০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

যুদ্ধের মাঝেই বদলে গেছে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র, শক্তিশালী হচ্ছে বিপ্লবী গার্ড

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের দুই মাস পার হতে না হতেই ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন অনেকটাই সরে গেছে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে।

সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পরিবর্তন
যুদ্ধের শুরুতেই শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে সামনে আনা হয়। তবে বাস্তবে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ব্যক্তি নন বলে জানা যাচ্ছে। বরং তার ভূমিকা এখন অনেকটাই অনুমোদন দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকৃত ক্ষমতা চলে গেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পসের হাতে, যারা সামরিক কৌশল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করছে।

নিরাপত্তা কাঠামোর প্রভাব বৃদ্ধি
যুদ্ধের চাপ ইরানের ভেতরে একটি সংকীর্ণ কিন্তু শক্তিশালী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গোষ্ঠী তৈরি করেছে। এই গোষ্ঠীর কেন্দ্রে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, বিপ্লবী গার্ড এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়।

ফলে আগের মতো একক নেতৃত্বের পরিবর্তে এখন একটি সমন্বিত কিন্তু কঠোর নিরাপত্তা-নির্ভর কাঠামো তৈরি হয়েছে, যেখানে সামরিক নেতৃত্বই মূল চালিকাশক্তি।

যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র 'উত্তেজনা বাড়ানোর প্রস্তুতি'?

আলোচনায় জটিলতা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনাও এই নতুন ক্ষমতার কাঠামোর কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। মধ্যস্থতাকারীরা বলছেন, ইরানের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে, কারণ স্পষ্ট কোনো একক কর্তৃত্ব নেই।

একই সঙ্গে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ফারাক থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই পারমাণবিক ইস্যুতে সমাধান চাইলেও ইরান সেটিকে পরে আলোচনা করতে চায়।

বিপ্লবী গার্ডের বাড়তি প্রভাব
মাঠপর্যায়ে এবং কৌশলগতভাবে বিপ্লবী গার্ডের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদেরই চূড়ান্ত ভূমিকা দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে ইরানের নীতি আরও কঠোর হতে পারে। পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার দিকেই ঝুঁকছে দেশটি।

নতুন বাস্তবতা: ধর্মীয় থেকে নিরাপত্তা আধিপত্য
ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এখন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। যেখানে আগে ধর্মীয় নেতৃত্ব ছিল প্রধান, এখন সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রভাবই নির্ধারণ করছে দেশের দিকনির্দেশনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু সাময়িক নয়, বরং ভবিষ্যতের ইরানকে নতুন পথে নিয়ে যেতে পারে—যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কেন্দ্রীভূত ও কঠোর হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

যুদ্ধের মাঝেই বদলে গেছে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র, শক্তিশালী হচ্ছে বিপ্লবী গার্ড

০৮:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের দুই মাস পার হতে না হতেই ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন অনেকটাই সরে গেছে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে।

সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পরিবর্তন
যুদ্ধের শুরুতেই শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে সামনে আনা হয়। তবে বাস্তবে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ব্যক্তি নন বলে জানা যাচ্ছে। বরং তার ভূমিকা এখন অনেকটাই অনুমোদন দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকৃত ক্ষমতা চলে গেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পসের হাতে, যারা সামরিক কৌশল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করছে।

নিরাপত্তা কাঠামোর প্রভাব বৃদ্ধি
যুদ্ধের চাপ ইরানের ভেতরে একটি সংকীর্ণ কিন্তু শক্তিশালী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গোষ্ঠী তৈরি করেছে। এই গোষ্ঠীর কেন্দ্রে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, বিপ্লবী গার্ড এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়।

ফলে আগের মতো একক নেতৃত্বের পরিবর্তে এখন একটি সমন্বিত কিন্তু কঠোর নিরাপত্তা-নির্ভর কাঠামো তৈরি হয়েছে, যেখানে সামরিক নেতৃত্বই মূল চালিকাশক্তি।

যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র 'উত্তেজনা বাড়ানোর প্রস্তুতি'?

আলোচনায় জটিলতা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনাও এই নতুন ক্ষমতার কাঠামোর কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। মধ্যস্থতাকারীরা বলছেন, ইরানের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে, কারণ স্পষ্ট কোনো একক কর্তৃত্ব নেই।

একই সঙ্গে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ফারাক থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই পারমাণবিক ইস্যুতে সমাধান চাইলেও ইরান সেটিকে পরে আলোচনা করতে চায়।

বিপ্লবী গার্ডের বাড়তি প্রভাব
মাঠপর্যায়ে এবং কৌশলগতভাবে বিপ্লবী গার্ডের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদেরই চূড়ান্ত ভূমিকা দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে ইরানের নীতি আরও কঠোর হতে পারে। পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার দিকেই ঝুঁকছে দেশটি।

নতুন বাস্তবতা: ধর্মীয় থেকে নিরাপত্তা আধিপত্য
ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এখন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। যেখানে আগে ধর্মীয় নেতৃত্ব ছিল প্রধান, এখন সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রভাবই নির্ধারণ করছে দেশের দিকনির্দেশনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু সাময়িক নয়, বরং ভবিষ্যতের ইরানকে নতুন পথে নিয়ে যেতে পারে—যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কেন্দ্রীভূত ও কঠোর হবে।