দুই পাশে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর, উত্তরে ও দক্ষিণে তুলনামূলকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ দুই প্রতিবেশী—যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-চিন্তার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে এই ভৌগোলিক সুবিধার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার এবং সামরিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শ্রেষ্ঠত্ব। ফলে দেশের ভেতরে বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কা অনেক আমেরিকানের কাছে প্রায় অবাস্তব বলে মনে হয়েছে। ২০২৪ সালের শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের এক জরিপেও দেখা যায়, বিদেশি হুমকি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন মাত্র ১৯ শতাংশ উত্তরদাতা।
কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ এখন শুধু সন্ত্রাসী হামলা নয়; রাষ্ট্রীয় প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র, সাইবার আক্রমণ, ড্রোন, মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর নাশকতার সমন্বিত ব্যবহারও ভবিষ্যৎ সংঘাতের অংশ হয়ে উঠছে। চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া এমন সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে। একই সময়ে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা কাঠামো এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয়নি।
সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামো দিয়ে নতুন হুমকি ঠেকানো যাবে না
৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র যে নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলেছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা। প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার, জয়েন্ট টেররিজম টাস্ক ফোর্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ভাগাভাগির সক্ষমতা বাড়িয়েছিল। এসব উদ্যোগ সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র ঠেকাতে কার্যকরও হয়েছিল।
সমস্যা হলো, হুমকির প্রকৃতি বদলে গেছে। চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার হাতে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধও দেখিয়েছে, বড় পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার থাকা মানেই মূল ভূখণ্ড প্রচলিত হামলা থেকে নিরাপদ—এমন নিশ্চয়তা আর আগের মতো কার্যকর নয়। ইসরায়েলে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যাপক হামলা এবং ইউক্রেনের রুশ ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূরপাল্লার আঘাত এই পরিবর্তনের বাস্তব উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাতেও বড় ফাঁক রয়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর নেই। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে THAAD ইন্টারসেপ্টরের বৈশ্বিক মজুত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার কথাও লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আরও জটিল সমস্যা তৈরি করে, কারণ এগুলো নিচু দিয়ে উড়ে প্রচলিত রাডারের নজর এড়িয়ে যেতে পারে এবং পাহাড়-উপত্যকার আড়াল ব্যবহার করতে পারে।
চীনের সক্ষমতা আরও বিস্তৃত
চীনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি শুধু প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রে সীমাবদ্ধ নয়। মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতার উন্নয়ন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত সতর্কীকরণ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও চ্যালেঞ্জ করছে। ফ্র্যাকশনাল অরবিটাল বোম্বার্ডমেন্ট সিস্টেমের মতো প্রযুক্তি এমন দিক থেকে আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা প্রচলিত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সহজে অনুমান করতে পারে না। চীন একই সঙ্গে অন্যান্য মহাকাশভিত্তিক আঘাতের সক্ষমতা নিয়েও গবেষণা করছে।
এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে আর কেবল আকাশসীমা ও স্থলভিত্তিক প্রতিরক্ষা ঘিরে সাজালে চলবে না। যুদ্ধের ক্ষেত্র এখন মহাকাশ, সাইবার জগৎ ও বেসামরিক অবকাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত।
ড্রোন: সস্তা প্রযুক্তি, বড় বিপর্যয়ের সম্ভাবনা
নতুন বাস্তবতার সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতীক ড্রোন। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এগুলো তুলনামূলক সস্তা, সহজলভ্য এবং আগের চেয়ে দীর্ঘপাল্লার ও বেশি সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একসঙ্গে বহু ড্রোন পরিচালনা করা সম্ভব হলে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সংখ্যার চাপে অকার্যকর করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। লেখায় বলা হয়েছে, রাশিয়া বছরে ৭০ লাখ পর্যন্ত অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন উৎপাদন করছে এবং কিছু হিসাব অনুযায়ী চীনের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা একশ কোটি ড্রোন পর্যন্ত হতে পারে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করতে বিপুল সংখ্যক ড্রোনের প্রয়োজন নাও হতে পারে। ২০২৫ সালে ইউক্রেন রাশিয়ায় শতাধিক ড্রোন পাচার করে এমন হামলা চালিয়েছিল, যাতে রাশিয়ার সক্রিয় বোমারু বহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয় এবং প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি ঘটে। এই ঘটনা দেখিয়েছে, বড় সামরিক শক্তির বিরুদ্ধেও তুলনামূলক ছোট ও গোপন ড্রোন অভিযান বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রেও সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অনুমোদনহীন ড্রোন ওড়ার ঘটনা বেড়েছে। এমনকি জনসমাগম, ক্রীড়া আয়োজন, বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোও সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ড্রোন রেডিও সংকেতের ওপর কম নির্ভরশীল হলে প্রচলিত জ্যামিং ব্যবস্থাও সব ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে।
সাইবার যুদ্ধের নতুন মাত্রা
ড্রোনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাইবার হামলার চরিত্রও বদলে দিতে পারে। এজেন্টিক এআই এমনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, যাতে কোনো আক্রমণকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটার ব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত করে এবং একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আক্রমণ চালাতে পারে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে মানব অপারেটরদের পরিচালিত সাইবার অভিযানের বদলে দ্রুতগতির, অভিযোজনক্ষম এবং বহুমুখী হামলার ঝুঁকি তৈরি হবে।
