১১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

মুরাদনগরের ধর্ষনের ঘটনায় ৩৭ নাগরিকের বিবৃতি

২৬ জুন ২০২৫, বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার একটি গ্রামে ভয়াবহ একটি ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফজর আলী নামের একজন ব্যক্তি ঘর ভেঙে ঢুকে এক নারীকে ধর্ষণ করে। শোরগোল শুনে এলাকাবাসী ছুটে এসে, তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় মারধর পায় সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী নারী পরদিন, ২৭ জুন দুপুরে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন। পুলিশ মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে এবং ভিডিও ছড়ানোর সাথে যুক্ত সুমন, রমজান আলী, আরিফ ও অনিককে গ্রেপ্তার করেছে।

নাগরিক সমাজের বিবৃতি ও প্রধান দাবি

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ৩৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন—

সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার: ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং ভিডিও ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।

ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা: ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা, মনোসামাজিক সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

গণমাধ্যমের দায়িত্ব: ভুক্তভোগীর পরিচয় বা ছবি প্রকাশ না করে প্রচলিত আইন মেনে সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে।

সামাজিক প্রতিরোধ কাঠামো: জাতীয় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সমন্বিত সচেতনতা, তদারকি ও প্রতিরোধ কর্মসূচি গড়ে তুলতে হবে।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান

একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগীর মুখ দেখানো হয়েছে, যা আইনের লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। বক্তারা সব গণমাধ্যমকে ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষায় আরো দায়িত্বশীল হতে বলেন।

সমাজের প্রতি আহ্বান

সরকার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও নারী সংগঠন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—সকলকে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগে এই ধরনের বর্বরতা রোধে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

স্বাক্ষরকারীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা

(ক্রম অনুসারে) সুলতানা কামাল, খুশী কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, রাশেদা কে. চৌধুরী, শিরীন পারভীন হক, শাহীন আনাম, ড. সুমাইয়া খায়ের, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, ড. শহিদুল আলম, ড. গীতি আরা নাসরিন, এড. তাসলিমা ইসলাম, ড. স্বপন আদনান, শামসুল হুদা, ড. জোবাইদা নাসরীন, এড. সুব্রত চৌধুরী, ড. শাহনাজ হুদা, রোবায়েত ফেরদৌস, তাসনীম সিরাজ মাহবুব, ড. খায়রুল চৌধুরী, ড. নোভা আহমেদ, পাভেল পার্থ, নুর খান, মনীন্দ্র কুমার নাথ, ড. ফিরদৌস আজীম, ড. সাদাফ নূর, রেজাউল করিম চৌধুরী, জাকির হোসেন, ড. ফস্টিনা পেরেইরা, রেহনুমা আহমেদ, সায়দিয়া গুলরুখ, ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, রেজাউর রহমান লেলিন, জবা তালুকদার, সাঈদ আহমেদ, বারিশ হাসান চৌধুরী, হানা শামস আহমেদ।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

মুরাদনগরের ধর্ষনের ঘটনায় ৩৭ নাগরিকের বিবৃতি

০৬:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

২৬ জুন ২০২৫, বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার একটি গ্রামে ভয়াবহ একটি ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফজর আলী নামের একজন ব্যক্তি ঘর ভেঙে ঢুকে এক নারীকে ধর্ষণ করে। শোরগোল শুনে এলাকাবাসী ছুটে এসে, তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় মারধর পায় সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী নারী পরদিন, ২৭ জুন দুপুরে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন। পুলিশ মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে এবং ভিডিও ছড়ানোর সাথে যুক্ত সুমন, রমজান আলী, আরিফ ও অনিককে গ্রেপ্তার করেছে।

নাগরিক সমাজের বিবৃতি ও প্রধান দাবি

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ৩৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন—

সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার: ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং ভিডিও ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।

ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা: ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা, মনোসামাজিক সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

গণমাধ্যমের দায়িত্ব: ভুক্তভোগীর পরিচয় বা ছবি প্রকাশ না করে প্রচলিত আইন মেনে সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে।

সামাজিক প্রতিরোধ কাঠামো: জাতীয় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সমন্বিত সচেতনতা, তদারকি ও প্রতিরোধ কর্মসূচি গড়ে তুলতে হবে।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান

একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগীর মুখ দেখানো হয়েছে, যা আইনের লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। বক্তারা সব গণমাধ্যমকে ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষায় আরো দায়িত্বশীল হতে বলেন।

সমাজের প্রতি আহ্বান

সরকার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও নারী সংগঠন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—সকলকে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগে এই ধরনের বর্বরতা রোধে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

স্বাক্ষরকারীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা

(ক্রম অনুসারে) সুলতানা কামাল, খুশী কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, রাশেদা কে. চৌধুরী, শিরীন পারভীন হক, শাহীন আনাম, ড. সুমাইয়া খায়ের, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, ড. শহিদুল আলম, ড. গীতি আরা নাসরিন, এড. তাসলিমা ইসলাম, ড. স্বপন আদনান, শামসুল হুদা, ড. জোবাইদা নাসরীন, এড. সুব্রত চৌধুরী, ড. শাহনাজ হুদা, রোবায়েত ফেরদৌস, তাসনীম সিরাজ মাহবুব, ড. খায়রুল চৌধুরী, ড. নোভা আহমেদ, পাভেল পার্থ, নুর খান, মনীন্দ্র কুমার নাথ, ড. ফিরদৌস আজীম, ড. সাদাফ নূর, রেজাউল করিম চৌধুরী, জাকির হোসেন, ড. ফস্টিনা পেরেইরা, রেহনুমা আহমেদ, সায়দিয়া গুলরুখ, ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, রেজাউর রহমান লেলিন, জবা তালুকদার, সাঈদ আহমেদ, বারিশ হাসান চৌধুরী, হানা শামস আহমেদ।