০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

রুপির পতন ঠেকাতে আবারও ডলার বিক্রিতে সক্রিয় ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

টানা দরপতনের মুখে ভারতীয় রুপিকে স্থিতিশীল রাখতে আবারও আগ্রাসীভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করে বৃহস্পতিবার বাজার খোলার আগেই রুপির ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা চালানো হয়।

ব্যাংক খাতের একাধিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে রুপির মূল্য রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদক্ষেপ নেয়। ডলার বিক্রির ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই রুপির দর কিছুটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের বিপরীতে রুপির অবস্থান দ্রুত উন্নতি ঘটে।

দ্রুত পরিবর্তন বাজারে

বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দিনের শুরুতেই বড় অঙ্কের ডলার বিক্রির কারণে রুপির দর প্রায় ৭০ পয়সা পর্যন্ত শক্তিশালী হয়। পরে কিছুটা সমন্বয় হলেও এই পদক্ষেপে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরে আসে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রুপির ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে গত নয়টি লেনদেন সেশনে রুপির মান প্রায় আড়াই শতাংশ কমেছে। বুধবার রুপির দর প্রায় ৯৭-এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যা বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

কেন বাড়ছে চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকায় ভারতের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। ভারত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানিনির্ভর হওয়ায় ডলারের চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতাও রুপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উচ্চ তেলমূল্যের কারণে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কিছুটা কমানো হয়েছে। এতে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশল

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতীতেও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে বাজার খোলার আগে বা শুরুতেই বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করে তারা রুপির পতনের গতি থামানোর চেষ্টা করে থাকে।

যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো, তারা নির্দিষ্ট বিনিময় হার রক্ষা করতে নয়, বরং অতিরিক্ত অস্থিরতা কমাতে বাজারে হস্তক্ষেপ করে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ধীরে ধীরে ডলার বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছিল না বলেই এবার আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

একজন ট্রেজারি কর্মকর্তা জানান, বাজারে জল্পনাভিত্তিক অবস্থানও বেড়ে গিয়েছিল। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই চাপও কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবও বাড়ছে

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধিও রুপির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। তেলের দাম বাড়ার কারণে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মার্কিন বাজারে সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মুদ্রা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ভারতের অর্থনীতিতে সামনের দিনগুলোতে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ব্যয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

রুপির পতন ঠেকাতে আবারও ডলার বিক্রিতে সক্রিয় ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

০৭:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

টানা দরপতনের মুখে ভারতীয় রুপিকে স্থিতিশীল রাখতে আবারও আগ্রাসীভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করে বৃহস্পতিবার বাজার খোলার আগেই রুপির ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা চালানো হয়।

ব্যাংক খাতের একাধিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে রুপির মূল্য রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদক্ষেপ নেয়। ডলার বিক্রির ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই রুপির দর কিছুটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের বিপরীতে রুপির অবস্থান দ্রুত উন্নতি ঘটে।

দ্রুত পরিবর্তন বাজারে

বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দিনের শুরুতেই বড় অঙ্কের ডলার বিক্রির কারণে রুপির দর প্রায় ৭০ পয়সা পর্যন্ত শক্তিশালী হয়। পরে কিছুটা সমন্বয় হলেও এই পদক্ষেপে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরে আসে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রুপির ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে গত নয়টি লেনদেন সেশনে রুপির মান প্রায় আড়াই শতাংশ কমেছে। বুধবার রুপির দর প্রায় ৯৭-এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যা বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

কেন বাড়ছে চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকায় ভারতের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। ভারত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানিনির্ভর হওয়ায় ডলারের চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতাও রুপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উচ্চ তেলমূল্যের কারণে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কিছুটা কমানো হয়েছে। এতে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশল

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতীতেও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে বাজার খোলার আগে বা শুরুতেই বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করে তারা রুপির পতনের গতি থামানোর চেষ্টা করে থাকে।

যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো, তারা নির্দিষ্ট বিনিময় হার রক্ষা করতে নয়, বরং অতিরিক্ত অস্থিরতা কমাতে বাজারে হস্তক্ষেপ করে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ধীরে ধীরে ডলার বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছিল না বলেই এবার আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

একজন ট্রেজারি কর্মকর্তা জানান, বাজারে জল্পনাভিত্তিক অবস্থানও বেড়ে গিয়েছিল। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই চাপও কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবও বাড়ছে

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধিও রুপির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। তেলের দাম বাড়ার কারণে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মার্কিন বাজারে সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মুদ্রা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ভারতের অর্থনীতিতে সামনের দিনগুলোতে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ব্যয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।