ব্যাটারি চালিত রিক্সাগুলো দেশের মোট বিদ্যুৎ এর ৫% খরচ করে ৯৫% মানুষকে পরিবহন সুবিধা দেয়। দেশের এই বিশাল দরিদ্র জনসাধারণের আবশ্যকীয় চলাচলের জন্য আমরা জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিতে চাই না। তাদেরকে আমরা অনেক দামী ও বিনিয়োগ নির্ভর সৌর বিদ্যুৎ এ যেতে বলছি।
অন্য একটি চিত্র দেখুন। কেবল ঢাকা শহরের এসি গুলো দেশের মোট বিদ্যুৎ এর প্রায় ২৫% খরচ করে ঢাকার ১০% এর মত মানুষকে আরাম দেয়। ঢাকার বাইরেও কিছু মানুষ এ সুবিধা পায়। সারা দেশের জনসংখ্যায় হিসাবে মোট হয়ত ২% (আনুমানিক) এর মত হবে। তাদেরকে একটু আরাম দেওয়ায় জন্য আমরা জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় সস্তা বিদ্যুৎ দিতে চাই। তাদেরকে দামী ও বিনিয়োগ নির্ভর সৌর বিদ্যুৎ এ যাওয়ার জন্য জোর করছি না।
আবার যারা বিদেশী দামী বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনছেন, তাদেরকে বাসাবাড়ির non-commercial মূল্যে ব্যাটারি চার্জ দেওয়াকে বৈধ বলছি, আর দরিদ্র মানুষের বাহন কে একইভাবে চার্জ করাকে অবৈধ বলছি।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ২০% ও মানুষ মৃত্যুর প্রায় ১৫% এ সব ৩ চাকার গাড়ির জন্য হয় বিধায় আমরা এগুলোকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছি, কিন্তু বাকী ৮০% দুর্ঘটনা ও ৮৫% মৃত্যু যে সব পরিবহনের কারণে হয় তার ক্ষেত্রে চুপ থাকছি।
ঢাকা শহরের প্রায় ৬% মানুষ প্রাইভেট কার ব্যবহার করে। বাকী ৯৪% মানুষ বাস ও ৩ চাকার এ সব পরিবহন ব্যবহার করে। আমরা চাই যে এ ৯৪% মানুষ বাস ও হেঁটে চলুক। বিদেশে দেখে আমরা এ সব মতামত দিই। জনসংখ্যা ও রাস্তার পরিমাণ আমরা দেখি না। স্কুলে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে, অথবা বাজার করে ভারী ব্যাগ নিয়ে আপনি কি ঢাকার বাসে উঠতে পারবেন? বিদেশে তা সম্ভব, দেশে নয়।
যুক্তরাজ্যে দেখেছি, পুরোনো ঐতিহাসিক রাস্তাগুলোতে ধীর গতির বাহন চলতে পারে। নতুন করে যে সব হাইওয়ে (এ শ্রেণীর মোটরওয়ে) তে ধীরগতির বাহন নিষিদ্ধ।
আমাদের দেশে আগে যে সব রাস্তায় গরুগাড়ী চলত, পরে রিক্সা-ভ্যান চলত, সে গুলোকে আমরা ধীরে ধীরে উন্নত করে বাস, কার এগুলো চলাচলের উপযোগী করেছি। এখন দামী SUV চলছে। সাধারণ মানুষ যে সব রিক্সা, ভ্যানে চলত, সেগুলোকে এ রাস্তায় চলাচলকে অবৈধ৷ ঘোষণা দিয়েছি। অর্থাৎ তার রাস্তাটিকে আমরা কেড়ে নিয়ে তাকে সেখান থেকে সরে যেতে বলেছি। যুক্তরাজ্য কিন্তু তা করে নি।
ভাবুন, আপনি গ্রামে থাকেন (বাংলাদেশের প্রায় ৭০%)। আপনার মা বা বাবা ভয়ানক অসুখে পড়েছেন। তাকে নিতে হবে কাছের বা দূরের হাসপাতালে, জনগণের থেকে।
প্রফেসর খন্দকার সিদ্দিক-ই-রাব্বানী 


















