০৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

শুধু খাবার নয়, মানুষকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির নাম অ্যান্থনি বোর্দেইন

অ্যান্থনি বোর্দেইনকে অনেকেই মনে রাখেন একজন ভ্রমণ উপস্থাপক, লেখক কিংবা খাদ্যসংস্কৃতির গল্পকার হিসেবে। কিন্তু তাঁর প্রকৃত গুরুত্ব হয়তো অন্য জায়গায়। তিনি এমন এক সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, যখন খাবার নিয়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলো ক্রমশ চাকচিক্য, সেলিব্রিটি সংস্কৃতি এবং নিখুঁত উপস্থাপনার দিকে ঝুঁকছিল। বোর্দেইন সেই প্রবণতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছিলেন, একটি খাবারের প্লেটের পেছনেও থাকে মানুষের জীবন, সংগ্রাম, স্মৃতি এবং পরিচয়ের গল্প।

তাঁর জন্মের ৭০ বছর পূর্ণ হওয়ার সপ্তাহে তাঁকে স্মরণ করার কারণ শুধু তাঁর সাফল্য নয়; বরং তিনি যে দৃষ্টিভঙ্গি রেখে গেছেন, সেটিই আজও প্রাসঙ্গিক। এমন এক বিশ্বে, যেখানে মানুষকে প্রায়ই পেশা, আয় বা সামাজিক অবস্থান দিয়ে বিচার করা হয়, বোর্দেইন বারবার আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গল্পগুলো অনেক সময় সবচেয়ে কম দৃশ্যমান মানুষদের জীবনেই লুকিয়ে থাকে।

রেস্তোরাঁর অদৃশ্য পৃথিবী

রেস্তোরাঁ বা আতিথেয়তা শিল্পকে বাইরে থেকে দেখলে অনেক সময় তা ঝলমলে মনে হয়। অতিথিদের সামনে নিখুঁত পরিবেশনা, সুন্দর খাবার, পরিপাটি আয়োজন—সবকিছুই যেন অনায়াসে সম্পন্ন হচ্ছে। কিন্তু এই বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে থাকে কঠোর পরিশ্রম, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ এবং অসংখ্য মানুষের নীরব শ্রম।

বোর্দেইন এই বাস্তবতাকে কখনও আড়াল করেননি। বরং তিনি দেখিয়েছেন, এই শিল্পের প্রাণশক্তি তৈরি করেন সেইসব মানুষ, যাদের সমাজ প্রায়ই উপেক্ষা করে। অভিবাসী শ্রমিক, একক অভিভাবক, শিল্পী, সংগ্রামী তরুণ কিংবা জীবনের দ্বিতীয় সুযোগ খুঁজতে থাকা মানুষ—তাঁর চোখে এঁরাই ছিলেন আতিথেয়তা শিল্পের আসল নায়ক।

তিনি জানতেন, রান্নাঘরের কর্মী, ওয়েটার, বারটেন্ডার কিংবা থালা ধোয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা শুধু কাজ করেন না; তাঁরা প্রতিদিন মানুষের সুখ, দুঃখ, উদযাপন এবং শোকের মুহূর্তের অংশ হয়ে ওঠেন। তাঁদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে অসংখ্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

Anthony Bourdain's Moveable Feast | The New Yorker

খাবার ছিল মানুষের গল্প বলার মাধ্যম

বোর্দেইনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল, তিনি কখনও খাবারকে কেবল খাবার হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে একটি খাবার ছিল ইতিহাসের দরজা, সংস্কৃতির জানালা এবং মানুষের অভিজ্ঞতার ভাষা।

তিনি যখন ভিয়েতনামের রাস্তার ধারের বিক্রেতার সঙ্গে বসে খেতেন, তখন বিষয়টি শুধু স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া ছিল না। সেখানে উঠে আসত টিকে থাকার গল্প, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের ইতিহাস। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সাধারণ খাবার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েও তিনি কথা বলতেন স্মৃতি, সংঘাত, অভিবাসন এবং পরিচয় নিয়ে।

এই কারণেই তাঁর অনুষ্ঠানগুলো ভ্রমণবিষয়ক প্রচলিত ধারার বাইরে চলে গিয়েছিল। তিনি পর্যটনের গাইড ছিলেন না; তিনি ছিলেন মানুষের গল্পের অনুসন্ধানী।

শোনার ক্ষমতার গুরুত্ব

আজকের বিশ্বে সবাই কথা বলতে চায়, কিন্তু খুব কম মানুষ সত্যিকারের শুনতে চায়। বোর্দেইনের কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর শোনার ক্ষমতা।

