হিমালয়ের ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাবে এই ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ নেপালের মোট অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান।
হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বিপর্যয়
বুধবার একটি হিমবাহ ধসে পাহাড়ি নদীগুলোতে প্রচণ্ড স্রোতের সৃষ্টি হয়। পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে। এতে ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনো ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পানির তোড়ে সীমান্তবর্তী এলাকার বেশ কয়েকটি শহর ও জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে বহু সেতু ও সড়ক। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রও।
অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
নেপালের অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো করা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে পুনর্গঠনের ব্যয় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নেপালের পুনর্গঠনে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হন এবং ৫ লাখের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়। অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল দেশটির মোট অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
তবে এবারের বন্যার পুনর্গঠন ব্যয় ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের তুলনায় কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জলবিদ্যুৎ খাতেও বিপর্যয়
বন্যার কারণে নেপালের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রবাসী আয়, পর্যটন ও জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল দেশটির জন্য এই দুর্যোগ বড় আঘাত হয়ে এসেছে।
বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ক্ষতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলো নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশেরও বেশি অংশের সঙ্গে যুক্ত।
ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব শেষ হলে পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে। তবে ইতোমধ্যেই ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ব্যয় নেপালের জন্য এই দুর্যোগের ব্যাপক অর্থনৈতিক অভিঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