চীনের ‘ভোল্ট টাইফুন’ অভিযান এর আগের সতর্কসংকেত। ২০২১ সাল থেকে বিদ্যুৎ গ্রিড, পানি শোধনাগার, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিবহনকেন্দ্রে অনুপ্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামোতে আগে থেকেই প্রবেশাধিকার তৈরি করে রাখা হলে সংকটের মুহূর্তে তা নাশকতার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। এআই যুক্ত হলে একই ধরনের অভিযান আরও দ্রুত ও ব্যাপক আকার নিতে পারে।
মহাকাশও আর নিরাপদ নয়
যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন জীবন এখন মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। জিপিএস, নেভিগেশন, বাণিজ্যিক বিমান চলাচল, সরবরাহব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহনের বড় অংশ স্যাটেলাইটনির্ভর। চীন ও রাশিয়া অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র, নির্দেশিত শক্তির অস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা উন্নত করছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে স্যাটেলাইট অকার্যকর করা গেলে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে সাধারণ মানুষের জীবনও দ্রুত বিপর্যস্ত হতে পারে।
প্রতিরক্ষায় প্রয়োজন নতুন অগ্রাধিকার
এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কাজ হওয়া উচিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়—দুই ধরনের প্রতিরক্ষা জোরদার করা। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য প্যাট্রিয়ট ও THAAD, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য মাঝারি পাল্লার ব্যবস্থা এবং ড্রোন মোকাবিলায় স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে লেজার, উচ্চক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ, রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামিং ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
সবকিছু একসঙ্গে সুরক্ষিত করা বাস্তবে সম্ভব নয়। তাই সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, বোমারু বিমানঘাঁটি, পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপনা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বড় নৌঘাঁটির মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে প্রথম সারির অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ও শক্তিশালী কংক্রিটের সুরক্ষা কাঠামোর মতো নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষাও বাড়াতে হবে।
‘গোল্ডেন ডোম’ উদ্যোগও এই কাঠামোর অংশ হতে পারে। তবে নতুন নতুন প্রযুক্তি তৈরির পেছনে সব সম্পদ ঢালার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান রাডার, স্যাটেলাইট, সেন্সর, গ্রাউন্ড-বেসড ইন্টারসেপ্টর এবং অন্যান্য সরকারি, স্থানীয় ও বেসরকারি ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কে যুক্ত করাই বেশি জরুরি। একই সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতিতে নিয়মিত মহড়া চালিয়ে ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা যাচাই করতে হবে।
ড্রোন মোকাবিলায় আইনও বদলাতে হবে
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার পাশাপাশি রয়েছে আইনি সীমাবদ্ধতা। সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত অনেক কর্মকর্তার কাছে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ড্রোন ধ্বংস বা অকার্যকর করার পর্যাপ্ত আইনি ক্ষমতা নেই। ২০২৫ সালের সেফার স্কাইজ অ্যাক্ট কিছু ক্ষেত্রে রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থার ড্রোন শনাক্ত ও অনুসরণের ক্ষমতা বাড়িয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষিত অপারেটরদের তত্ত্বাবধানের মধ্যে থেকে কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা ব্যবহারের জন্য আরও বিস্তৃত আইন প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেসামরিক বিমান যাতে ভুল করে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণও জরুরি।
গোয়েন্দা কাঠামোয়ও পরিবর্তন দরকার
৯/১১-এর পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু আজকের হুমকি এতটাই বিচিত্র যে শুধু সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামো দিয়ে তা সামাল দেওয়া কঠিন। চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরানসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সক্ষমতা এবং ড্রোন-এআইয়ের মতো প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে নতুন ধরনের সমন্বিত গোয়েন্দা কাঠামো প্রয়োজন। লেখকের প্রস্তাব অনুযায়ী, একাধিক সংস্থার বিশ্লেষককে এক জায়গায় এনে তথ্য একীভূত, হুমকি বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত পরিকল্পনা সমন্বয়ের জন্য একটি শক্তিশালী ন্যাশনাল কাউন্টারইন্টেলিজেন্স সেন্টার গড়ে তোলা যেতে পারে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি অবশ্য মানসিকতার
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে মূল প্রশ্নটি কেবল কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা কেনা হবে, তা নয়। আরও মৌলিক প্রশ্ন হলো—দেশটি কি এখনো ধরে নেবে যে দুই মহাসাগর ও পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তাকে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপদ রাখবে?
ফিনল্যান্ড, ইসরায়েল ও ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে তাদের জনগণকে সম্ভাব্য জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে প্রস্তুত করার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রেরও একই ধরনের জাতীয় স্থিতিস্থাপকতা পরিকল্পনা প্রয়োজন—যেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো শক্তিশালী করা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার এবং জনগণকে নতুন ধরনের হুমকি সম্পর্কে প্রস্তুত করার বিষয়গুলো থাকবে।
৯/১১ যুক্তরাষ্ট্রকে দেখিয়েছিল, সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যর্থতা কখনো কখনো শত্রুর শক্তিতে নয়, বরং পরিবর্তিত হুমকি কল্পনা করতে না পারায়। এক প্রজন্ম পর সেই শিক্ষা আবারও সামনে এসেছে। এবার বিপদটি শুধু সন্ত্রাসী সংগঠন থেকে আসছে না; রাষ্ট্রীয় সামরিক শক্তি, সাইবার অভিযান, স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন ও মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র একই নিরাপত্তা সংকটের অংশ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি পুরোনো নিরাপত্তার ধারণায় আটকে থাকে, তাহলে তার সবচেয়ে বড় শক্তি—প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সামরিক ক্ষমতাই হয়তো যথেষ্ট হবে না। নতুন যুগের জন্য প্রয়োজন নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নতুন আইন, নতুন গোয়েন্দা কাঠামো এবং সর্বোপরি নতুন বাস্তবতাকে স্বীকার করার রাজনৈতিক সাহস।
জি. জোনস 



















