ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত প্যাকেটজাত খাদ্যশিল্পে বিভ্রান্তিকর লেবেল, মেয়াদ পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মতো গুরুতর অনিয়ম উঠে এসেছে। ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর পরীক্ষা করা এক লাখের বেশি খাদ্য নমুনার প্রায় ২০ শতাংশ অনিরাপদ, নিম্নমানের বা যথাযথভাবে লেবেলযুক্ত নয় বলে শনাক্ত হয়েছে।
ভারতের প্যাকেটজাত খাদ্যের বাজারের আকার ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অনলাইনভিত্তিক দ্রুত সরবরাহসেবা, জ্বালানিবর্ধক পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের বাজার দ্রুত বাড়লেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি একই গতিতে বাড়েনি।
একই পণ্যে তিন গুণ পর্যন্ত বেশি চিনি
ভারতে বিক্রি হওয়া কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের খাদ্য ও পানীয়তে অন্য দেশের সংস্করণের তুলনায় বেশি চিনি, লবণ বা চর্বি পাওয়া গেছে। ভারতে বিক্রি হওয়া একটি ফান্টার ক্যানে লন্ডনে বিক্রি হওয়া একই পানীয়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি চিনি রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বিক্রি হওয়া ম্যাগি নুডলসে সূর্যমুখী তেল ব্যবহার এবং প্যাকেটে লাল সতর্কতামূলক চিহ্ন থাকলেও ভারতের সংস্করণে পাম তেল ব্যবহার করা হয় এবং সামনে এমন সতর্কতা নেই। ভারতের নিয়মে উপাদানের তালিকা প্যাকেটের পেছনে ছোট অক্ষরে দিলেই চলে।
তদারকি বাড়লেও বাধা রয়ে গেছে
মহারাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা কমিশনার তুকারাম মুন্ডে মে মাস থেকে তিন হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করেছেন। একটি গুদামে রপ্তানির জন্য রাখা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পণ্যে মেয়াদ ও পুষ্টিতথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর কানাডার খাদ্য পরিদর্শন সংস্থা দেশটির আমদানিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ শুরু করে।
ভারতের প্যাকেটজাত খাদ্যবাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্যে চর্বি, চিনি বা লবণের পরিমাণ বেশি। আগস্টে দেশটির খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্যাকেটের সামনে স্বাস্থ্য সতর্কতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। তবে খাদ্যশিল্প ও বিশেষজ্ঞদের বিরোধী অবস্থানের কারণে চূড়ান্ত নিয়ম নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















