০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

১০ মিলিয়ন বছর আগে ২৩ ফুটের ‘দানব কুমির’ শাসন করত দৈত্যদের জলাভূমি

দশ মিলিয়নেরও বেশি বছর আগে, বর্তমান কলম্বিয়ার প্রাগৈতিহাসিক জলাভূমিতে রাজত্ব করত এক ভয়ংকর শিকারি। নাম তার পুরুসরাস। প্রায় ২৩ ফুট লম্বা এবং ওজন চার হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি এই বিশালাকার কুমিরজাতীয় প্রাণী এমন শিকার ধরত, যাদের আকার অনেক সময় তার নিজের শরীরের চেয়েও বড় ছিল।

সম্প্রতি কলম্বিয়ার লা ভেন্তা অঞ্চলে পাওয়া জীবাশ্মের কামড়ের দাগ সেই সময়কার এই ভয়ংকর শিকারির শিকারের ধরন সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে। গবেষকদের মতে, এগুলোই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ যে বিশালাকার কুমিরজাতীয় প্রাণীরা নিজেদের চেয়েও বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী শিকার করত।

দৈত্যদের বাস ছিল যে জলাভূমিতে

মধ্য মায়োসিন যুগে, অর্থাৎ ১ কোটি বছরেরও বেশি আগে, বর্তমান ব্রাজিল, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ছিল বিশাল পেবাস জলাভূমি। এটি ছিল আমাজন অঞ্চলের এক বিশাল জলাভূমি ব্যবস্থা, যেখানে বিচরণ করত নানা ধরনের অতিকায় প্রাণী।

সেখানে ছিল বিশাল পাখি, দাঁতওয়ালা দৈত্যাকার থলিযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং এমন বিশাল সাপ, যাদের আকার আজকের মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। এই দৈত্যদের ভিড়েও পুরুসরাস ছিল খাদ্যশৃঙ্খলের একেবারে ওপরের সারির শিকারি।

কামড়ের শক্তি ছিল আধুনিক কুমিরের দ্বিগুণ

গবেষকেরা তিন প্রজাতির বড় তৃণভোজী প্রাণীর চারটি জীবাশ্ম পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ছিল গণ্ডারের মতো আকারের পেরিকোটক্সোডন, যার ওজন প্রায় এক হাজার কেজি পর্যন্ত হতে পারত।

জীবাশ্মের কয়েকটি হাড়ে গোলাকার দাঁতের ছিদ্র, চূর্ণ হওয়ার ক্ষত এবং আঁচড়ের মতো দাগ পাওয়া যায়। এসব ক্ষত এমন জায়গায় বেশি ছিল, যেখানে আধুনিক কুমির সাধারণত শিকারকে কামড়ে শক্ত করে ধরে—বিশেষ করে মাথা ও চোয়ালের আশপাশে।

দাঁতের দাগগুলোর সঙ্গে পুরুসরাসের দাঁতের আকৃতিরও উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া গেছে। এই প্রাণীর প্রতিটি দাঁত ছিল প্রায় এক ইঞ্চিরও বেশি চওড়া।

গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, পুরুসরাসের কামড়ের শক্তি আধুনিক লবণাক্ত পানির কুমিরের প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কামড়ের অধিকারী প্রাণীদের মধ্যে লবণাক্ত পানির কুমির অন্যতম।

এক টনের কাছাকাছি শিকারও ছিল তার খাদ্য

পুরুসরাস এমন প্রাণী শিকার করত, যাদের ওজন ছিল আধা টনের কিছু বেশি। কখনো কখনো তার শিকারের ওজন প্রায় এক মেট্রিক টনের কাছাকাছিও পৌঁছাত।

এত বড় শিকারকে পরাস্ত করতে যে অসাধারণ শক্তির প্রয়োজন হতো, পুরুসরাসের বিশাল চোয়াল ও শক্তিশালী কামড় সেই ক্ষমতাই তুলে ধরে। ফলে প্রাগৈতিহাসিক সেই জলাভূমিতে শুধু স্থলভাগের দৈত্য প্রাণীরাই নয়, পানির নিচে ওত পেতে থাকা এই বিশাল শিকারিও ছিল আতঙ্কের এক বড় কারণ।

গবেষকদের নতুন এই আবিষ্কার প্রমাণ করছে, প্রাগৈতিহাসিক আমাজন ছিল শুধু বিশাল প্রাণীদের আবাসস্থল নয়—সেখানে তাদের মধ্যে চলত এক কঠিন শিকারি ও শিকারের লড়াইও।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

