০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের

প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বির মাত্রা সহজে বোঝাতে সামনের অংশে সতর্কতামূলক লেবেল চালুর প্রস্তাব করেছে ভারতের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পখাতের আপত্তির পর জনরোষ ও সুপ্রিম কোর্টের চাপের মধ্যে অবস্থান বদলে শুক্রবার এ প্রস্তাব আদালতে জমা দিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)।

প্রস্তাবটি ভারতের ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের খাদ্য ও পানীয় বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটির বাজারে বড় ও ছোট—দুই ধরনের খাদ্য উৎপাদকই সক্রিয়। কোকা-কোলা এবং নেসলে ও পেপসিকোর প্রতিনিধিত্বকারী শিল্প সংগঠনগুলো আগে এমন সতর্কতামূলক লেবেলের বিরোধিতা করে আসছিল।

লাল ষড়ভুজে থাকবে পুষ্টি সতর্কতা

এফএসএসএআইয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্যাকেটজাত খাবার বা পানীয়তে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, চিনি অথবা লবণের মধ্যে অন্তত দুটি উপাদান বেশি থাকলে প্যাকেটের সামনের অংশে লাল রঙের ষড়ভুজ আকৃতির সতর্কতা চিহ্ন দিতে হবে।

সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘হাই ফ্যাট’, ‘হাই সুগার’, ‘হাই সল্ট’ কিংবা ‘হাইলি সুইটেনড বেভারেজ’ লেখা থাকবে। এর উদ্দেশ্য হলো, প্যাকেটের পেছনের পুষ্টিগুণের তালিকা না পড়েও ভোক্তারা যেন দ্রুত বুঝতে পারেন কোনো পণ্যে নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের মাত্রা বেশি।

এফএসএসএআই সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া নথিতে বলেছে, এই ব্যবস্থা ভোক্তাদের সচেতনভাবে খাবার বেছে নিতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে শিশু ও সমাজের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

শিল্পের আপত্তির পর অবস্থান পরিবর্তন

ভারত সরকার কয়েক বছর ধরেই প্যাকেটজাত খাবারে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক লেবেল চালুর চেষ্টা করছিল। তবে চলতি বছর শিল্পখাতের ব্যক্তিগত আপত্তির পর একটি প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোক্তা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।India proposes front-of-pack warning labels for packaged foods after public  outcry | The Business Standard

এর আগে মার্চের এক বৈঠকে খাদ্যশিল্পের কর্মকর্তারা সতর্কতামূলক চিহ্নকে বিভ্রান্তিকর ও অকার্যকর বলে দাবি করেছিলেন। তারা ভোক্তাদের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন। কোকা-কোলা ইন্ডিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মলি ভট্টাচার্যও বলেছিলেন, যারা উপাদানের তালিকা পড়েন না, তারা শুধু প্রতীক দেখে খাদ্যাভ্যাস উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে ফেলবেন—এমন ধারণা অতিসরলীকৃত।

সুপ্রিম কোর্টের চাপ

স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্কতামূলক লেবেল চালুর দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। চলতি মাসে সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলার পাশাপাশি ভারতের নাগরিকদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে দেশটির উদ্বেগ স্পষ্ট করার কথাও বলেছিল। আদালত ইসরায়েলের মতো মডেল বিবেচনার কথাও জানিয়েছিল, যেখানে লবণ, চিনি বা চর্বির যেকোনো একটির মাত্রা বেশি হলেই লাল সতর্কতা দেওয়া হয়।

তবে শুক্রবারের প্রস্তাবে ভারত সেই মডেলের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। এখানে অন্তত দুটি পুষ্টি উপাদানের মাত্রা বেশি হলেই লাল সতর্কতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত হতে পারেন।

এফএসএসএআই জানিয়েছে, শিল্পখাতকে প্রস্তুতির সুযোগ দিতে সতর্কতামূলক লেবেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। একক উপাদান দিয়ে তৈরি খাবার এ নিয়মের বাইরে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের

