০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার বাজারে বুদবুদ মোকাবিলা: কিভাবে নিরাপদে পোর্টফোলিও রক্ষা করবেন

সম্প্রতি মার্কিন শেয়ার বাজারে আবারও প্রযুক্তি খাতে অতিমূল্যায়নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কিত কোম্পানিগুলি বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ঘোষণা করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ সময় ‘ডটকম’ বুদবুদের স্মৃতি ফেরায় অনেকেরই সতর্ক হওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। শেয়ার দাম যখন আয় বা বাস্তব মূল্য থেকে অনেক দূরে যায়, তখন বাজার ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু কিassets সেই ঝুঁকি থেকে বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করতে পারে তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

ডটকম বুদবুদ থেকে শেখা পাঠ

২০০০ সালের ডটকম বুদবুদের সময় নাসডাক সূচক বহুবার ১০ শতাংশের বেশি পতন করেছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা তার বিনিয়োগকারীদের দ্বিগুণ মুনাফা দিয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছিল যে শুধু বাজারের দাম দেখে পজিশন বন্ধ করে দেওয়া সবসময় উপযুক্ত কৌশল নয়। তখনকার মতো, আজকের বাজারেও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

The anatomy of a bubble: Are we in an AI bubble?

শেয়ার ও বন্ডের সমন্বয়

প্রথাগতভাবে শেয়ার বাজারে পতনের সময় বন্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ধরা হয়। ১৯৯০ দশকের শেষ দিকে যেমন শেয়ার পতনের সময় ট্রেজারি বন্ডগুলোর দাম উল্টো বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ সময় সুদের হার কমায় বন্ড ধারকরা লাভ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক পতনের সময় দেখা গেছে শেয়ার ও বন্ড উভয়ই একসঙ্গে পতনের সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে। তাই শুধুমাত্র বন্ডে নির্ভর করেই ঝুঁকি কমানো সব সময় কাজ করে না।

অপশন পরিস্থিতি ও বিকল্প কৌশল

অন্য এক পন্থা হল অপশন বা ডেরিভেটিভ ব্যবহার করে ঝুঁকি সীমাবদ্ধ করা। উদাহরণস্বরূপ, একটি “পুট” অপশন শেয়ারের মূল্য নির্দিষ্ট সীমার নিচে না নামলে বিনিয়োগকারীর ক্ষতি কমিয়ে দিতে পারে। তবে এমন কৌশল বেশ জটিল এবং সঠিক স্ট্রাইক প্রাইস ও মেয়াদ নির্ধারণ করা সহজ কাজ নয়। অনেক সময় বারবার অপশন কেনা আবার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।

Is there an AI bubble? These charts show the evidence for and against. -  The Washington Post

বিকল্প ডাইভারসিফায়ার ব্যবহার

সবচেয়ে কার্যকর কিছু কৌশল ছিল বিভিন্ন ধরনের স্টক সূচক বাছাই করে বিনিয়োগ করা। যেমন কম ভোলাটিলিটি বা দীর্ঘমেয়াদি ডিভিডেন্ড বৃদ্ধি করা কোম্পানিগুলোর অন্তর্ভুক্ত সূচকগুলোর সাথে সমন্বয় করে বিনিয়োগ করলে বাজার ধসের সময়ও ভালো ফল অপেক্ষা করতে পারে। উচ্চ মুনাফা, স্থিতিশীল আয় ও কম দেনা থাকা কোম্পানিগুলিও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সহায়ক হতে পারে।

বাজার ঝুঁকি ও বিনিয়োগকারী সিদ্ধান্ত

বর্তমানে শেয়ার বাজারে মূল্যমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে উঁচু হওয়ার কারণে ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে সক্রিয়ভাবে চিন্তা করা জরুরি। তবে শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি পতনের ভয়ে সম্পূর্ণ পোর্টফোলিও বিক্রি করে দেওয়া সব সময় সেরা সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি মান, ডাইভারসিফায়ার সংযোজন এবং ঝুঁকি সীমাবদ্ধ কৌশলগুলো মিলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

