব্যাটারি চার্জ দেওয়াকে বৈধ বলছি, আর দরিদ্র মানুষের বাহন কে একইভাবে চার্জ করাকে অবৈধ বলছি।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ২০% ও মানুষ মৃত্যুর প্রায় ১৫% এ সব ৩ চাকার গাড়ির জন্য হয় বিধায় আমরা এগুলোকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছি, কিন্তু বাকী ৮০% দুর্ঘটনা ও ৮৫% মৃত্যু যে সব পরিবহনের কারণে হয় তার ক্ষেত্রে চুপ থাকছি।
ঢাকা শহরের প্রায় ৬% মানুষ প্রাইভেট কার ব্যবহার করে। বাকী ৯৪% মানুষ বাস ও ৩ চাকার এ সব পরিবহন ব্যবহার করে। আমরা চাই যে এ ৯৪% মানুষ বাস ও হেঁটে চলুক। বিদেশে দেখে আমরা এ সব মতামত দিই। জনসংখ্যা ও রাস্তার পরিমাণ আমরা দেখি না। স্কুলে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে, অথবা বাজার করে ভারী ব্যাগ নিয়ে আপনি কি ঢাকার বাসে উঠতে পারবেন? বিদেশে তা সম্ভব, দেশে নয়।
যুক্তরাজ্যে দেখেছি, পুরোনো ঐতিহাসিক রাস্তাগুলোতে ধীর গতির বাহন চলতে পারে। নতুন করে যে সব হাইওয়ে (এ শ্রেণীর মোটরওয়ে) তে ধীরগতির বাহন নিষিদ্ধ।
আমাদের দেশে আগে যে সব রাস্তায় গরুগাড়ী চলত, পরে রিক্সা-ভ্যান চলত, সে গুলোকে আমরা ধীরে ধীরে উন্নত করে বাস, কার এগুলো চলাচলের উপযোগী করেছি। এখন দামী SUV চলছে। সাধারণ মানুষ যে সব রিক্সা, ভ্যানে চলত, সেগুলোকে এ রাস্তায় চলাচলকে অবৈধ৷ ঘোষণা দিয়েছি। অর্থাৎ তার রাস্তাটিকে আমরা কেড়ে নিয়ে তাকে সেখান থেকে সরে যেতে বলেছি। যুক্তরাজ্য কিন্তু তা করে নি।
ভাবুন, আপনি গ্রামে থাকেন (বাংলাদেশের প্রায় ৭০%)। আপনার মা বা বাবা ভয়ানক অসুখে পড়েছেন। তাকে নিতে হবে কাছের বা দূরের হাসপাতালে, জনগণের থেকে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভুয়া কর্মকর্তার ফোনে ১০ লাখ হংকং ডলার খোয়ালেন শিক্ষার্থী

ব্যাটারি চালিত রিক্সার জন্য ব্যয় হয় মাত্র ৫% বিদ্যুৎ

০৮:০০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যাটারি চালিত রিক্সাগুলো দেশের মোট বিদ্যুৎ এর ৫% খরচ করে ৯৫% মানুষকে পরিবহন সুবিধা দেয়। দেশের এই বিশাল দরিদ্র জনসাধারণের আবশ্যকীয় চলাচলের জন্য আমরা জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিতে চাই না। তাদেরকে আমরা অনেক দামী ও বিনিয়োগ নির্ভর সৌর বিদ্যুৎ এ যেতে বলছি।
অন্য একটি চিত্র দেখুন। কেবল ঢাকা শহরের এসি গুলো দেশের মোট বিদ্যুৎ এর প্রায় ২৫% খরচ করে ঢাকার ১০% এর মত মানুষকে আরাম দেয়। ঢাকার বাইরেও কিছু মানুষ এ সুবিধা পায়। সারা দেশের জনসংখ্যায় হিসাবে মোট হয়ত ২% (আনুমানিক) এর মত হবে। তাদেরকে একটু আরাম দেওয়ায় জন্য আমরা জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় সস্তা বিদ্যুৎ দিতে চাই। তাদেরকে দামী ও বিনিয়োগ নির্ভর সৌর বিদ্যুৎ এ যাওয়ার জন্য জোর করছি না।
আবার যারা বিদেশী দামী বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনছেন, তাদেরকে বাসাবাড়ির non-commercial মূল্যে ব্যাটারি চার্জ দেওয়াকে বৈধ বলছি, আর দরিদ্র মানুষের বাহন কে একইভাবে চার্জ করাকে অবৈধ বলছি।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ২০% ও মানুষ মৃত্যুর প্রায় ১৫% এ সব ৩ চাকার গাড়ির জন্য হয় বিধায় আমরা এগুলোকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছি, কিন্তু বাকী ৮০% দুর্ঘটনা ও ৮৫% মৃত্যু যে সব পরিবহনের কারণে হয় তার ক্ষেত্রে চুপ থাকছি।
ঢাকা শহরের প্রায় ৬% মানুষ প্রাইভেট কার ব্যবহার করে। বাকী ৯৪% মানুষ বাস ও ৩ চাকার এ সব পরিবহন ব্যবহার করে। আমরা চাই যে এ ৯৪% মানুষ বাস ও হেঁটে চলুক। বিদেশে দেখে আমরা এ সব মতামত দিই। জনসংখ্যা ও রাস্তার পরিমাণ আমরা দেখি না। স্কুলে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে, অথবা বাজার করে ভারী ব্যাগ নিয়ে আপনি কি ঢাকার বাসে উঠতে পারবেন? বিদেশে তা সম্ভব, দেশে নয়।
যুক্তরাজ্যে দেখেছি, পুরোনো ঐতিহাসিক রাস্তাগুলোতে ধীর গতির বাহন চলতে পারে। নতুন করে যে সব হাইওয়ে (এ শ্রেণীর মোটরওয়ে) তে ধীরগতির বাহন নিষিদ্ধ।
আমাদের দেশে আগে যে সব রাস্তায় গরুগাড়ী চলত, পরে রিক্সা-ভ্যান চলত, সে গুলোকে আমরা ধীরে ধীরে উন্নত করে বাস, কার এগুলো চলাচলের উপযোগী করেছি। এখন দামী SUV চলছে। সাধারণ মানুষ যে সব রিক্সা, ভ্যানে চলত, সেগুলোকে এ রাস্তায় চলাচলকে অবৈধ৷ ঘোষণা দিয়েছি। অর্থাৎ তার রাস্তাটিকে আমরা কেড়ে নিয়ে তাকে সেখান থেকে সরে যেতে বলেছি। যুক্তরাজ্য কিন্তু তা করে নি।
ভাবুন, আপনি গ্রামে থাকেন (বাংলাদেশের প্রায় ৭০%)। আপনার মা বা বাবা ভয়ানক অসুখে পড়েছেন। তাকে নিতে হবে কাছের বা দূরের হাসপাতালে, জনগণের থেকে।