০৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

শেখ হাসিনা ফিরলে আবারও রক্তপাত হবে, কাউকে রেহাই দেবেন না: রিজভী

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের একটি ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করে রাজনৈতিক বক্তব্য ও বার্তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ জুলাই স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন

রিজভী বলেন, বুধবার শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তাঁর ভাষায়, যে দেশ নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে দাবি করে, সেই দেশের এমন ভূমিকা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশকে প্রভাবিত করতে অতীতেও শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই কৌশল কার্যকর না হওয়ায় তাঁকে আবারও নতুনভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভারতকে উদ্দেশ করে অভিযোগ

বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানে তিনি থাকতেই পারেন। কিন্তু তাঁর দাবি, সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে অডিও বার্তা, বিবৃতি ও রাজনৈতিক বক্তব্য পাঠিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

রিজভীর আরও অভিযোগ, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার বার্ষিকীর দিনেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আপত্তি জানালেও ভারত সরকার এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।

তাঁর দাবি, কোনো দেশের সরকারি অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন আয়োজন সম্ভব নয়। তাই সরকার ‘সবুজ সংকেত’ না দিলে একজন পলাতক দণ্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর ছেলে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

‘শেখ হাসিনা ফিরলে আবারও রক্তপাত’

রিজভী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এলে দেশ আবারও রক্তপাতের মুখোমুখি হবে এবং তিনি কাউকে রেহাই দেবেন না।

তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা কার্যকর ছিল না। তাঁর অভিযোগ, যেসব বিচারক নিরপেক্ষ রায় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের কেউ গুমের ঝুঁকিতে পড়েছেন, আবার কেউ প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

বিএনপির এই নেতা তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিচারব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়নি।

বাংলাদেশে ফিরে এলে আবারও রক্তপাত হবে বলে রিজভীর অভিযোগ; শেখ হাসিনাকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

শেখ হাসিনা ফিরলে আবারও রক্তপাত হবে, কাউকে রেহাই দেবেন না: রিজভী

০৭:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের একটি ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করে রাজনৈতিক বক্তব্য ও বার্তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ জুলাই স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন

রিজভী বলেন, বুধবার শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তাঁর ভাষায়, যে দেশ নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে দাবি করে, সেই দেশের এমন ভূমিকা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশকে প্রভাবিত করতে অতীতেও শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই কৌশল কার্যকর না হওয়ায় তাঁকে আবারও নতুনভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভারতকে উদ্দেশ করে অভিযোগ

বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানে তিনি থাকতেই পারেন। কিন্তু তাঁর দাবি, সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে অডিও বার্তা, বিবৃতি ও রাজনৈতিক বক্তব্য পাঠিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

রিজভীর আরও অভিযোগ, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার বার্ষিকীর দিনেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আপত্তি জানালেও ভারত সরকার এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।

তাঁর দাবি, কোনো দেশের সরকারি অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন আয়োজন সম্ভব নয়। তাই সরকার ‘সবুজ সংকেত’ না দিলে একজন পলাতক দণ্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর ছেলে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

‘শেখ হাসিনা ফিরলে আবারও রক্তপাত’

রিজভী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এলে দেশ আবারও রক্তপাতের মুখোমুখি হবে এবং তিনি কাউকে রেহাই দেবেন না।

তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা কার্যকর ছিল না। তাঁর অভিযোগ, যেসব বিচারক নিরপেক্ষ রায় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের কেউ গুমের ঝুঁকিতে পড়েছেন, আবার কেউ প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

বিএনপির এই নেতা তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিচারব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়নি।

বাংলাদেশে ফিরে এলে আবারও রক্তপাত হবে বলে রিজভীর অভিযোগ; শেখ হাসিনাকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতা।