১২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ভারতে রপ্তানি বন্ধ, ২৪ থেকে নেমে ৮ রুপি কেজি—গুদামে জমে যাচ্ছে হাজার টন কলা

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের অন্যতম বড় কলা রপ্তানি কেন্দ্র সোলাপুর জেলায় এখন সংকট ঘনীভূত। পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনার প্রভাবে রপ্তানি কার্যত থমকে যাওয়ায় হাজার হাজার টন কলা ঠান্ডা গুদামে জমে আছে। এর ফলে বাজারে দামের বড় পতন হয়েছে। রপ্তানিযোগ্য কলা যেখানে আগে কেজি প্রতি ১৯ থেকে ২৪ রুপিতে বিক্রি হতো, এখন স্থানীয় বাজারে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮ থেকে ৯ রুপিতে।

রপ্তানি নির্ভর কলা উৎপাদনের কেন্দ্র

সোলাপুর জেলার কর্মালা তহসিলের কান্ধার গ্রামের আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কলা রপ্তানি অঞ্চলের একটি। উজানি বাঁধের ব্যাকওয়াটারের পাশের এই অঞ্চল উচ্চমানের কলা উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানকার কলা নিয়মিতভাবে ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং সৌদি আরবসহ বিভিন্ন পশ্চিম এশিয়ার দেশে রপ্তানি করা হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই রপ্তানি কার্যক্রম হঠাৎ করে স্থবির হয়ে পড়েছে।

বন্দরে আটকে রপ্তানি চালান

চাষি ও রপ্তানিকারকদের মতে, মুম্বাইয়ের কাছে জওহরলাল নেহরু বন্দর এলাকায় একাধিক রপ্তানি চালান আটকে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে কলা সংগ্রহ ও ঠান্ডা গুদামে সংরক্ষণের কাজও ধীর হয়ে গেছে।

বর্তমানে কর্মালা এবং পাশের মালশিরাস তহসিল মিলিয়ে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন কলা ঠান্ডা গুদামে জমে রয়েছে, যা রপ্তানির অপেক্ষায় আছে।

দাম কমে চাষিদের বড় ক্ষতির আশঙ্কা

রপ্তানিকারকদের মতে, আগে রপ্তানিযোগ্য মানের কলা প্রতি কেজি ১৯ থেকে ২৪ রুপিতে বিক্রি করা যেত। কিন্তু এখন সেই একই কলা যদি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হয়, তাহলে দাম নেমে আসছে মাত্র ৮ থেকে ৯ রুপিতে।

Banana Market: Export Shock, Price Crash & Storage Crisis (India Focus)

স্থানীয় এক রপ্তানিকারক জানান, এই দামে বিক্রি করলে উৎপাদকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

গালফ অঞ্চলে কলা রপ্তানি করা কেডি গ্রুপের প্রতিনিধি কিরণ ডোকে বলেন, যদি এই কলা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হয়, তাহলে তা সম্পূর্ণ লোকসানের ব্যবসা হয়ে যাবে।

যুদ্ধঝুঁকি খরচে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়

রপ্তানিকারকদের দাবি, কর্মালা থেকে জওহরলাল নেহরু বন্দরে পাঠানো বেশ কয়েকটি রেফ্রিজারেটেড কন্টেইনার বর্তমানে বন্দরে আটকে আছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।

জাহাজ কোম্পানিগুলো প্রতি কন্টেইনারে প্রায় ৪ হাজার ডলার অতিরিক্ত যুদ্ধঝুঁকি চার্জ আরোপ করেছে, ফলে রপ্তানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে, ইরানের বন্দর আব্বাসে যাওয়ার কথা ছিল এমন কিছু জাহাজকে দুবাইয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে রপ্তানিতে বিলম্ব এবং খরচ দুইই বেড়েছে।

বৃহৎ কলা চাষের এলাকা

সোলাপুর জেলায় প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। এই বিশাল উৎপাদনের বড় অংশই বিদেশে রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু চাষিরাই নয়, ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতও বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ভারতে রপ্তানি বন্ধ, ২৪ থেকে নেমে ৮ রুপি কেজি—গুদামে জমে যাচ্ছে হাজার টন কলা