১০ মিলিয়ন বছর আগে ২৩ ফুটের ‘দানব কুমির’ শাসন করত দৈত্যদের জলাভূমি

০৩:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

দশ মিলিয়নেরও বেশি বছর আগে, বর্তমান কলম্বিয়ার প্রাগৈতিহাসিক জলাভূমিতে রাজত্ব করত এক ভয়ংকর শিকারি। নাম তার পুরুসরাস। প্রায় ২৩ ফুট লম্বা এবং ওজন চার হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি এই বিশালাকার কুমিরজাতীয় প্রাণী এমন শিকার ধরত, যাদের আকার অনেক সময় তার নিজের শরীরের চেয়েও বড় ছিল।

সম্প্রতি কলম্বিয়ার লা ভেন্তা অঞ্চলে পাওয়া জীবাশ্মের কামড়ের দাগ সেই সময়কার এই ভয়ংকর শিকারির শিকারের ধরন সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে। গবেষকদের মতে, এগুলোই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ যে বিশালাকার কুমিরজাতীয় প্রাণীরা নিজেদের চেয়েও বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী শিকার করত।

দৈত্যদের বাস ছিল যে জলাভূমিতে

মধ্য মায়োসিন যুগে, অর্থাৎ ১ কোটি বছরেরও বেশি আগে, বর্তমান ব্রাজিল, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ছিল বিশাল পেবাস জলাভূমি। এটি ছিল আমাজন অঞ্চলের এক বিশাল জলাভূমি ব্যবস্থা, যেখানে বিচরণ করত নানা ধরনের অতিকায় প্রাণী।

সেখানে ছিল বিশাল পাখি, দাঁতওয়ালা দৈত্যাকার থলিযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং এমন বিশাল সাপ, যাদের আকার আজকের মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। এই দৈত্যদের ভিড়েও পুরুসরাস ছিল খাদ্যশৃঙ্খলের একেবারে ওপরের সারির শিকারি।

কামড়ের শক্তি ছিল আধুনিক কুমিরের দ্বিগুণ

গবেষকেরা তিন প্রজাতির বড় তৃণভোজী প্রাণীর চারটি জীবাশ্ম পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ছিল গণ্ডারের মতো আকারের পেরিকোটক্সোডন, যার ওজন প্রায় এক হাজার কেজি পর্যন্ত হতে পারত।

জীবাশ্মের কয়েকটি হাড়ে গোলাকার দাঁতের ছিদ্র, চূর্ণ হওয়ার ক্ষত এবং আঁচড়ের মতো দাগ পাওয়া যায়। এসব ক্ষত এমন জায়গায় বেশি ছিল, যেখানে আধুনিক কুমির সাধারণত শিকারকে কামড়ে শক্ত করে ধরে—বিশেষ করে মাথা ও চোয়ালের আশপাশে।

দাঁতের দাগগুলোর সঙ্গে পুরুসরাসের দাঁতের আকৃতিরও উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া গেছে। এই প্রাণীর প্রতিটি দাঁত ছিল প্রায় এক ইঞ্চিরও বেশি চওড়া।

গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, পুরুসরাসের কামড়ের শক্তি আধুনিক লবণাক্ত পানির কুমিরের প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কামড়ের অধিকারী প্রাণীদের মধ্যে লবণাক্ত পানির কুমির অন্যতম।

এক টনের কাছাকাছি শিকারও ছিল তার খাদ্য

পুরুসরাস এমন প্রাণী শিকার করত, যাদের ওজন ছিল আধা টনের কিছু বেশি। কখনো কখনো তার শিকারের ওজন প্রায় এক মেট্রিক টনের কাছাকাছিও পৌঁছাত।

এত বড় শিকারকে পরাস্ত করতে যে অসাধারণ শক্তির প্রয়োজন হতো, পুরুসরাসের বিশাল চোয়াল ও শক্তিশালী কামড় সেই ক্ষমতাই তুলে ধরে। ফলে প্রাগৈতিহাসিক সেই জলাভূমিতে শুধু স্থলভাগের দৈত্য প্রাণীরাই নয়, পানির নিচে ওত পেতে থাকা এই বিশাল শিকারিও ছিল আতঙ্কের এক বড় কারণ।

গবেষকদের নতুন এই আবিষ্কার প্রমাণ করছে, প্রাগৈতিহাসিক আমাজন ছিল শুধু বিশাল প্রাণীদের আবাসস্থল নয়—সেখানে তাদের মধ্যে চলত এক কঠিন শিকারি ও শিকারের লড়াইও।