০১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়, চাপে মূলধারার রাজনীতি নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের এক বছর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না: কার্কি ‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

হরমুজে তেল আটকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের ছায়া, সামনে আরও কঠিন সময়

বিশ্বের তেল বাজারে যে অস্থিরতা একসময় কল্পনার বাইরে ছিল, সেটাই এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। যুদ্ধ ও পাল্টা হামলার মধ্যে দিয়ে এই পথ দিয়ে তেলের চলাচল প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বাজারে শান্ত ভাব, ভেতরে বড় সংকট

বাজারের দিকে তাকালে প্রথমে বড় কোনো আতঙ্ক চোখে পড়ে না। তেলের দাম বাড়লেও তা এখনো ভয়াবহ উচ্চতায় পৌঁছায়নি। অনেক দেশেই দৈনন্দিন জীবন খুব বেশি বদলায়নি। কিন্তু এই আপাত শান্তির আড়ালে জমে উঠছে বড় সংকট।

বিশ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল ব্যবহৃত হয়, তার বড় অংশই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এই পথ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। হিসাব বলছে, বৈশ্বিক চাহিদার ১০ শতাংশের বেশি তেল বাজার থেকে হারিয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালি কি? বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

সরবরাহ বাড়ানোর পথও সংকুচিত

এই সংকট মোকাবিলার তিনটি পথ রয়েছে—উৎপাদন বাড়ানো, মজুত তেল ব্যবহার করা এবং দাম বাড়িয়ে চাহিদা কমানো। কিন্তু বাস্তবে তিনটিই সীমাবদ্ধ।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না, কারণ সেগুলোর অনেকটাই হরমুজের পেছনে আটকে আছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন বাড়াতে সময় লাগে কয়েক মাস। রাশিয়াও অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। ফলে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

মজুত ভরসা, কিন্তু কতদিন?

এখন পর্যন্ত বিশ্ব মূলত মজুত তেলের ওপর নির্ভর করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। সমুদ্রপথে আগে থেকেই থাকা তেল এবং বিভিন্ন দেশের জরুরি মজুত বাজারে ছাড়ার কারণে সংকট কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।

কিন্তু এই ভরসা দীর্ঘস্থায়ী নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান গতিতে মজুত ব্যবহার চলতে থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তখন দাম আরও বাড়তে বাধ্য হবে।

মে মাসের জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, কোনটির লিটা...

এশিয়া ও উন্নয়নশীল দেশে চাপ বেশি

সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে এশিয়া ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। অনেক জায়গায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে।

শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে উৎপাদন কমে গেছে, অনেক কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে আগামী কয়েক সপ্তাহেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। জ্বালানি সংকট তখন সরাসরি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলবে।

তেলের দাম নিয়ে বড় দুঃসংবাদ | কালবেলা

অনেক দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে—অফিসে কম যাওয়া, দোকানের সময় কমানো, এমনকি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল কেনায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের শঙ্কা

এই সংকট শুধু সাময়িক নয়, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও থাকতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও পুরো ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে।

সব মিলিয়ে, বিশ্ব এখন এক বড় জ্বালানি ঝাঁকুনির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। এই সংকটের সমাধান যত দেরি হবে, ততই এর প্রভাব গভীর হবে—অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা পর্যন্ত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ

হরমুজে তেল আটকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের ছায়া, সামনে আরও কঠিন সময়

১১:১৩:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বিশ্বের তেল বাজারে যে অস্থিরতা একসময় কল্পনার বাইরে ছিল, সেটাই এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। যুদ্ধ ও পাল্টা হামলার মধ্যে দিয়ে এই পথ দিয়ে তেলের চলাচল প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বাজারে শান্ত ভাব, ভেতরে বড় সংকট

বাজারের দিকে তাকালে প্রথমে বড় কোনো আতঙ্ক চোখে পড়ে না। তেলের দাম বাড়লেও তা এখনো ভয়াবহ উচ্চতায় পৌঁছায়নি। অনেক দেশেই দৈনন্দিন জীবন খুব বেশি বদলায়নি। কিন্তু এই আপাত শান্তির আড়ালে জমে উঠছে বড় সংকট।

বিশ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল ব্যবহৃত হয়, তার বড় অংশই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এই পথ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। হিসাব বলছে, বৈশ্বিক চাহিদার ১০ শতাংশের বেশি তেল বাজার থেকে হারিয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালি কি? বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

সরবরাহ বাড়ানোর পথও সংকুচিত

এই সংকট মোকাবিলার তিনটি পথ রয়েছে—উৎপাদন বাড়ানো, মজুত তেল ব্যবহার করা এবং দাম বাড়িয়ে চাহিদা কমানো। কিন্তু বাস্তবে তিনটিই সীমাবদ্ধ।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না, কারণ সেগুলোর অনেকটাই হরমুজের পেছনে আটকে আছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন বাড়াতে সময় লাগে কয়েক মাস। রাশিয়াও অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। ফলে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

মজুত ভরসা, কিন্তু কতদিন?

এখন পর্যন্ত বিশ্ব মূলত মজুত তেলের ওপর নির্ভর করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। সমুদ্রপথে আগে থেকেই থাকা তেল এবং বিভিন্ন দেশের জরুরি মজুত বাজারে ছাড়ার কারণে সংকট কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।

কিন্তু এই ভরসা দীর্ঘস্থায়ী নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান গতিতে মজুত ব্যবহার চলতে থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তখন দাম আরও বাড়তে বাধ্য হবে।

মে মাসের জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, কোনটির লিটা...

এশিয়া ও উন্নয়নশীল দেশে চাপ বেশি

সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে এশিয়া ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। অনেক জায়গায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে।

শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে উৎপাদন কমে গেছে, অনেক কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে আগামী কয়েক সপ্তাহেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। জ্বালানি সংকট তখন সরাসরি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলবে।

তেলের দাম নিয়ে বড় দুঃসংবাদ | কালবেলা

অনেক দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে—অফিসে কম যাওয়া, দোকানের সময় কমানো, এমনকি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল কেনায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের শঙ্কা

এই সংকট শুধু সাময়িক নয়, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও থাকতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও পুরো ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে।

সব মিলিয়ে, বিশ্ব এখন এক বড় জ্বালানি ঝাঁকুনির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। এই সংকটের সমাধান যত দেরি হবে, ততই এর প্রভাব গভীর হবে—অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা পর্যন্ত।