০৫:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের অন্যতম বড় কলা রপ্তানি কেন্দ্র সোলাপুর জেলায় এখন সংকট ঘনীভূত। পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনার প্রভাবে রপ্তানি কার্যত থমকে যাওয়ায় হাজার হাজার টন কলা ঠান্ডা গুদামে জমে আছে। এর ফলে বাজারে দামের বড় পতন হয়েছে। রপ্তানিযোগ্য কলা যেখানে আগে কেজি প্রতি ১৯ থেকে ২৪ রুপিতে বিক্রি হতো, এখন স্থানীয় বাজারে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮ থেকে ৯ রুপিতে।

রপ্তানি নির্ভর কলা উৎপাদনের কেন্দ্র

সোলাপুর জেলার কর্মালা তহসিলের কান্ধার গ্রামের আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কলা রপ্তানি অঞ্চলের একটি। উজানি বাঁধের ব্যাকওয়াটারের পাশের এই অঞ্চল উচ্চমানের কলা উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানকার কলা নিয়মিতভাবে ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং সৌদি আরবসহ বিভিন্ন পশ্চিম এশিয়ার দেশে রপ্তানি করা হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই রপ্তানি কার্যক্রম হঠাৎ করে স্থবির হয়ে পড়েছে।

বন্দরে আটকে রপ্তানি চালান

চাষি ও রপ্তানিকারকদের মতে, মুম্বাইয়ের কাছে জওহরলাল নেহরু বন্দর এলাকায় একাধিক রপ্তানি চালান আটকে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে কলা সংগ্রহ ও ঠান্ডা গুদামে সংরক্ষণের কাজও ধীর হয়ে গেছে।

বর্তমানে কর্মালা এবং পাশের মালশিরাস তহসিল মিলিয়ে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন কলা ঠান্ডা গুদামে জমে রয়েছে, যা রপ্তানির অপেক্ষায় আছে।

দাম কমে চাষিদের বড় ক্ষতির আশঙ্কা

রপ্তানিকারকদের মতে, আগে রপ্তানিযোগ্য মানের কলা প্রতি কেজি ১৯ থেকে ২৪ রুপিতে বিক্রি করা যেত। কিন্তু এখন সেই একই কলা যদি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হয়, তাহলে দাম নেমে আসছে মাত্র ৮ থেকে ৯ রুপিতে।

Banana Market: Export Shock, Price Crash & Storage Crisis (India Focus)

স্থানীয় এক রপ্তানিকারক জানান, এই দামে বিক্রি করলে উৎপাদকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

গালফ অঞ্চলে কলা রপ্তানি করা কেডি গ্রুপের প্রতিনিধি কিরণ ডোকে বলেন, যদি এই কলা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হয়, তাহলে তা সম্পূর্ণ লোকসানের ব্যবসা হয়ে যাবে।

যুদ্ধঝুঁকি খরচে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়

রপ্তানিকারকদের দাবি, কর্মালা থেকে জওহরলাল নেহরু বন্দরে পাঠানো বেশ কয়েকটি রেফ্রিজারেটেড কন্টেইনার বর্তমানে বন্দরে আটকে আছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।

জাহাজ কোম্পানিগুলো প্রতি কন্টেইনারে প্রায় ৪ হাজার ডলার অতিরিক্ত যুদ্ধঝুঁকি চার্জ আরোপ করেছে, ফলে রপ্তানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে, ইরানের বন্দর আব্বাসে যাওয়ার কথা ছিল এমন কিছু জাহাজকে দুবাইয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে রপ্তানিতে বিলম্ব এবং খরচ দুইই বেড়েছে।

বৃহৎ কলা চাষের এলাকা

সোলাপুর জেলায় প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। এই বিশাল উৎপাদনের বড় অংশই বিদেশে রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু চাষিরাই নয়, ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতও বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়তে পারে।