০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

সাঘাটায় ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াতকর্মীর ৪৮ দিন পর ঢাকার হাসপাতালে মৃত্যু

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সালাউদ্দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হামলার ৪৮ দিন পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন।

সালাউদ্দিনের মৃত্যু

নিহত সালাউদ্দিন সাঘাটার বোনারপাড়ার বাসিন্দা ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সকালে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বাবা শামসুজ্জামান দুদু এবং গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ২১ জুন সাঘাটা উপজেলা পরিষদ এলাকায় ছুরিকাঘাতের ওই ঘটনা ঘটে। হামলায় সালাউদ্দিনের গলা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। আহত অবস্থায় দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ এবং বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে বিরোধের মীমাংসা হয় এবং সংশ্লিষ্টরা উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে চলে যান।

এর কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা পরিষদের কাছে বোনারপাড়া চৌমাথায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের বোনারপাড়া ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিন অবস্থান করছিলেন।

এ সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল, তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম এবং যুবদল নেতা আশরাফ, মনোয়ারুল ও জব্বারসহ আরও কয়েকজন তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলার পর চিকিৎসা

হামলার পর স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে পরে বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি দীর্ঘ ৪৯ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশ

সালাউদ্দিনের মৃত্যুর পর সাঘাটা উপজেলা জামায়াত শনিবার বিকেলে বোনারপাড়ায় প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সংগঠনটির জেলা পর্যায়ের নেতা রোকনুজ্জামান জানান, দুই জামায়াত-শিবির নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

সাঘাটায় ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াতকর্মীর ৪৮ দিন পর ঢাকার হাসপাতালে মৃত্যু

০৭:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সালাউদ্দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হামলার ৪৮ দিন পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন।

সালাউদ্দিনের মৃত্যু

নিহত সালাউদ্দিন সাঘাটার বোনারপাড়ার বাসিন্দা ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সকালে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বাবা শামসুজ্জামান দুদু এবং গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ২১ জুন সাঘাটা উপজেলা পরিষদ এলাকায় ছুরিকাঘাতের ওই ঘটনা ঘটে। হামলায় সালাউদ্দিনের গলা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। আহত অবস্থায় দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ এবং বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে বিরোধের মীমাংসা হয় এবং সংশ্লিষ্টরা উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে চলে যান।

এর কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা পরিষদের কাছে বোনারপাড়া চৌমাথায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের বোনারপাড়া ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিন অবস্থান করছিলেন।

এ সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল, তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম এবং যুবদল নেতা আশরাফ, মনোয়ারুল ও জব্বারসহ আরও কয়েকজন তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলার পর চিকিৎসা

হামলার পর স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে পরে বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি দীর্ঘ ৪৯ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশ

সালাউদ্দিনের মৃত্যুর পর সাঘাটা উপজেলা জামায়াত শনিবার বিকেলে বোনারপাড়ায় প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সংগঠনটির জেলা পর্যায়ের নেতা রোকনুজ্জামান জানান, দুই জামায়াত-শিবির নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।