০৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

শনির বলয় থেকে কণা সংগ্রহ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রোবট

গ্রহের বলয় নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য এবার আরও কাছ থেকে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ‘প্র্যাক্সিস’ নামের একটি নতুন মহাকাশ মিশন ধারণা প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থায়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এই অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত জীবপ্রেরণায় তৈরি রোবট ব্যবহার করে গ্রহের বলয় থেকে সরাসরি কণা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বলয় নিয়ে যে রহস্যের উত্তর খোঁজা হবে

গ্রহের বলয় কীভাবে তৈরি হয়, সময়ের সঙ্গে সেগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং বলয়ের কণাগুলো আসলে কী দিয়ে তৈরি—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। নতুন এই মিশনের অন্যতম লক্ষ্য হবে এসব রহস্যের গভীরে যাওয়া।

‘প্র্যাক্সিস’ নামটি গ্রহের বলয় থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণার ধারণাকে বোঝায়। এই মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, মহাকাশযানটি বলয়ের মধ্য দিয়ে সরাসরি উড়ে যাওয়ার পরিবর্তে বলয়ের প্রান্ত ছুঁয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে।

চলন্ত কণা থেকে নমুনা সংগ্রহ

গ্রহের বলয়ের কণাগুলো ক্রমাগত গতিশীল। ফলে সেগুলোর ভেতর দিয়ে মহাকাশযান চালানো হলে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই ভিন্ন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাকাশযানটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে একটি নির্দিষ্ট কণাকে লক্ষ্য করবে। এরপর দীর্ঘ প্রসারণযোগ্য বাহুর সাহায্যে সেই কণার পৃষ্ঠকে হালকাভাবে স্পর্শ করে নমুনা নেওয়া হবে। নমুনা সংগ্রহের পর মহাকাশযানটি বলয়ের অন্য অঞ্চল বা ফাঁকা জায়গায় চলে যাবে এবং সেখান থেকেও নমুনা নেওয়ার চেষ্টা করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা

এই অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সংগৃহীত কণাগুলোর আকার, ভেতরের ফাঁক বা ঘনত্ব এবং রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণে এটি সহায়তা করবে।

জীবের চলন ও আচরণ থেকে অনুপ্রাণিত রোবট ব্যবহারের ধারণাটিও মিশনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর মাধ্যমে মহাকাশযানকে পরিবর্তনশীল পরিবেশে আরও কার্যকরভাবে কাজ করানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এখনো গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে

প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থায়নের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় এখন মিশনটির বিভিন্ন সম্ভাব্য নকশা, কার্যপদ্ধতি ও কম্পিউটারভিত্তিক অনুকরণ নিয়ে গবেষণা শুরু করা যাবে। ভবিষ্যতে ধারণাটি আরও এগোতে পারলে এর বাস্তব নমুনা বা পরীক্ষামূলক কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হতে পারে।

গবেষকদের ধারণা, এই প্রযুক্তি শুধু একটি গ্রহের বলয় নয়, ভবিষ্যতে বলয়যুক্ত বিভিন্ন গ্রহের অনুসন্ধানেও কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে। ফলে মহাকাশ বিজ্ঞানে গ্রহের বলয় সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি সৌরজগতের গঠন ও বিবর্তন বোঝার পথও আরও পরিষ্কার হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

শনির বলয় থেকে কণা সংগ্রহ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রোবট

০২:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

গ্রহের বলয় নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য এবার আরও কাছ থেকে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ‘প্র্যাক্সিস’ নামের একটি নতুন মহাকাশ মিশন ধারণা প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থায়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এই অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত জীবপ্রেরণায় তৈরি রোবট ব্যবহার করে গ্রহের বলয় থেকে সরাসরি কণা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বলয় নিয়ে যে রহস্যের উত্তর খোঁজা হবে

গ্রহের বলয় কীভাবে তৈরি হয়, সময়ের সঙ্গে সেগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং বলয়ের কণাগুলো আসলে কী দিয়ে তৈরি—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। নতুন এই মিশনের অন্যতম লক্ষ্য হবে এসব রহস্যের গভীরে যাওয়া।

‘প্র্যাক্সিস’ নামটি গ্রহের বলয় থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণার ধারণাকে বোঝায়। এই মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, মহাকাশযানটি বলয়ের মধ্য দিয়ে সরাসরি উড়ে যাওয়ার পরিবর্তে বলয়ের প্রান্ত ছুঁয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে।

চলন্ত কণা থেকে নমুনা সংগ্রহ

গ্রহের বলয়ের কণাগুলো ক্রমাগত গতিশীল। ফলে সেগুলোর ভেতর দিয়ে মহাকাশযান চালানো হলে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই ভিন্ন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাকাশযানটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে একটি নির্দিষ্ট কণাকে লক্ষ্য করবে। এরপর দীর্ঘ প্রসারণযোগ্য বাহুর সাহায্যে সেই কণার পৃষ্ঠকে হালকাভাবে স্পর্শ করে নমুনা নেওয়া হবে। নমুনা সংগ্রহের পর মহাকাশযানটি বলয়ের অন্য অঞ্চল বা ফাঁকা জায়গায় চলে যাবে এবং সেখান থেকেও নমুনা নেওয়ার চেষ্টা করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা

এই অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সংগৃহীত কণাগুলোর আকার, ভেতরের ফাঁক বা ঘনত্ব এবং রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণে এটি সহায়তা করবে।

জীবের চলন ও আচরণ থেকে অনুপ্রাণিত রোবট ব্যবহারের ধারণাটিও মিশনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর মাধ্যমে মহাকাশযানকে পরিবর্তনশীল পরিবেশে আরও কার্যকরভাবে কাজ করানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এখনো গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে

প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থায়নের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় এখন মিশনটির বিভিন্ন সম্ভাব্য নকশা, কার্যপদ্ধতি ও কম্পিউটারভিত্তিক অনুকরণ নিয়ে গবেষণা শুরু করা যাবে। ভবিষ্যতে ধারণাটি আরও এগোতে পারলে এর বাস্তব নমুনা বা পরীক্ষামূলক কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হতে পারে।

গবেষকদের ধারণা, এই প্রযুক্তি শুধু একটি গ্রহের বলয় নয়, ভবিষ্যতে বলয়যুক্ত বিভিন্ন গ্রহের অনুসন্ধানেও কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে। ফলে মহাকাশ বিজ্ঞানে গ্রহের বলয় সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি সৌরজগতের গঠন ও বিবর্তন বোঝার পথও আরও পরিষ্কার হতে পারে।