১১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

হুথিদের নতুন হুমকিতে লোহিত সাগরে উত্তেজনা, সৌদি বন্দরে যাওয়া তেলবাহী জাহাজ ঝুঁকিতে

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বন্দরে যাতায়াতকারী তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, সৌদি বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো যেকোনো জাহাজ তাদের হামলার লক্ষ্য হতে পারে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তেল পরিবহনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

হুথিদের এই অবস্থানের কারণে সৌদি আরব থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি অপরিশোধিত তেল বহনকারী অন্তত দুটি জাহাজ লোহিত সাগরের মুখের দিকে না গিয়ে পথ পরিবর্তন করেছে বলে জানা গেছে। হুথিদের দাবি, তাদের ঘোষণার পর একাধিক জাহাজ রুট বদল করেছে।

বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা

হুথিদের হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেবে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে কূটনৈতিক মহলে ইঙ্গিত মিলছে। তবে উভয় পক্ষই এখনো সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার পথ খোলা থাকলেও তা অবশ্যই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হতে হবে।

Saudi Arabia slams Houthi blockade: How will rest of the world be impacted?

শিপিং কোম্পানিগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা

হুথিরা বিভিন্ন শিপিং কোম্পানিকে পাঠানো বার্তায় সৌদি বন্দরে পণ্য পরিবহন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার আওতায় যেকোনো স্থানে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা এখনো কোন ধরনের জাহাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করবে তা স্পষ্ট করেনি। তবে সৌদি তেল বহনকারী জাহাজগুলোর ঝুঁকি বেড়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আগের হামলার অভিজ্ঞতা নতুন উদ্বেগ

গত কয়েক বছরে হুথিরা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে বহু বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কোম্পানিগুলো এবারও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগরে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাও বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বাড়ছে উত্তেজনা

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা ও পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থ রক্ষায় অভিযান চলছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

হুথিদের নতুন হুমকিতে লোহিত সাগরে উত্তেজনা, সৌদি বন্দরে যাওয়া তেলবাহী জাহাজ ঝুঁকিতে

০৭:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বন্দরে যাতায়াতকারী তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, সৌদি বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো যেকোনো জাহাজ তাদের হামলার লক্ষ্য হতে পারে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তেল পরিবহনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

হুথিদের এই অবস্থানের কারণে সৌদি আরব থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি অপরিশোধিত তেল বহনকারী অন্তত দুটি জাহাজ লোহিত সাগরের মুখের দিকে না গিয়ে পথ পরিবর্তন করেছে বলে জানা গেছে। হুথিদের দাবি, তাদের ঘোষণার পর একাধিক জাহাজ রুট বদল করেছে।

বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা

হুথিদের হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেবে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে কূটনৈতিক মহলে ইঙ্গিত মিলছে। তবে উভয় পক্ষই এখনো সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার পথ খোলা থাকলেও তা অবশ্যই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হতে হবে।

Saudi Arabia slams Houthi blockade: How will rest of the world be impacted?

শিপিং কোম্পানিগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা

হুথিরা বিভিন্ন শিপিং কোম্পানিকে পাঠানো বার্তায় সৌদি বন্দরে পণ্য পরিবহন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার আওতায় যেকোনো স্থানে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা এখনো কোন ধরনের জাহাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করবে তা স্পষ্ট করেনি। তবে সৌদি তেল বহনকারী জাহাজগুলোর ঝুঁকি বেড়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আগের হামলার অভিজ্ঞতা নতুন উদ্বেগ

গত কয়েক বছরে হুথিরা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে বহু বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কোম্পানিগুলো এবারও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগরে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাও বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বাড়ছে উত্তেজনা

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা ও পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থ রক্ষায় অভিযান চলছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।