তাঁর অনুষ্ঠানগুলোর স্মরণীয় মুহূর্তগুলো প্রায়ই সেসব দৃশ্য, যেখানে তিনি নিজে কথা কম বলে অন্যদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। একজন জেলে, রাঁধুনি, কৃষক বা পথবিক্রেতার অভিজ্ঞতাকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের জীবনের গল্পকে এমন মর্যাদা দিয়েছেন, যা তারা সাধারণত গণমাধ্যমে পায় না।

এই মনোভাবই তাঁকে আলাদা করেছে। কারণ তিনি বুঝতেন, মানুষকে বোঝার প্রথম শর্ত হলো তাকে শোনার সুযোগ দেওয়া।

একটি বিভক্ত পৃথিবীর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা

বোর্দেইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার সম্ভবত তাঁর কৌতূহল। তিনি বিশ্বাস করতেন, অন্য মানুষের জীবনের প্রতি আগ্রহ আমাদের আরও সহনশীল ও মানবিক করে তোলে। পৃথিবীকে বোঝার জন্য সবসময় বড় রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রয়োজন হয় না; অনেক সময় একসঙ্গে বসে খাবার ভাগ করে নেওয়াও যথেষ্ট।

বর্তমান সময়ে, যখন সমাজ ক্রমশ বিভক্ত, সম্পর্কগুলো আরও লেনদেননির্ভর এবং মানুষ নিজেদের মতের গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে, তখন বোর্দেইনের শিক্ষা নতুন করে গুরুত্ব পায়। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, অপরিচিত মানুষকে ভয় না পেয়ে তার গল্প শুনতে। ভিন্ন সংস্কৃতিকে দূর থেকে বিচার না করে কাছ থেকে জানতে। এবং সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের প্রতি কৌতূহল হারিয়ে না ফেলতে।

এই কারণেই অ্যান্থনি বোর্দেইনকে স্মরণ করা মানে কেবল একজন টেলিভিশন তারকাকে স্মরণ করা নয়। এটি এমন এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে স্মরণ করা, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—খাবারের টেবিলে বসা মানুষগুলোই আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গল্পের বাহক। তাঁর উত্তরাধিকার তাই কোনো নির্দিষ্ট খাবার, দেশ বা অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা নিহিত রয়েছে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার এক বিরল ক্ষমতার মধ্যে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

শুধু খাবার নয়, মানুষকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির নাম অ্যান্থনি বোর্দেইন

০৫:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

অ্যান্থনি বোর্দেইনকে অনেকেই মনে রাখেন একজন ভ্রমণ উপস্থাপক, লেখক কিংবা খাদ্যসংস্কৃতির গল্পকার হিসেবে। কিন্তু তাঁর প্রকৃত গুরুত্ব হয়তো অন্য জায়গায়। তিনি এমন এক সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, যখন খাবার নিয়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলো ক্রমশ চাকচিক্য, সেলিব্রিটি সংস্কৃতি এবং নিখুঁত উপস্থাপনার দিকে ঝুঁকছিল। বোর্দেইন সেই প্রবণতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছিলেন, একটি খাবারের প্লেটের পেছনেও থাকে মানুষের জীবন, সংগ্রাম, স্মৃতি এবং পরিচয়ের গল্প।

তাঁর জন্মের ৭০ বছর পূর্ণ হওয়ার সপ্তাহে তাঁকে স্মরণ করার কারণ শুধু তাঁর সাফল্য নয়; বরং তিনি যে দৃষ্টিভঙ্গি রেখে গেছেন, সেটিই আজও প্রাসঙ্গিক। এমন এক বিশ্বে, যেখানে মানুষকে প্রায়ই পেশা, আয় বা সামাজিক অবস্থান দিয়ে বিচার করা হয়, বোর্দেইন বারবার আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গল্পগুলো অনেক সময় সবচেয়ে কম দৃশ্যমান মানুষদের জীবনেই লুকিয়ে থাকে।

রেস্তোরাঁর অদৃশ্য পৃথিবী

রেস্তোরাঁ বা আতিথেয়তা শিল্পকে বাইরে থেকে দেখলে অনেক সময় তা ঝলমলে মনে হয়। অতিথিদের সামনে নিখুঁত পরিবেশনা, সুন্দর খাবার, পরিপাটি আয়োজন—সবকিছুই যেন অনায়াসে সম্পন্ন হচ্ছে। কিন্তু এই বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে থাকে কঠোর পরিশ্রম, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ এবং অসংখ্য মানুষের নীরব শ্রম।

