০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় ইতিবাচক বাংলাদেশ, সব সিদ্ধান্ত হবে জাতীয় স্বার্থে

বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে এ ধরনের যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা বা চুক্তি কেবল তখনই এগিয়ে নেওয়া হবে, যখন তা দেশের জনগণের স্বার্থ, অর্থনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান ইতিবাচক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতা বা চুক্তি বিবেচনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ।

জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক সুবিধাই অগ্রাধিকার

শামা ওবায়েদ বলেন, যে কোনো চুক্তি যদি দেশের মানুষের জন্য উপকারী হয়, অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে, তাহলে সরকার তা এগিয়ে নিতে আগ্রহী থাকবে।

অন্যদিকে, কোনো প্রস্তাব যদি জনগণের স্বার্থবিরোধী বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে সরকার সেটি পুনর্বিবেচনা করবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

সম্প্রতি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বাংলাদেশ সফরের সময় ওয়াশিংটন বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন আলোচনা

এদিকে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মারা বার্ড জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন।

সফরকালে তিনি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দীর্ঘদিনের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পেশাগত সামরিক শিক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হবে।

অ্যাডমিরাল কোহলারের পেশাগত অভিজ্ঞতা

অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার একটি নৌবাহিনী-সংযুক্ত পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তিনি ১৯৮৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো অ্যাট বোল্ডার থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং নেভাল রিজার্ভ অফিসার ট্রেনিং কর্পসের মাধ্যমে কমিশন লাভ করেন।

১৯৮৯ সালে নৌবাহিনীর বৈমানিক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এফ-১৪ টমক্যাট এবং এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানে ৩ হাজার ৯০০ ঘণ্টার বেশি উড্ডয়ন করেছেন। এছাড়া বিমানবাহী রণতরীতে তার ৬০০টিরও বেশি সফল অবতরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং জয়েন্ট স্টাফ কলেজ ও নেভি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রোগ্রামেরও স্নাতক।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ইতিবাচক হলেও সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতের সব সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে জাতীয় স্বার্থ, জনগণের কল্যাণ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে।

জাতীয় স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা, সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় ইতিবাচক বাংলাদেশ, সব সিদ্ধান্ত হবে জাতীয় স্বার্থে

০৯:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে এ ধরনের যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা বা চুক্তি কেবল তখনই এগিয়ে নেওয়া হবে, যখন তা দেশের জনগণের স্বার্থ, অর্থনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান ইতিবাচক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতা বা চুক্তি বিবেচনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ।

জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক সুবিধাই অগ্রাধিকার

শামা ওবায়েদ বলেন, যে কোনো চুক্তি যদি দেশের মানুষের জন্য উপকারী হয়, অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে, তাহলে সরকার তা এগিয়ে নিতে আগ্রহী থাকবে।

অন্যদিকে, কোনো প্রস্তাব যদি জনগণের স্বার্থবিরোধী বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে সরকার সেটি পুনর্বিবেচনা করবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

সম্প্রতি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বাংলাদেশ সফরের সময় ওয়াশিংটন বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন আলোচনা

এদিকে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মারা বার্ড জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন।

সফরকালে তিনি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দীর্ঘদিনের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পেশাগত সামরিক শিক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হবে।

অ্যাডমিরাল কোহলারের পেশাগত অভিজ্ঞতা

অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার একটি নৌবাহিনী-সংযুক্ত পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তিনি ১৯৮৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো অ্যাট বোল্ডার থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং নেভাল রিজার্ভ অফিসার ট্রেনিং কর্পসের মাধ্যমে কমিশন লাভ করেন।

১৯৮৯ সালে নৌবাহিনীর বৈমানিক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এফ-১৪ টমক্যাট এবং এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানে ৩ হাজার ৯০০ ঘণ্টার বেশি উড্ডয়ন করেছেন। এছাড়া বিমানবাহী রণতরীতে তার ৬০০টিরও বেশি সফল অবতরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং জয়েন্ট স্টাফ কলেজ ও নেভি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রোগ্রামেরও স্নাতক।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ইতিবাচক হলেও সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতের সব সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে জাতীয় স্বার্থ, জনগণের কল্যাণ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে।

জাতীয় স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা, সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।