০৯:১১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বির মাত্রা সহজে বোঝাতে সামনের অংশে সতর্কতামূলক লেবেল চালুর প্রস্তাব করেছে ভারতের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পখাতের আপত্তির পর জনরোষ ও সুপ্রিম কোর্টের চাপের মধ্যে অবস্থান বদলে শুক্রবার এ প্রস্তাব আদালতে জমা দিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)।

প্রস্তাবটি ভারতের ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের খাদ্য ও পানীয় বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটির বাজারে বড় ও ছোট—দুই ধরনের খাদ্য উৎপাদকই সক্রিয়। কোকা-কোলা এবং নেসলে ও পেপসিকোর প্রতিনিধিত্বকারী শিল্প সংগঠনগুলো আগে এমন সতর্কতামূলক লেবেলের বিরোধিতা করে আসছিল।

লাল ষড়ভুজে থাকবে পুষ্টি সতর্কতা

এফএসএসএআইয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্যাকেটজাত খাবার বা পানীয়তে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, চিনি অথবা লবণের মধ্যে অন্তত দুটি উপাদান বেশি থাকলে প্যাকেটের সামনের অংশে লাল রঙের ষড়ভুজ আকৃতির সতর্কতা চিহ্ন দিতে হবে।

সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘হাই ফ্যাট’, ‘হাই সুগার’, ‘হাই সল্ট’ কিংবা ‘হাইলি সুইটেনড বেভারেজ’ লেখা থাকবে। এর উদ্দেশ্য হলো, প্যাকেটের পেছনের পুষ্টিগুণের তালিকা না পড়েও ভোক্তারা যেন দ্রুত বুঝতে পারেন কোনো পণ্যে নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের মাত্রা বেশি।

এফএসএসএআই সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া নথিতে বলেছে, এই ব্যবস্থা ভোক্তাদের সচেতনভাবে খাবার বেছে নিতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে শিশু ও সমাজের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

শিল্পের আপত্তির পর অবস্থান পরিবর্তন

ভারত সরকার কয়েক বছর ধরেই প্যাকেটজাত খাবারে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক লেবেল চালুর চেষ্টা করছিল। তবে চলতি বছর শিল্পখাতের ব্যক্তিগত আপত্তির পর একটি প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোক্তা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।India proposes front-of-pack warning labels for packaged foods after public  outcry | The Business Standard

এর আগে মার্চের এক বৈঠকে খাদ্যশিল্পের কর্মকর্তারা সতর্কতামূলক চিহ্নকে বিভ্রান্তিকর ও অকার্যকর বলে দাবি করেছিলেন। তারা ভোক্তাদের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন। কোকা-কোলা ইন্ডিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মলি ভট্টাচার্যও বলেছিলেন, যারা উপাদানের তালিকা পড়েন না, তারা শুধু প্রতীক দেখে খাদ্যাভ্যাস উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে ফেলবেন—এমন ধারণা অতিসরলীকৃত।

সুপ্রিম কোর্টের চাপ

স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্কতামূলক লেবেল চালুর দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। চলতি মাসে সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলার পাশাপাশি ভারতের নাগরিকদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে দেশটির উদ্বেগ স্পষ্ট করার কথাও বলেছিল। আদালত ইসরায়েলের মতো মডেল বিবেচনার কথাও জানিয়েছিল, যেখানে লবণ, চিনি বা চর্বির যেকোনো একটির মাত্রা বেশি হলেই লাল সতর্কতা দেওয়া হয়।

তবে শুক্রবারের প্রস্তাবে ভারত সেই মডেলের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। এখানে অন্তত দুটি পুষ্টি উপাদানের মাত্রা বেশি হলেই লাল সতর্কতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত হতে পারেন।

এফএসএসএআই জানিয়েছে, শিল্পখাতকে প্রস্তুতির সুযোগ দিতে সতর্কতামূলক লেবেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। একক উপাদান দিয়ে তৈরি খাবার এ নিয়মের বাইরে থাকবে।