বোর্দেইন এই বাস্তবতাকে কখনও আড়াল করেননি। বরং তিনি দেখিয়েছেন, এই শিল্পের প্রাণশক্তি তৈরি করেন সেইসব মানুষ, যাদের সমাজ প্রায়ই উপেক্ষা করে। অভিবাসী শ্রমিক, একক অভিভাবক, শিল্পী, সংগ্রামী তরুণ কিংবা জীবনের দ্বিতীয় সুযোগ খুঁজতে থাকা মানুষ—তাঁর চোখে এঁরাই ছিলেন আতিথেয়তা শিল্পের আসল নায়ক।

তিনি জানতেন, রান্নাঘরের কর্মী, ওয়েটার, বারটেন্ডার কিংবা থালা ধোয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা শুধু কাজ করেন না; তাঁরা প্রতিদিন মানুষের সুখ, দুঃখ, উদযাপন এবং শোকের মুহূর্তের অংশ হয়ে ওঠেন। তাঁদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে অসংখ্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

Anthony Bourdain's Moveable Feast | The New Yorker

খাবার ছিল মানুষের গল্প বলার মাধ্যম

বোর্দেইনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল, তিনি কখনও খাবারকে কেবল খাবার হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে একটি খাবার ছিল ইতিহাসের দরজা, সংস্কৃতির জানালা এবং মানুষের অভিজ্ঞতার ভাষা।

তিনি যখন ভিয়েতনামের রাস্তার ধারের বিক্রেতার সঙ্গে বসে খেতেন, তখন বিষয়টি শুধু স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া ছিল না। সেখানে উঠে আসত টিকে থাকার গল্প, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের ইতিহাস। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সাধারণ খাবার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েও তিনি কথা বলতেন স্মৃতি, সংঘাত, অভিবাসন এবং পরিচয় নিয়ে।

এই কারণেই তাঁর অনুষ্ঠানগুলো ভ্রমণবিষয়ক প্রচলিত ধারার বাইরে চলে গিয়েছিল। তিনি পর্যটনের গাইড ছিলেন না; তিনি ছিলেন মানুষের গল্পের অনুসন্ধানী।

শোনার ক্ষমতার গুরুত্ব

আজকের বিশ্বে সবাই কথা বলতে চায়, কিন্তু খুব কম মানুষ সত্যিকারের শুনতে চায়। বোর্দেইনের কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর শোনার ক্ষমতা।

তাঁর অনুষ্ঠানগুলোর স্মরণীয় মুহূর্তগুলো প্রায়ই সেসব দৃশ্য, যেখানে তিনি নিজে কথা কম বলে অন্যদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। একজন জেলে, রাঁধুনি, কৃষক বা পথবিক্রেতার অভিজ্ঞতাকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের জীবনের গল্পকে এমন মর্যাদা দিয়েছেন, যা তারা সাধারণত গণমাধ্যমে পায় না।

এই মনোভাবই তাঁকে আলাদা করেছে। কারণ তিনি বুঝতেন, মানুষকে বোঝার প্রথম শর্ত হলো তাকে শোনার সুযোগ দেওয়া।

একটি বিভক্ত পৃথিবীর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা

বোর্দেইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার সম্ভবত তাঁর কৌতূহল। তিনি বিশ্বাস করতেন, অন্য মানুষের জীবনের প্রতি আগ্রহ আমাদের আরও সহনশীল ও মানবিক করে তোলে। পৃথিবীকে বোঝার জন্য সবসময় বড় রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রয়োজন হয় না; অনেক সময় একসঙ্গে বসে খাবার ভাগ করে নেওয়াও যথেষ্ট।

বর্তমান সময়ে, যখন সমাজ ক্রমশ বিভক্ত, সম্পর্কগুলো আরও লেনদেননির্ভর এবং মানুষ নিজেদের মতের গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে, তখন বোর্দেইনের শিক্ষা নতুন করে গুরুত্ব পায়। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, অপরিচিত মানুষকে ভয় না পেয়ে তার গল্প শুনতে। ভিন্ন সংস্কৃতিকে দূর থেকে বিচার না করে কাছ থেকে জানতে। এবং সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের প্রতি কৌতূহল হারিয়ে না ফেলতে।

এই কারণেই অ্যান্থনি বোর্দেইনকে স্মরণ করা মানে কেবল একজন টেলিভিশন তারকাকে স্মরণ করা নয়। এটি এমন এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে স্মরণ করা, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—খাবারের টেবিলে বসা মানুষগুলোই আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গল্পের বাহক। তাঁর উত্তরাধিকার তাই কোনো নির্দিষ্ট খাবার, দেশ বা অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা নিহিত রয়েছে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার এক বিরল ক্ষমতার মধ্যে।