০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী খুন, উত্তপ্ত বাংলা: অভিষেকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন তৎপরতা বাড়িয়েছে।

চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর হত্যার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। কোথাও কোথাও জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। আন্দোলনকারীরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ

West Bengal CID summons BJP MP Arjun Singh for questioning in economic  offence case | West Bengal News | Zee News

ঘটনার পর বিজেপি নেতা অর্জুন সিং বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে এই হত্যাকাণ্ডে। তাঁর দাবি, এটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা এবং এতে একজন ‘শার্পশুটার’ ব্যবহার করা হয়েছে।

অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে যায়। যদিও অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও এ ধরনের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তেজনায় উত্তপ্ত বিভিন্ন এলাকা

হত্যাকাণ্ডের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজেপি কর্মীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। বেশ কয়েকটি জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখতেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। তারা কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই বিজেপি ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।

তদন্তে নজর প্রশাসনের

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি?বঙ্গে বিজেপির উত্থান যেভাবে | The Daily Star

চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতির দিকে না যায়, সে জন্য প্রশাসন বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো হত্যার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

ভোট-পরবর্তী উত্তেজনার নতুন অধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশে সহিংসতা ও সংঘর্ষের অভিযোগ নতুন নয়। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধ ঘিরে উত্তেজনা দেখা গেছে। চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড সেই উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

বিজেপি এই ঘটনাকে গণতন্ত্র ও বিরোধী রাজনীতির ওপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে তৃণমূল বলছে, প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের নাম টেনে পরিস্থিতি আরও অস্থির করার চেষ্টা হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী খুন, উত্তপ্ত বাংলা: অভিষেকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির

১২:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন তৎপরতা বাড়িয়েছে।

চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর হত্যার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। কোথাও কোথাও জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। আন্দোলনকারীরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ

West Bengal CID summons BJP MP Arjun Singh for questioning in economic  offence case | West Bengal News | Zee News

ঘটনার পর বিজেপি নেতা অর্জুন সিং বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে এই হত্যাকাণ্ডে। তাঁর দাবি, এটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা এবং এতে একজন ‘শার্পশুটার’ ব্যবহার করা হয়েছে।

অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে যায়। যদিও অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও এ ধরনের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তেজনায় উত্তপ্ত বিভিন্ন এলাকা

হত্যাকাণ্ডের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজেপি কর্মীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। বেশ কয়েকটি জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখতেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। তারা কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই বিজেপি ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।

তদন্তে নজর প্রশাসনের

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি?বঙ্গে বিজেপির উত্থান যেভাবে | The Daily Star

চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতির দিকে না যায়, সে জন্য প্রশাসন বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো হত্যার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

ভোট-পরবর্তী উত্তেজনার নতুন অধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশে সহিংসতা ও সংঘর্ষের অভিযোগ নতুন নয়। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধ ঘিরে উত্তেজনা দেখা গেছে। চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড সেই উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

বিজেপি এই ঘটনাকে গণতন্ত্র ও বিরোধী রাজনীতির ওপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে তৃণমূল বলছে, প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের নাম টেনে পরিস্থিতি আরও অস্থির করার চেষ্টা হচ্ছে।