০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল ভান্ডার থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল মজুত ভান্ডার থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

বড় কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এক্সন মোবিল, ট্রাফিগুরা ও ম্যারাথন পেট্রোলিয়ামসহ মোট নয়টি প্রতিষ্ঠান এই তেল ঋণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। গত মাসে ৯ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও কোম্পানিগুলো তার প্রায় ৫৮ শতাংশ গ্রহণ করেছে।

US to loan 53.3 million barrels of oil from Strategic Petroleum Reserve |  BOE Report

এর আগে চলতি বসন্তেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল ভান্ডার থেকে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল ছেড়েছিল। সব মিলিয়ে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

হরমুজ সংকটের বড় প্রভাব

বিশ্বের প্রতিদিনের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ইরান ওই রুটে চলাচল সীমিত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়তে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মার্চে হওয়া এক চুক্তির আওতায় ৩০টির বেশি দেশ মিলে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই তেল ঋণ দিচ্ছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে সতর্কতা

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব ও ইরানের অবস্থান

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেছেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। সরবরাহ ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে আরও তেল ছাড়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়ছে। দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ৫২ সেন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

করদাতাদের ওপর চাপ পড়বে না

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই তেল সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে না। কোম্পানিগুলো পরবর্তীতে অপরিশোধিত তেল ফেরত দেবে এবং অতিরিক্ত প্রিমিয়ামও পরিশোধ করবে। এতে সরকারি রাজস্ব বাড়বে এবং করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না বলে দাবি প্রশাসনের।

বর্তমানে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার চারটি স্থাপনায় সংরক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল ভান্ডারে প্রায় ৩৮ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে। এই পরিমাণ তেল বিশ্বে চার দিনেরও কম সময়ের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

US lends 53.3 million barrels from oil reserve amid Iran conflict By  Investing.com

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল ভান্ডার থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

১২:১৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল মজুত ভান্ডার থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

বড় কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এক্সন মোবিল, ট্রাফিগুরা ও ম্যারাথন পেট্রোলিয়ামসহ মোট নয়টি প্রতিষ্ঠান এই তেল ঋণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। গত মাসে ৯ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও কোম্পানিগুলো তার প্রায় ৫৮ শতাংশ গ্রহণ করেছে।

US to loan 53.3 million barrels of oil from Strategic Petroleum Reserve |  BOE Report

এর আগে চলতি বসন্তেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল ভান্ডার থেকে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল ছেড়েছিল। সব মিলিয়ে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

হরমুজ সংকটের বড় প্রভাব

বিশ্বের প্রতিদিনের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ইরান ওই রুটে চলাচল সীমিত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়তে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মার্চে হওয়া এক চুক্তির আওতায় ৩০টির বেশি দেশ মিলে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই তেল ঋণ দিচ্ছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে সতর্কতা

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব ও ইরানের অবস্থান

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেছেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। সরবরাহ ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে আরও তেল ছাড়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়ছে। দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ৫২ সেন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

করদাতাদের ওপর চাপ পড়বে না

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই তেল সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে না। কোম্পানিগুলো পরবর্তীতে অপরিশোধিত তেল ফেরত দেবে এবং অতিরিক্ত প্রিমিয়ামও পরিশোধ করবে। এতে সরকারি রাজস্ব বাড়বে এবং করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না বলে দাবি প্রশাসনের।

বর্তমানে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার চারটি স্থাপনায় সংরক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল ভান্ডারে প্রায় ৩৮ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে। এই পরিমাণ তেল বিশ্বে চার দিনেরও কম সময়ের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

US lends 53.3 million barrels from oil reserve amid Iran conflict By  Investing.com