শেয়ার বাজারে বুদবুদ মোকাবিলা: কিভাবে নিরাপদে পোর্টফোলিও রক্ষা করবেন

০৬:৪৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সম্প্রতি মার্কিন শেয়ার বাজারে আবারও প্রযুক্তি খাতে অতিমূল্যায়নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কিত কোম্পানিগুলি বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ঘোষণা করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ সময় ‘ডটকম’ বুদবুদের স্মৃতি ফেরায় অনেকেরই সতর্ক হওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। শেয়ার দাম যখন আয় বা বাস্তব মূল্য থেকে অনেক দূরে যায়, তখন বাজার ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু কিassets সেই ঝুঁকি থেকে বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করতে পারে তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

ডটকম বুদবুদ থেকে শেখা পাঠ

২০০০ সালের ডটকম বুদবুদের সময় নাসডাক সূচক বহুবার ১০ শতাংশের বেশি পতন করেছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা তার বিনিয়োগকারীদের দ্বিগুণ মুনাফা দিয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছিল যে শুধু বাজারের দাম দেখে পজিশন বন্ধ করে দেওয়া সবসময় উপযুক্ত কৌশল নয়। তখনকার মতো, আজকের বাজারেও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

The anatomy of a bubble: Are we in an AI bubble?

শেয়ার ও বন্ডের সমন্বয়

প্রথাগতভাবে শেয়ার বাজারে পতনের সময় বন্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ধরা হয়। ১৯৯০ দশকের শেষ দিকে যেমন শেয়ার পতনের সময় ট্রেজারি বন্ডগুলোর দাম উল্টো বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ সময় সুদের হার কমায় বন্ড ধারকরা লাভ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক পতনের সময় দেখা গেছে শেয়ার ও বন্ড উভয়ই একসঙ্গে পতনের সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে। তাই শুধুমাত্র বন্ডে নির্ভর করেই ঝুঁকি কমানো সব সময় কাজ করে না।

অপশন পরিস্থিতি ও বিকল্প কৌশল

অন্য এক পন্থা হল অপশন বা ডেরিভেটিভ ব্যবহার করে ঝুঁকি সীমাবদ্ধ করা। উদাহরণস্বরূপ, একটি “পুট” অপশন শেয়ারের মূল্য নির্দিষ্ট সীমার নিচে না নামলে বিনিয়োগকারীর ক্ষতি কমিয়ে দিতে পারে। তবে এমন কৌশল বেশ জটিল এবং সঠিক স্ট্রাইক প্রাইস ও মেয়াদ নির্ধারণ করা সহজ কাজ নয়। অনেক সময় বারবার অপশন কেনা আবার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।

Is there an AI bubble? These charts show the evidence for and against. -  The Washington Post

বিকল্প ডাইভারসিফায়ার ব্যবহার

সবচেয়ে কার্যকর কিছু কৌশল ছিল বিভিন্ন ধরনের স্টক সূচক বাছাই করে বিনিয়োগ করা। যেমন কম ভোলাটিলিটি বা দীর্ঘমেয়াদি ডিভিডেন্ড বৃদ্ধি করা কোম্পানিগুলোর অন্তর্ভুক্ত সূচকগুলোর সাথে সমন্বয় করে বিনিয়োগ করলে বাজার ধসের সময়ও ভালো ফল অপেক্ষা করতে পারে। উচ্চ মুনাফা, স্থিতিশীল আয় ও কম দেনা থাকা কোম্পানিগুলিও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সহায়ক হতে পারে।

বাজার ঝুঁকি ও বিনিয়োগকারী সিদ্ধান্ত

বর্তমানে শেয়ার বাজারে মূল্যমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে উঁচু হওয়ার কারণে ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে সক্রিয়ভাবে চিন্তা করা জরুরি। তবে শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি পতনের ভয়ে সম্পূর্ণ পোর্টফোলিও বিক্রি করে দেওয়া সব সময় সেরা সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি মান, ডাইভারসিফায়ার সংযোজন এবং ঝুঁকি সীমাবদ্ধ কৌশলগুলো মিলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা দিতে পারে।