১১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট প্রাণহানি ২৫১

দেশে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫১ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, এই মৃত্যুগুলোর মধ্যে ৪২টি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম এবং ২০৯টি সন্দেহভিত্তিক, যেখানে রোগীর শরীরে হাম-এর লক্ষণ থাকলেও পরীক্ষাগার নিশ্চিতকরণ হয়নি। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই হিসাব হালনাগাদ করা হয়েছে।

একই সময়ে দেশে ২২৯টি নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে, পাশাপাশি ১ হাজার ৫৮টি সন্দেহজনক রোগীর তথ্যও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যেসব ক্ষেত্রে পরীক্ষাগার নিশ্চিতকরণ হয়নি, সেগুলোকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তির চাপ ও সুস্থতার হার

স্বাস্থ্য খাতের তথ্যে দেখা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ৪৭৫ জন সন্দেহভিত্তিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৮১ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যসেবায় চাপ বাড়ছে।

‘সন্দেহজনক’ মৃত্যুর হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি

হামজনিত মৃত্যুর হিসাব নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির কথাও উঠে এসেছে। জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সন্দেহজনক’ মৃত্যুগুলো আলাদাভাবে দেখানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। তারা সুপারিশ করেছে, হাম-এর উপসর্গ থাকা এসব মৃত্যুকেও হামজনিত মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা উচিত।

এই সুপারিশ অনুসরণ করলে মোট মৃতের সংখ্যা ২৫১ জন হিসেবেই বিবেচিত হবে, যা পরিস্থিতির গভীরতা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

জনস্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত শনাক্তকরণের সীমাবদ্ধতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিবার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি জোরদার, চিকিৎসা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং টিকাদান কার্যক্রম শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট প্রাণহানি ২৫১

০৫:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫১ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, এই মৃত্যুগুলোর মধ্যে ৪২টি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম এবং ২০৯টি সন্দেহভিত্তিক, যেখানে রোগীর শরীরে হাম-এর লক্ষণ থাকলেও পরীক্ষাগার নিশ্চিতকরণ হয়নি। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই হিসাব হালনাগাদ করা হয়েছে।

একই সময়ে দেশে ২২৯টি নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে, পাশাপাশি ১ হাজার ৫৮টি সন্দেহজনক রোগীর তথ্যও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যেসব ক্ষেত্রে পরীক্ষাগার নিশ্চিতকরণ হয়নি, সেগুলোকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তির চাপ ও সুস্থতার হার

স্বাস্থ্য খাতের তথ্যে দেখা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ৪৭৫ জন সন্দেহভিত্তিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৮১ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যসেবায় চাপ বাড়ছে।

‘সন্দেহজনক’ মৃত্যুর হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি

হামজনিত মৃত্যুর হিসাব নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির কথাও উঠে এসেছে। জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সন্দেহজনক’ মৃত্যুগুলো আলাদাভাবে দেখানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। তারা সুপারিশ করেছে, হাম-এর উপসর্গ থাকা এসব মৃত্যুকেও হামজনিত মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা উচিত।

এই সুপারিশ অনুসরণ করলে মোট মৃতের সংখ্যা ২৫১ জন হিসেবেই বিবেচিত হবে, যা পরিস্থিতির গভীরতা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

জনস্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত শনাক্তকরণের সীমাবদ্ধতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিবার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি জোরদার, চিকিৎসা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং টিকাদান কার্যক্রম শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছে।